ঢাকাঃ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, নিশ্চিন্তে ব্যবসা করুন। বিএনপির কোনো আন্দোলন সফল হবে না। কারণ খালেদা জিয়া উপলব্ধি করেছেন আন্দোলন সংগ্রাম করে শেখ হাসিনার সরকারকে কিছু করা যাবে না। এ জন্য তিনি সঠিক পথে এসেছেন। নির্বাচন করছেন।

শনিবার দুপুরে ঝালকাঠির পুরোনো স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনের পর বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সংসদ সদস্য ধীরেন্দ দেবনাথ সম্ভু, বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ ও ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারি ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে আসলেন না, অথচ উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিলেন। ইউনিয়ন পরিষদেও নির্বাচন করার কথা জানিয়েছেন তাঁর এক নেতা। নাকে খত দিয়ে খালেদা জিয়া নির্বাচনে এসেছেন, ভবিষ্যতে ২০১৯ সালেও তাঁরা নির্বাচনে আসবেন।
tofael2
সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে বলা হয়েছে। কারণ খালেদা জিয়া উপলব্ধি করেছেন আন্দোলন সংগ্রাম করে শেখ হাসিনার সরকারকে কিছু করা যাবে না।’

পৌরসভা নির্বাচনে জয়লাভ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা পেট্রলবোমার বিরুদ্ধে, অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে ও নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করার বিরুদ্ধে।’

এদিকে আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই উন্নয়ন হয় জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কারো মুখাপেক্ষী নয়। বিদেশি অর্থায়ন ছাড়াই পদ্মা সেতুর কাজ চলছে। সরকার পায়রা বন্দর স্থাপন করেছে। এই বন্দরকে ঘিরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে। দক্ষিণাঞ্চলে অসংখ্য শিল্প কারখানা হবে। ভবিষ্যতে এ বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ নদী বন্দরে রূপান্তরিত হবে। এ অঞ্চলের মানুষই নয়, এসব প্রতিষ্ঠানে দেশের দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে।’

বিএনপি দেশের উন্নয়ন চায় না উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যদি না হতো, তাহলে দেশের সাংবিধানিক শূন্যতা দেখা দিত। আর এ সুযোগে অপশক্তি ক্ষমতায় আসত। এতে দেশের অমঙ্গল হতো বলে শিল্পমন্ত্রী দাবি করেন।

সম্মেলনে সরদার মো. শাহ আলমকে সভাপতি ও খান সাইফুল্লাহ পনিরকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক করে ৭৭ সদস্যবিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন