গত ৮ দিনে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪২ শিশু, এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩টি নিষ্পাপ শিশুর! আমরা কি তবে দিন দিন অসভ্য যুগে প্রবেশ করছি? শিশু, কিশোরী, যুবতী, বয়স্ক নারী, প্রতিবন্ধী, ছাত্রী, শিক্ষিকা, চাকুরীজীবি নারী, নারী চিকিৎসক, নারী পুলিশ- কেউই এই জঙ্গি ধর্ষকদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা।মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান বলছে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৫৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৭৮ জনকে।আরো আশংকাজনক খবর হলো ধর্ষণের শিকার নারীদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই শিশু -কিশোরী।যাদের বেশিরভাগই ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী। কিন্তু দুঃখজনক হলো আমাদের শোক প্রকাশও এখন পেশাভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ ছাত্রী ধর্ষিত হলেই কেবল তখন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে অন্য সময় তারা চুপ। নার্স ধর্ষিত হলেই কেবল সকল নার্সরা সোচ্চার হচ্ছে। শিক্ষিকা ধর্ষিত হলে তখনই কেবল শিক্ষকরা সম্মিলিত কর্মসূচি দেয়! কিন্তু আমরা সম্নিলিতভাবে রাস্তায় না নামলে কারোই টনক নড়বে না! বন্ধ হবেনা এই অমানবিক নির্যাতন।
ধর্ষকের বিচার হোক সেটা সব সরকারই চায়। কিন্তু তবুও কখনো কখনো প্রভাবশালীরা ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে প্রশাসনকে চাপ কিংবা লোভ দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি এরা এই অনৈতিক কাজে কখনো কখনো সফলও হয়। কিন্তু আমরা ৯৯% সাধারন মানুষ যদি এক হয়ে সরকারকে ধর্ষণের দ্রুত ও কঠোর বিচারের বিষয়ে চাপ অব্যাহত রাখি তাহলে মাত্র ১% মুখোশধারী প্রভাবশালীরা কিছুতেই তাদের বখাটে সন্তানদের ধর্ষণের মতো অপরাধ করার পরেও রক্ষা করতে পারবেনা। আমরা ৯৯% সাধারণ মানুষ কি মাত্র ১% অমানুষের কৌশলের কাছে বারবার হেরে যাবো? নাকি নিজের সন্তান ধর্ষিত না হওয়া পর্যন্ত আমরাও বালুতে মুখ লুকিয়ে কাল্পনিক ‘সুখে-শান্তিত’ বসবাস করতে থাকবো? আসুন প্রতিটি ধর্ষণের পরেই আমরা প্রতিবাদে সোচ্চার হই। গতকালের ধর্ষণটিই হোক শেষ ধর্ষনের ঘটনা।
আগামিকালের সুর্যোদয় থেকেই যেনো আমাদের শিশুরা, বোনেরা, মায়েরা একটি নিরাপদ সমাজ উপহার পায়। ধর্ষণকেও এখন জঙ্গিবাদের মতো ‘জিরো টলারেন্স’ হিসেবে নিয়ে সরকারকেও আরো কঠোর হতে হবে।আমরা সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হয়েই কিন্তু এসিড সন্ত্রাস রুখে দিতে পেরেছি।এবার সময় এসেছে ধর্ষণের বিপক্ষে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে লড়াই করার।এই অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্ত হতেই হবে।এই পাপ আর বাড়তে দেওয়ার সুযোগ নেই। মনে রাখবেন বাজারে আগুন লাগলে কিন্তু দেবালয় এড়ায় না!
লেখকঃ সাইফুল আলম পলাশ ইএমবিএ, এমআইএস, ডিইউ।
কার্যকরী সদস্য, জাপান-বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন