সাক্ষ্য-তর্কে অপরাধ প্রমাণ হলেও সর্বোচ্চ আদালতকে যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর খালাস বা সাজা কমানোর আবেদন বিবেচনায় নিতে তার আইনজীবীরা আরজি জানিয়েছেন। এ আরজির সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত নিজামীর আপিল শুনানিতে আসামীপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করবে আগামী ৭ ডিসেম্বর। ৮ ডিসেম্বর পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের দিন ঠিক আছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধীর পক্ষে আদালতে দোষ স্বীকারের ঘটনা এটাই প্রথম।

আসামীপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে নিজামীর আইনজীবী খন্দকার মাহাবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রসিকিউশন থেকে এটা প্রমাণ করা হয়েছে, ৩১ মে বা ২৬ মে আলবদর গঠন করা হয়েছে। যেটা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিলো। যে দুইটি অভিযোগে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে সেখানে তাকে আলবদর কমাণ্ডার হিসেবে বলা হয়েছে। কিন্ত আমরা বলেছি, তখন তো আল-বদরই হয় নাই। অতএব, আল বদর কমাণ্ডার হিসেবে যে তাকে বলা হয়েছে সেটা সঠিক না।

তিনি আরো বলেন, ‘৭১ সালের সেপ্টেম্বরের পর উনি ইসলামী ছাত্র সংঘে ছিলেন না। ‘আর্মি এসেছে এ কথা শুনে সব মানুষ দেশ গ্রাম ছেড়ে চলে যেত সেক্ষেত্রে একজন সাক্ষী বলছে আমি ধানক্ষেতে বা তেতুঁল তলায় বসে দেখার বিবরণ দিয়েছে এটা বিশ্বাসযোগ্য না।’

খন্দকার মাহাবুব আরো বলেন, কোর্টও আজকে যেটা দেখলাম আমাদের অনেক কথা আমলে নিয়েছে। সেই অনুপাতে আমি বিশ্বাস করি এই মামলায় বেশিরভাগ চার্জে খালাশ দেওয়ার সম্ভবনা আছে। তারপরও যদি সাজা দেয় তবে চরম দণ্ড দেবে আমরা বিশ্বাস করি না।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাটর্নী জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের শীর্ষ আইনজীবীরা এই প্রথম তাদের একজন অভিযুক্ত নেতা অপরাধী সেটা স্বীকার করে নিলেন। স্বীকার করে নিয়ে শুধু মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন করলেন।

৪টি অপরাধের জন্য নিজামীর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, যেখানে আলী আহসান মুজাহিদের একটি দণ্ডের জন্য ফাঁসি হয়েছে। আর নিজামীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে ৪টি অভিযোগের জন্য। এই অভিযোগের জন্য তার দণ্ড মওকুফ হয়ে যাবে আমি এটা বিশ্বাস করি না।

গত ৯ সেপ্টেম্বর নিজামীর আপিল শুনানি শুরু হয়। এর আগে ১৭ ও ১৮ নভেম্বর নিজামীর আপিল শুনানিতে পেপারবুক থেকে উপস্থাপন শেষ করেন তার আইনজীবী।

মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আনা হত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুষ্ঠন, দেশত্যাগে বাধ্য করা, আটক, নির্যাতনসহ ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮টি প্রমাণিত হয়।

এসব অভিযোগের মধ্যে প্রমাণিত চারটি অভিযোগে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ রায়ের পর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ২৩ নভেম্বর মতিউর রহমান নিজামী আপিল করেন।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন