রাতে প্রচণ্ড শীত। গ্রিস–ম্যাসেডোনিয়ার বর্ডার ক্যাম্প গ্যাবগেলিয়াতে যেখানে প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর সেখানে কবরের শুনশান! নিভিয়ে দেয়া হয়েছে সব বাতি। তবে ক্যাম্পের বাইরে গ্রিস–ম্যাসেডোনিয়া নো ম্যানস ল্যান্ডে হাজার হাজার শরণার্থী আটকানো। হঠাৎ করে গত ১৮ নভেম্বর বুধবার থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় সীমান্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের শরণার্থীদের। শুধু আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাকের শরণার্থীদের জন্য খোলা রয়েছে। সেদিন সারারাত নো ম্যানস ল্যান্ডে অপেক্ষা করেছেন শতশত শরণার্থী। মশাল জ্বালিয়ে, ক্যাম্প ফায়ার করে শীত নিবারণের চেষ্টার সাথে চলেছে – লিবার্টি লিবার্টি বলে স্লোগান। তবে কোন সুরাহা হয়নি, শত শত আটকে পড়া শরণার্থীদের মিছিল শুধু বড়ই হয়েছে, ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, স্লোগানে স্লোগানে মুখর হচ্ছে দিন রাত। নো ম্যানস ল্যান্ডে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে চ্যারিটি সংস্থাগুলো।

শরণার্থীদের প্রতিবাদের যোগ হয়ে স্লোগানের সাথে শারীরিক প্রতিবাদ। আজ বেশ কয়েকজন শরণার্থী মুখে সুঁই-সুতা দিয়ে সেলাই করে বুঝাতে চেয়েছেন মানবতার কোন ভাষা নেই! আসলেই কি নেই! মানবতার কি কোন ধর্ম নেই? মানবতার কি আসলেই কোন দেশ নেই? যদি তাই না হয় তাহলে মানবতা আজ কেন আটকে আছে নো ম্যান’স ল্যান্ডে! এমন প্রশ্নে উত্তর মানেই রাজনৈতিক সমীকরণে গা ভাসানো! মধ্যপ্রাচ্যে কি হয়েছে সেই রাজনৈতিক সমীকরনে নানা মুনির নানা মত! তাই বৈশ্বিক সেই বিষয় নয়, এখানে সেই বিষয়ের উর্ধ্বে রয়েছে মানবতা! সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখ থেকে যখন শরণার্থীদের ভাগ্যের শিকে খুলে দেয় জার্মান এরপর গত ৩ মাসে প্রায় ৭০০ হাজার শরণার্থী প্রবেশে করেছেন ইউরোপে। তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা করে নেয় ইউরোপ! সেই খবরে লক্ষ লক্ষ রিফিউজি ছাড়া মানুষ এই ভিড়ে মিশে গিয়ে সুযোগ নিতে থাকেন। যেসব দেশে যুদ্ধ নেই, যেসব দেশে অশান্তি নেই সেসব দেশের নাগরিকদের ব্যাপারে ইউরোপিয়ান কড়াকাড়ি সিদ্ধান্তে আসে নভেম্বরের ১৩ তারিখে প্যারিস হামলার পরই।

মূলত প্রকৃত শরণার্থীদের ভীড়ে আইএস ঢুকে প্যারিস হামলা ঘটিয়েছে এমন প্রমানের পরই ছোট করে আনা হচ্ছে শরণার্থীদের বহর। তাই ম্যাসেডোনিয়াতেই আটকে দেয়া হচ্ছে তাদের। আটকে পড়া হাজার হাজার শরণার্থী পরিচয়ে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের দাবি তাদের ঢুকতে দেয়া হোক। কেউ কেউ সুইসাইড করবেন বলেও হুমকি দিচ্ছেন। অনেকের মুখে সেলাই, বুকে রক্ত দিয়ে লেখা স্লোগান। মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে সেসব ছবি ছাপা হচ্ছে। সেইসব ছবিতে জ্বল জ্বল করছে বাংলাদেশের এক তরুনের বুকে রক্ত দিয়ে ইংরেজীতে লেখা – আমাদের গুলি করো, তবুও আমরা বাংলাদেশে ফেরত যাবো না! বাংলাদেশতো সরকারের হিসাবে নিরাপদ, বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো বাংলাদেশের ব্যাপারে পজেটিভ। তাহলে টগবগে যুবকের চোখে স্বপ্ন থাকবে, দেশ গড়ার কাজে হাত মেলাবে সেই যুবকের বুকে কেনো শোভা পায় এমন মরণবাদী স্লোগান!

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন