যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে একটি পার্টিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যার জন্য দায়ী দম্পতির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, অস্ত্র ও গুলি পেয়েছে পুলিশ।

এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক তার স্ত্রী তাশফিন মালিকের সম্ভবত সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল; যদিও এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে স্যান বার্নার্ডিনো শহরের ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগের হলিডে পার্টিতে রাইফেল নিয়ে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান রিজওয়ান ও তাশফিন।

২৮ বছর বয়সী রিজওয়ান জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শক ছিলেন। দুই বছর আগে তাশফিনকে (২৭) বিয়ে করেন তিনি। তাদের ছয় মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে বলে সিএনএন জানিয়েছে।

হামলার পর পুলিশের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রিজওয়ান ও তাশফিন দুজনই। এসময় দুজন পুলিশও গুলিবিদ্ধ হন।

বিবিসি জানিয়েছে, এই ঘটনার পর রিজওয়ানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক, অস্ত্র এবং কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি পেয়েছে পুলিশ।

স্যান বার্নার্ডিনোর পুলিশ প্রধান জ্যারড বারজুয়ান বলেছেন, “তাদের উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে সম্ভবত এই দম্পতির আরও হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল।”

ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে মারা যাওয়ার আগে এই দম্পতি ৭৬ রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

রিজওয়ানের পাকিস্তান সফর ছাড়া এই দম্পতির সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সূত্র এখনও পাওয়া যায়নি। এফবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সিএনএন বলছে, সম্ভবত রিজওয়ানের সঙ্গে ইদানিং সন্ত্রাসবাদী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বলেছেন, হামলাকারী এই দম্পতির সম্ভবত একাধিক উদ্দেশ্য ছিল।

সিএনএন জানিয়েছে, ২০১৩ সালে হজের সময় সৌদি আরব সফর করেছিলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত রিজওয়ান। তখনই আরেক পাকিস্তানি তাশফিনের সঙ্গে তার পরিচয়, তা থেকে পরিণয় এবং বিয়ের সূত্রেই তাশফিনকে যুক্তরাষ্ট্রে এনেছিলেন রিজওয়ান।

তাশফিনের সঙ্গে অনলাইনেই রিজওয়ানের পরিচয় ঘটে বলে তার পরিচিতদের উদ্ধৃত করে লস এঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে।

স্যান বার্নার্ডিনো শহরের ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারে অভিযানের চিত্র

স্যান বার্নার্ডিনো শহরের ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারে অভিযানের চিত্র
San+Bernardino+Police+Chief+Burguan
গোয়েন্দারা বলছেন, চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়া ব্যক্তিদের নিয়ে এফবিআইয়ের তালিকায় রিজওয়ান কিংবা তাশফিনের নাম ছিল না। তবে রিজওয়ান সোশাল মিডিয়া ও ফোনের মাধ্যমে একাধিক জনের সঙ্গে যোগাযোগ গড়েছিলেন, যারা সন্দেহভাজন।

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত রিজওয়ানের পরিবার অসাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন বলে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে রিজওয়ানের বাবা নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজকে বলেছেন, তার ছেলে ধার্মিক ছিল।

“যে কাজে যেত, ফিরে আসত; নামাজে যেত, ফিরে আসত।”

মেয়েকে বাড়িতে রেখে আসেন রিজওয়ান

পার্টিতে গুলি চালানোর আগে রিজওয়ান ও তাশফিন তাদের ছয় মাস বয়সী মেয়েকে বাড়িতে রেখে এসেছিলেন।

সিএনএন জানিয়েছে, রিজওয়ানের দাদির কাছে মেয়েটিকে রেখে আসা হয়। তখন এই দম্পতি বলে এসেছিল, তারা চিকিৎসক দেখাতে যাচ্ছেন।

গোলাগুলির খবর শুনে রিজওয়ানের দাদি উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন নাতি-নাতবৌর নিরাপত্তা নিয়ে। পরে ঘটনা শুনে পুরোপুরি থ বনে যান।

প্California-shooting-1রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, হলিডে পার্টিতে কয়েকজনের সঙ্গে ঝগড়ার পর বেরিয়ে গিয়েছিলেন রিজওয়ান। কিছুক্ষণ পর তাশফিনকে নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় ফিরে গুলি চালাতে শুরু করেন।

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পরিবেশ চিকিৎসার উপর ডিগ্রি নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগে কাজ শুরু করেন রিজওয়ান।

তার চাকরি সংক্রান্ত কোনো জটিলতা ছিল না বলেই জেনেছে পুলিশ। আগে কোনো অপরাধে জড়িত থাকার নজিরও নেই।

রিজওয়ানের ভগ্নিপতি ফারহান খান বলেন, তারা এই ঘটনায় পুরোপুরি হতভম্ব। কেন এটা হল, তা জানতে তারা এখন পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায় আছেন।

সহকর্মীরা বলছেন, রিজওয়ান খুব বেশি মেলামেশা করতেন না কারও সঙ্গে। অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক সীমাবদ্ধ ছিল ‘হাই ও বাই’ এর মধ্যেই।

মারিয়া গুটিরেজ নামে এক সহকর্মী বলেন, রিজওয়ান ছিল খুব শান্ত প্রকৃতির এবং ভীষণ ভদ্র।

তবে হামলার সময় রিজওয়ান ও তাশফিন প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলেন বলে পুলিশ কর্মকর্তা বারজুয়ান দাবি করেছেন।

“তাদের হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল ও হ্যান্ডগান, পরনে ছিল কমান্ডো পোশাক।”

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন