ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি >

গত ২২ মার্চ প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউপি নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই , সহিংসতা ও কারচুপির অভিযোগে স্থগিত কেন্দ্রে পুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ অক্টোবর। স্থগিত কেন্দ্রে পুন নির্বাচনে কারচুপির আশংকা করছে জেপির সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল হাই হাওলাদার( বাইসাইকেল প্রতীক) ও তার সমর্থকরা। এ্ ইউনিয়নের আ.লীগ সমর্থিত প্রাার্থী( নৌকা) ও তার কর্মী সমর্থকদের দাপট ও নানা ভয়ভীতি প্রদর্শনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে অভিযোগ জেপি সমর্থিত প্রার্থীর। জেপির প্রার্থী এ কারনে সুষ্ঠু ও অবাধ পুন নির্বাচন না হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন। তবে আ.লীগ প্রার্থী এসব াভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা জেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছেন।

জানাগেছে, ভান্ডারিয়ার ইকড়ি ইউনিয়নের ৪১নম্বর ইকড়ি বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ( মোট ভোটার ১৭৫৭) ও মধ্য আতখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মোট ভোটার ২৬৯১) কেন্দ্র দু’টিতে নির্বাচনে কারচুপি ও হাঙ্গামার ঘটনায় ওই কেন্দ্র নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণ স্থগিত করে। পরে সংশ্লিষ্ট ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বাদী হয়ে পৃথক দুইটি মামলা করেন। মামলা দু’টি বর্তমানে তদান্তাধীন রয়েছে। ওই স্থগিত কেন্দ্র দুটিতে আগামী ৩১ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে এ পুন নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহুর্তে চলছে মাইকিং ও ভোটারদের দ্বারে ভোট প্রার্থনা। প্রাথীরা বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। পাশাপাশি ভোটারদের দেওয়া হচ্ছে তাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ। নির্বাচনের কারচুরি অশংকায় জেপির প্রার্থীর পক্ষ হতে বিভিন্ন দপ্তরে সুষ্ঠু নির্বাচনের আবেদন করা হয়েছে।
জেপি প্রার্থীর অভিযোগ, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির আ.লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তিনি আওয়ামীলগের বহিরাগত নেতা কর্মী ও সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ইউনিয়নে আবার ভোট কেটে নির্বাচিত হওয়ার পায়তারা চালাচ্ছেন। জেপি প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, আলীগ প্রার্থীর কর্মী রাসেল খান, স্বপন জোমাদ্দার ও আব্দুর রব হাওলাদার ভোটারদের বাড়িবাড়ি গিয়ে হুমকি প্রদান করে সাধারণ ভোটারদের ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলছেন। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তবে অওয়ামীলীগের প্রার্থী হুমায়ুন কবির জেপি প্রার্থীর অভিযোগ বানোয়াট দাবি করে বলেন, নিরপেক্ষ ভোট হলে দু’টি কেন্দ্রেই আমি বিপুল ভোট জয়লাভ করব। এ কারনে জেপি প্রার্থী আগেই মিথ্যা রটনা ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জার্তীয় পার্টির( জেপি) কর্মীরাই তার কর্মী সমর্থকদের নানা ভয়ভীতি ও হুমকী দিচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার গোলাম মোস্তফা জানান, নির্বাচন অফিসের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিষ্টেট ও বিপুল পরিমান পুলিশ ও অফিসার থাকবে। স্থগিত কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল কুদ্দুস জানান, নির্বাচনে সকল ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কোন প্রকার অনিময়ম ও বিশৃংখলা প্রশ্রয় দেয়া হবেনা। নির্বাচন নির্বিঘœ করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভান্ডারিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, কোন ব্যক্তি সে যে হোক আইন শৃঙ্গলা অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোরহাতে তা দমন করা হবে । ২২ মার্চের নির্বাচনে যে মামলা হয়েছে তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। পুন নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে পূর্বের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন