তৃতীয় ম্যাচে এসে হাসল ক্রিস গেইলের ব্যাট। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে উড়ে গেছে চিটাগাং ভাইকিংস। ৮ উইকেটের বড় জয়ে বিপিএলের শেষ দুইয়ে থাকার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে মাহমুদউল্লাহর দল।

১০ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে রয়েছে রংপুর রাইডার্স। এক ম্যাচ করে কম খেলে তাদের পেছনেই আছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও বরিশাল। রান রেটে পিছিয়ে তিন নম্বরে আছে মাহমুদউল্লাহর দল।

বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৩৫ রান করে চিটাগং। জবাবে গেইলের অপরাজিত ৯২ রানে ১৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বরিশাল।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই রনি তালুকদারকে হারায় বরিশাল। দ্রুত একটি রান নিতে গিয়ে বোলার তিলকারত্নে দিলশানের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সময় মতো জায়গায় পৌঁছতে পারেননি রনি।

পঞ্চম ওভারে ফিরে যান মেহেদি মারুফ। তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১৮ বলে ১৮ রান করেন তিনি।

৩১ রানে দুই উইকেট হারালেও খেলায় তার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি গেইল ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে ১১০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন এই দুই জন।

সিলেট সুপার স্টার্সের বিপক্ষে ৮ রান করার পর কুমিল্লার বিপক্ষেও একই রানে ফিরেছিলেন গেইল। তৃতীয় ম্যাচে এসে রান পেলেন চোট কাটিয়ে এই টুর্নামেন্ট দিয়েই ক্রিকেটে ফেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

স্বরূপে ফিরতে বেশি সময় নেননি গেইল। আয়েসী ব্যাটিং, নিজের জোনে বল পেলে বিশাল সব ছক্কা তার সেরা সময়ের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।

শফিউল ইসলাম ছাড়া চিটাগংয়ের সব বোলারের বিপক্ষে অন্তত একটি করে ছক্কা হাঁকিয়েছেন গেইল। জিবন মেন্ডিসের এক ওভারে চারটি ছক্কাসহ ২৬ রান নিয়ে ৩০ বল বাকি থাকতেই দলকে দারুণ জয় এনে দেন এই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান।

সময় যত গড়িয়েছে তত রুদ্রমূর্তি দেখা গেছে গেইলের। ৩৫ বলে অর্ধশতকে পৌঁছানোর শেষ ১২ বলে তুলেন ৩৯ রান। শেষ পর্যন্ত ৯২ রানে অপরাজিত থাকেন গেইল। তার ৪৭ বলের ইনিংসটি ৯টি ছক্কা ও ছয়টি চার সমৃদ্ধ।

মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে।

চোটের জন্য গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে খেলেননি অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া চিটাগংকে নেতৃত্ব দেন দিলশান।

তামিমের জায়গায় দিলশানের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করেন এনামুল হক। ৫.৫ ওভার স্থায়ী ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দিলশান-এনামুল। আল আমিন হোসেনকে পরপর দুই বলে বিশাল দুই ছক্কা হাঁকিয়ে সেই ওভারেই ফিরে যান দিলশান (২৮)।

অধিনায়কের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টেকেননি এনামুলও। সিরিজে প্রথমবারের মত খেলতে নামা অফ স্পিনার সোহাগ গাজীর বলে বোল্ড হয়ে শেষ হয় তার ১৮ বলে খেলা ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংসটি।

৬০ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো চিটাগং দেড়শ’ পর্যন্তও যেতে পারেনি। দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান উমর আকমল (২৫), দলে ফেরা আসিফ আহমেদ (১৭) দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন।

বরিশালের মোহাম্মদ সামি ও কেভন কুপার দুটি করে উইকেট নেন।

দলের সেরা বোলার মোহাম্মদ আমিরকে ছাড়া কাজটা অনেক কঠিন ছিল চিটাগংয়ের জন্য। গেইল ঝড়ের পর ১৩৬ রানের সেই লক্ষ্য ছোটই মনে হল।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন