প্রিয় মঠবাড়িয়া, কেমন আছ তা জানতে চাচ্ছি না। মান অভিমান ভুলে আজ তোমায় স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দিলাম। চৈত্রের প্রচন্ড দাবদাহে চাতকের দে জল দে জল চিৎকারে পরম করুনাময়ের ইচ্ছায় এক পশলা বৃষ্টি যেমন মুমূর্ষু চাতকের প্রান বাঁচায় তেমনি তুমি নানা আয়োজনের ডালি সাজিয়ে প্রান বাঁচিয়েছিলে তোমার সন্তানদের। রাঙিয়ে দিয়েছিলে সাদা কালো দিনগুলো। তোমার সেই সাজানো আয়োজনের উপকরণ হয়ে ভালোর আলো জ্বালার অংশীদার হয়েছিলাম আমিও। মনে আছে একদিন বলেছিলে “ছেলেগুলো বড্ড বেয়ারা হয়েছে। সবুজ ঘাসে আর আসে না।” অমনি কানে কানে পৌঁছে দিলাম দিন বদলের মন্ত্রনা। ক্রিকেট একাডেমি হল, ফুটবল ক্লাব হল। সবুজ ঘাস আবার সংগী পেল। খেলাধুলা আর হইহুল্লোরে সে কী প্রানবন্ত শৈশব! টিটিসি হল আর শহিদ মিনারের উন্মাদনাগুলো খুব মনে পড়ে। সেই আগুন ঝড়া আবৃত্তি, মন মাতানো সুর আর হৃদয় রাঙানো সব পরিবেশনা! হয় কি এখনো? তোমার কোলে বড় হয়ে আজ যারা কলম যোদ্ধা তাদের শুরুটা কীভাবে হয়েছিল তাও কিন্তু মনে আছে আমার। আড়ম্বর বিহীন মমতায় ভরা কাঁচা হাতে লেখা সেই দেয়ালিকা – স্মারণিকাগুলো কী উচ্ছ্বাসেই না বের করত ওরা! কল্পনা রাজ্যের সব রঙ ঢেলে দিয়ে এক একটি সংখ্যা হয়ে উঠত ইতিহাসের এক একটি অধ্যায়। শুনেছি স্কুল টুর্নামেন্ট, আন্তঃউপজেলা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাগুলো এখনো হয়, তবে খুব ধূসর নাকি তার রঙ। আবছা আলোয় চোখের গভীরে যাওয়া যায় কি? সংগঠন প্রিয় কাজ পাগল মানুষগুলোর সন্ধ্যাটা কী মধুরই না ছিলো তখন! সৃষ্টির নেশায় মেতে ওঠা সন্ধ্যাগুলোর সাক্ষ্য দিবে বাজারের প্রতিটি চায়ের কাপ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছোট-বড়, সমগোত্র-ভিনগোত্র সম্পর্কগুলো আর আগের মত সতেজ নেই শুনলাম। কেন? গ্রহনের কাল চলছে বুঝি? কৃষিমেলা, রাস উৎসব, মাহফিলে নাকি প্রান খুঁজে পাওয়া যায় না? কেন? খুব সময় নষ্ট হয়? ও হ্যা, তোমার এ প্রজন্ম পহেলা ফাল্গুন,বর্ষাবরণ,পিঠা উৎসব, নজরুল-রবীন্দ্র জয়ন্তী, বিজ্ঞান মেলা, চারু মেলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চলচ্চিত্র উৎসব এগুলো জানে তো? নতুনের গান গাওনি কখনো? এখনো একটি থিয়েটার গ্রুপ তৈরী করতে পার নি তুমি।যারা ছিল তারাও নাকি হাল ছাড়তে বসেছে।দিনগুলো কি এমনই যাবে? এখনো কি স্বপ্নালু চোখ ঘুড়ে বেড়ায় তোমার অলিতে গলিতে? প্রজন্ম এগুলোর স্বাদ পেল না কেন? প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতে পারবে? এড়ানো সম্ভব? প্রিয়, ক্ষমা চাচ্ছি। আমি আবার ফিরতে চাচ্ছি তোমার জনপদে। গ্রহন করবে না? কথা দাও ফিরিয়ে দিবে না।কথা দাও।

ইতি, সোনালি অতীত

লেখক >> সাব্বির মো. খালিদ, এল,এল,বি; এল, এল, এম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন