ব্রেকিং নিউজ
Home-এক্সক্লুসিভ-ব্যাঙের ছাতায় ভেষজ গুণ

ব্যাঙের ছাতায় ভেষজ গুণ

দেবদাস মজুমদার <>

স্থানীয় পরিচিতি ব্যাঙের ছাতা । অঞ্চলভেদে ভূঁইছাতা, কোড়ক ছাতা, ছত্রাক, পলছত্রাক, ভুঁইছাতি, ছাতকুড় প্রভৃতি নামেও পরিচিত । হিন্দিতে ছাতা, ভুঁইছত্তা, ভুঁইফোড়ছত্তা, ছতোনা, সাপের ছাতা, খুমী, ধরতীফুল নামে পরিচিত।

ইংরেজিতে Mushroom(মাশরুম) । এটি একটি ভেষজ উদ্ভিদ : Agaricus camestris Linn. (Family-Agaricaceae)

বর্ষাকালে প্রকৃতিগতভাবেই মাটি ভেদ করে এই ছাতা জন্মে। এটি পাহাড়ী ও সমতল ভূমিতে পচাপাতা, খড়, গোবর থেকেও বর্ষাকালে জন্মে। জলাশয়ের কাছাকাছি সেঁতসেঁতে ভূমিতেও এর বিস্তার মেলে।

একটি সাদা রঙের কান্ড মাটি ভেদ করে ওঠে, কান্ডের মাথায় থাকে বর্তুলাকার ছাতা, এটি প্রথমাবস্থা। পরে, সেটি প্রস্ফুটিত হয়ে ছাতার আকার ধারেন করে। কন্দ থেকে যে কান্ডটি বেরোয় সেটি উপরের দিকে ক্রমশ সরু, ৬/৭ ইঞ্চি পর্যন্ত সাধারনতঃ লম্বা হয় মাথায় যে ছাতাটি থাকে, সেটির নীচের দিকে মাছের ঝিল্লির মত পাতলা পর্দা থাকে এবং তাতে বীজানুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এই ছাতার নীচের দিকে ডাঁটাতে একটা পাতলা পর্দামত আবরণ থাকে, সেটি প্রথমাবস্থায় ডাঁটার সঙ্গে অনেকটা মিশে থাকে, ছাতাটি সম্পূর্ণ পরিস্ফুট হওয়ার সময় ঐ আবরণটি একটু ঝুলে পড়ে, দেখলে মনে হয় মসৃন কান্ডের উপরের দিকে যেন একটি আলগা ধরনের গাঁট। এটিকে গিল(Gill) বলা হয়। দেখতে ভিষণ দৃষ্টি নন্দনও বটে।

ভেষজ এ উদ্ভিদে আমিষ, শর্করা ও চর্বিজাতীয় পদার্থ বিদ্যমান। মাংসল পৌষ্টিক গুনযুক্ত, কামবর্ধক ও মৃদু বিরেচক। এই ছত্রাক থেকে নানাপ্রকার ভিটামিন, ঔষধ, বাণিজ্যিক দ্রব্যও তৈরী হয়।

এই উদ্ভিদ তেলে ভেজে একক বা একাধিক সবজির সঙ্গে মিশিয়ে তরকারি হিসেবে উপাদেয়। সামান্য অম্ল ও চিনি সহযোগে চাটনী বানিয়ে খাওয়ার উপযোগি এই ব্যাঙের ছাতা।

প্রতিবেদনের ছবি, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের চড়কগাছিয়া গ্রাম থেকে তোলা।

ছবি > লেখক

 

 

Leave a Reply

x

Check Also

কাউখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দিনমজুরের মৃত্যু

কাউখালী প্রতিনিধি 🔻 পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার গান্ডতা গ্রামের মোজাব্বেল (৬৪) নামের এক বৃদ্ধ দিনমজুর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ...