শুক্র. ফেব্রু ২১, ২০২০

আজকের মঠবাড়িয়া

সত্য প্রচারে সোচ্চার

হতভাগা অজ্ঞাত নারীর শেষ ঠিকানা কোথায় !

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ নিভৃত গ্রামের এক স্কুলের বারান্ধায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলো চল্লিশ উর্ধো এক অজ্ঞাত নারী। জীবনের এমন সংকটে স্বজনেরা কেউ তার পাশে নেই। এমন অবস্থায় তিনদিন ধরে স্কুলের বারান্ধায় কাতরাচ্ছিলো হতাভাগা এই নারী। পাশ্ববর্তী কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার নারীকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই অজ্ঞাত নারীকে ভর্তি না নিয়ে বারান্ধায় রেখে দায়সারা চিকিৎসা দেন। সেখানে একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় ৬ঘন্টা পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ওই দুর্ভাগা নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ আজ বুধবার ওই নারীর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। তবে ওই নারীর এখনও পরিচয় উদঘাটন করেতে পারেনি পুলিশ।
থানা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, গত তিন দিন আগে অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই নারী মঠবাড়িয়া উপজেলার বান্ধাঘাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্ধায় মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছিলো। স্থানীয়দের ধারনা পরিবারের স্বজনরা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ওই নারীকে স্কুলের বারান্ধায় ফেলে রেখে যায়। এরপর খাদ্য ও চিকিৎসাহীন অবস্থায় সেখানে ওই নারীর অবস্থা আরো সংকটময় হয়ে পড়ে।

বান্ধাঘাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার গোপাল চন্দ্র তালুকদার মানবিক কারনে ও বিবেকের তারনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করে গতকাল দুপুরে ওই নারীকে উদ্ধার করে ভ্যানযোগে চিকিৎসার জন্য মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে বেডে ভর্তি না নেওয়ায় হতভাগ্য ওই নারী হাসপতালের বারান্ধায় স্থান হয়। সেখানে ৬ঘন্টা ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় মঙ্গলবার বিকেলে মারা যান। পুলিশ খবর পেয়ে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে।

এবিষয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার গোপাল চন্দ্র তালুকদার জানান, পরিচয়হীন ওই নারী মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় স্কুলের বারান্ধায় পড়ে ছিলো। সে যে ধরনের অসুস্থ ছিলো তা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব ছিলোনা বিধায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

এব্যাপারে অজ্ঞাত ওই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি না নেওয়া ও তার যথাযথ চিকিৎসা সেবা না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা মাসুমুল হক জানান, ওই নারীর অবস্থা সংকটজনক ছিলো। খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়ে তাকে মৃত দেখতে পাই। চিকিৎসার বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিস্তারিত বলতে পারবে।

এব্যাপারে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আহসানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। অজ্ঞাত নারীর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মফিদুলে হস্তান্তর করা হয়েছে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com