মন্ত্রী মোজাম্মেল হক

সরকারের সচিব হওয়ার পর তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। যেখানে যান, সেখানেই ক্ষমতার অপপ্রয়োগ হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কথা শুনলে তাদের গা জ্বলে। জয় বাংলা শুনলে মাথা গরম হয়ে যায়।”

জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে রোববার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অপর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় একথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দু-এক জন সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া অন্যরা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ বলতে সাহস পান না।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সচিবদের সমালোচনা করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। সম্প্রতি কয়েকজন সচিবের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ ধরা পড়ে।
ভুয়াদের বাদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত করতে না পারার জন্য উচ্চ আদালতকে দায়ী করেন মোজাম্মেল হক।

“মহামান্য হাই কোর্ট একতরফা কথা শুনে, কিছু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে রায় দিচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে কারা ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা’ সেটা যাচাই-বাছাই করতে দেরি হচ্ছে।”
একদিন আগেও আরেক অনুষ্ঠানে একই কথা বলেছিলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা মারা গেছে, সবাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে যারা মুক্তিযুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন, তারাই প্রকৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। গণ-শহীদরা সবাই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবে না। তারাও সম্মানিত হবেন, তবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নয়।”

মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকারীদের ইতিহাসও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল।
“শুধু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নয়, তখন যারা পাক হানাদার বাহিনীদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের সহযোগিতা করেছিল, সেই রাজাকারদের বিশদ বর্ণনা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকারদের ঘৃণা জানাতে দেশব্যাপী ‘ঘৃণা স্তম্ভ’ বানানো হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি নূর উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আজিজুর রহমান, মো. শাহাবুদ্দীন, হেমায়েত উল্লা বীর বিক্রম প্রমুখ।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন