মেহেদী হাসান বাবু <>

বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়! বাংলাদেশের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ নূর হোসেন একটি অবিস্মরণীয় নাম।বুকেপিঠে “স্বৈরাচার_নিপাত_যাক, গণতন্ত্র_মুক্তি_পাক” শ্লোগান লিখে রাজপথে হাজির হয়েছিলেন মানব_পোষ্টার খ্যাত অকুতোভয় নূর হোসেন।আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকেই সেদিন তাকে সতর্ক করেছিলেন তার উপরে পুলিশের আক্রমনের আশংকার ব্যাপারে।কিন্তু মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই নূর হোসেন এগিয়ে গেলো স্বৈরাচরবিরোধী মিছিলের সম্মুখভাগে। একপর্যায়ে স্বৈরশাসকের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ ঠিকই টার্গেট করে গুলি করে বসে নূর হোসেনের বুকে! তাজা লাল রক্তে ভেসে যায় ঢাকার পিচ ঢালা কালো পথ।নূর হোসেনের সাথে সেদিন প্রান হারায় আরো বেশ কয়েকজন। শুরু হয় লাশ নিয়ে পুলিশের লুকোচুরি। চেষ্টা করা হয় লাশগুলোকে গুম করার। গভীররাতে চুপিচুপি পুলিশ তিনটি লাশ নিয়ে হাজির হয় জুরাইন গোরস্থানে।ঘুম থেকে উঠিয়ে আনা হয় গোর খোদোকদের।পুলিশ হুকুম দেয় গর্তখুড়ে লাশগুলিকে মাটি চাপা দোবার জন্য। কিন্তু বেঁকে বসে তারা। মুসলমানের লাশ গোসল ছাড়া কিছুইতেই তারা সমাহিত করবেনা বলে ঘোষনা দেয়।পুলিশ বাধ্য হয় তাদের দাবী মেনে নিতে।লাশের গোসল করানোর সময় নূর হোসোনের শরীরে লেখা “গণতন্ত্র মুক্তিপাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক” শব্দটি সেদিন নারিকেলের ছোবড়া আর ‘৫৭০’ সাবান দিয়ে অনেক ঘষেও তারা উঠাতে পারেনি।এই অমর বাণীসহই তাকে কবর দেওয়া হয়..! ঘটনাটি ১৯৮৭ সালের ১০ই নভেম্বরের। নূর হোসেন যে আমাদের মঠবাড়িয়ার সন্তান তা রাজনীতি সচেতন বয়ষ্করা জানলেও তরুণ প্রজন্মের অনেকের কাছেই ছিলো অজানা।কারন এদেশে জাতীয় বীরদের দলমত নির্বিশেষে সম্মান জানানোর সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি। যদিও ঢাকায় ঘটা করেই ১০ ই নভেম্বরে “শহীদ নূর হোসেন দিবস” পালন করা হয় কিন্তু মঠবাড়িয়াতে অতীতে নূর হোসেনকে নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হতোনা।মঠবাড়িয়ার সন্তান নূর হোসেনকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক ভাবে তুলে ধরার প্রত্যাশা নিয়েই আমরা গড়ে তুলেছি “জাগো_লক্ষ_নূর_হোসেন নামের একটি সংগঠন।

আমাদের স্বপ্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শহীদ নূর হোসেনের জীবন দানের ইতিহাস তুলে ধরা। পাশাপাশি মঠবাড়িয়াতে নূর হোসেনের একটি ভাস্কর্য নির্মান, মঠবাড়িয়া থেকে শাপলেজা পর্যন্ত রাস্তাটি “শহীদ নূর হোসেন সড়ক” নামে নামকরণ, তার নামে মঠবাড়িয়াতে একটি আধুনিক ডিজিটাল লাইব্রেরী নির্মাণ সহ বেশ কিছু দাবী জানিয়ে আসছি চার বছর আগে থেকে আমরা আমাদের জনপ্রতিনিধির প্রতিশ্রুতি পেয়েছি কিন্তু আজও বাস্তবায়ন হয়নি । নিশ্চয়ই একদিন এগুলো বাস্তবায়ন হবে।

বর্তমান সময় উপকূলের জনমানুষের সাংবাদিক দেবদাস মজুমদারের সমন্বয়ে মঠবাড়িয়ায় শহীদ নূর হোসেন চত্বর ও ম্যুরাল স্থাপনে জনমত গড়তে তরুণরা সমবেত হয়েছেন। শহীদ নূর হোসেন চত্বর নির্মাণের দাবিতে আগামী ১০ নভেম্বর থেকে জনমত গঠনে নানা কর্মসূচি নিয়ে বাস্তবায়ন করছে।”জাগো লক্ষ নূর হোসেন” সংগঠন পাশে আছে। উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও দল মত নির্বিশেষে মঠবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিক, সংস্কৃতিজন সকল মানুষ ও প্রবাসিদের সার্বিক উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবসে মঠবাড়িয়ার কৃতি সন্তান গণতন্ত্র বিপ্লবী নূর হোসেন প্রতি “জাগো লক্ষ নূর হোসেন” সংগঠনের পক্ষ থেকে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি।

লেখক <>। সদস্য সচিব,  জাগো লক্ষ নূর হোসেন

                                       ও

               সম্পাদক ও প্রকাশক , আজকের মঠবাড়িয়া

 

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন