মা-ইলিশ সংরক্ষণের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আগামীকাল বুধবার ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। এ সময় ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রের অন্তর্গত ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধসহ দেশব্যাপী পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিনিময় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। তিনি জানান, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও ত্বরান্বিত করতে চলতি বছর প্রধান প্রজনন মৌসুমে মোট ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ নিষিদ্ধ করে ইতিমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ সময় মা-ইলিশের ৮০ শতাংশ ডিম পাড়ে। তারা ডিম পাড়ে মূলত মিঠাপানিতে। তাই আশ্বিনের পূর্ণিমার চার দিন আগে এবং পূর্ণিমার পর ১৮ দিন মোট ২২ দিন দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, নদীর মোহনাসহ যেসব জেলা ও নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়, সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, এই ২২ দিন মাঠপর্যায়ে অভিযানে সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অতিরিক্ত ৪৭ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযান সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি জাতীয় মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সময়ে অভিযান ও তদারকি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ৩৬টি জেলার সব নদ-নদীতে দিনে ও রাতে অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ এবং জাটকা ধরা নিষিদ্ধকালীন জাটকা ও ইলিশসমৃদ্ধ এলাকার জেলেদের জন্য প্রতি বছর পরিবারপ্রতি ৪০ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জাটকা ধরা নিষিদ্ধকালে আট মাস দেশের ১৭ জেলার ৮৫টি উপজেলায় জাটকা আহরণে বিরত মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৪টি জেলে পরিবারে ৪০ কেজি হারে চার মাসের জন্য প্রায় ৩৯ হাজার ৭৮৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন