দেবদাস মজুমদার 🔹

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় নতুন জাতের উচ্চফলনশীল ব্রীধান-৭৪ এর সম্প্রসারণ ঘটেছে। চলতি বোরো মৌসুমে এ জাতের নতুন ধান আবাদ করে মঠবাড়িয়ার মিরুখালী ইউনিয়নের কৃষিব্লকের ১৫০জন কৃষক বাম্পার ফলন ঘটিয়েছেন। এবারই প্রথম মঠবাড়িয়ার ১১ ইউনিয়নের কেবল মিরুখালী ইউনিয়নের কৃষকরা এ নতুন জাতের ধানের আবাদ করে আশাতিত সুফল পান। ফলে কৃষকরা ব্রিধান-৭৪ আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, মঠবাড়িয়ায় এবার বোরো মৌসুমে উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ২হাজার ৫০ হেক্টও জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যা গত মৌসুমের তুলনায় ৮০০ হেক্টর বেশী । এবার বোরো মৌসুমে কৃষকরা উচ্চফলনশীল বিনা-১০, ব্রী-২৮, ব্রী-২৬, ব্রী-৪৭ জাতের ধান আবাদেও পাশাপাশি উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের কৃষি ব্লকে কেবল নতুন জাতের ব্রীধান-৭৪ আবাদ করেন। মিরুখারী কৃষি ব্লকের ১৫০জন কৃষকের মাঝে এবার মৌসুমের শুরুতে পরীক্ষা মূলকভাবে কৃষক প্রতি তিন কেজি করে ব্রীধান-৭৪ এর বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ওই ইউনিয়নের ১২ হেক্টর জমিতে এ নতুন জাতের ধানের আবাদ করেন কৃষকরা । সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফসল কর্তন শেষে কৃষকরা হেক্টও প্রতি গড়ে ৮ থেকে ৯ টন ধান উৎপাদন করেন। ফলে নতুন জাতের ব্রীধান আবাদে কৃষকদের মাঝে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
মিরুখালী কৃষি ব্লকের বড়শৌলা গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ কৃষক আব্দুস সালাম ও আফজাল হোসেন বলেন, গত মৌসুমে বোরো আবাদে ফসল মার খেয়েছে। এবার বোরো মৌসুমে নতুন জাতের বোরো ধান ব্রী-৭৪ আবাদ করে লাভবান হয়েছি। কৃষকরা সবাই ভাল ফলন পেয়েছেন এ জাতে। ফলে অন্যন্য কৃষকরাও এ ধান আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আশাকরছি আগামী মৌসুমে এধানের আবাদ ছড়িয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে মিরুখালী কৃষি ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মঠবাড়িয়ার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে মিরুখালী কৃষি ব্লকে ১২ হেক্টর জমিতে নতুন জাতের ব্রীধান-৭৪ আবাদ করেন কৃষকরা। কৃষকরা নতুন জাতের ধানে আশানুরুপ ফলন পেয়েছেন। ফলে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকদেও এ জাতের ধানের বীজ সুরক্ষার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্য কৃষি ব্লকের কৃষকদের ব্রীধান-৭৪ এ আগ্র সৃষ্টি হওয়ায় আগামীতে তা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ব্রীধান-৪৭ এলাকায় একেবারেই নতুন জাতের ধান। একটি ইউনিয়নে কেবল এবার কৃষকরা এর আবাদ করেছেন। তারা সুফল পেয়েছেন ফলনে। ফলে তাদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরে মঠবাড়িয়ায় আউশ ও আমন আবাদের লক্ষমাত্রা গত বছরের তুলনায় ২০ভাগ বেশী। যা ব্রীধান-৭৪ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বোরো মৌসুমে এ ধান আবাদে ১৪০ দিনের মধ্যে ফলন আসে। ব্রীধান-৭৪ আকারে লম্বাটে ও মোটা। প্রতিটা ধানের ছড়ায় ১৪০ থেকে ১৫০টি ধান ফলে । এবার এধানে বাম্পার ফলন হওয়ায় অন্য ইউনিয়ন গুলোর কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আগামী বোরো মৌসুমে এ জাতের ধানের আবাদে সম্প্রসারণ ঘটাতে কৃষি বিভাগ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন