SONY DSC

দেবদাস মজুমদার,মঠবাড়িয়া ও মির্জা খালেদ,পাথরঘাটা > উপবূলীয় পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া-চরখালী সড়কের মঠবাড়িয়া অংশের গুদিঘাটা বেইলী সেতু পাথর বোঝাই দুই ট্রাকসহ ধসের ১৫ দিন পার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিধ্বস্ত সেতুটি মেরামত করে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি । ফলে এ সড়কে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। চলতি রমজান মাসে সড়ক পথে একদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য পরবিহন ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। বিধ্বস্ত সেতুর স্থানে এখন খেয়া পারাপার চলছে। এমন অবস্থায় আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে এ সড়কে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
অতিষ্ট এলাকাবাসি বিধ্বস্ত সেতুটি পুন নির্মাণের দাবিতে নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা) নামে একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মানবন্ধন ও সমাবেশ করলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগ সেতুটি দ্রুত মেরামতে উদ্যোগ নেয়নি।
গত ১৫ জুন বুধবার ভোরে মঠবাড়িয়া-চরখালী সড়কের ৩৫ মিটার গুদিঘাটা বেইলী সেতু পাথর বোঝাই দুটি ট্রাক পাড় হওয়ার সময় সেতুটি ভেঙে দুই ট্রাকসহ খালে পড়ে যায়। এসময় একজন শ্রমিক নিহত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ(সওজ) দুই মাস আগে পুরানো সেতুটি খুলে নিয়ে অতি পুরানো একটি নড়বরে সেতু স্থাপনের কারনেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেতু ধসের সময় আসাদুল ইসলাম নামে ট্রাকের এক হেলপার ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
অপরদিকে এ সেতু দুর্ঘটনায় পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্য সহকারী আবদুস সোবাহান হাওলাদার বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেছে। ওই মামলা দায়েরের পর সওজ বিধ্বস্ত সেতুটি অপসারণ করে নিলেও সেখানে নতুন করে সেতু স্থাপন করতে পারেনি।
দক্ষিণ অঞ্চলের প্রবেশ দ্বার পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া-পিরোজপুর সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ বেইলী সেতুটি ধসের কারনে আট দিন ধরে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। এতে এ সড়কে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিশেষ করে সরাসরি ঢাকা-চট্টগ্রাম-রাজশাহী-খুলনা-বরিশালসহ দূরপাল্লার ১২টি রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। অপর দিকে এ সড়কের বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হতে দেশের দুর দুরান্তে মৎস্য পরিবহনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
মঠবাড়িয়ার গুদিঘাটা বাজারের ব্যবসায়ি মো. বাবুল গাজি জানান, সেতুর অভাবে পারাপারে জন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। সেতু সংলগ্ন খালে এখন খেরয়া নৌকায় পারাপার চলছে। এজন্য জন সাধারণের নিকট হতে পাঁচ টাকা হাওে আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া সেতুর অভাবে দেড় কিলোমিটার কাঁচা বিপর্যস্ত সড়ক ঘুরে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পাথঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ম্যানেজার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. সোলায়মান সেখ জানান, এখন ইলিশ আহরণ মওসুম প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার মাছ কেনা বেচা হয় । এত বিপুল পরিমান মাছ নিয়ে ট্রাক সমুহ বিকল্প পথে বামনা আমুয়া ফেরী পার হতে হয়। এজন্য সড়ক দুরত্ব বেড়ে যায় খরচ বাড়ে ও সময় অপচয় হয়। সময় মত মোকামে পৌছঁতে না পারলে বিপুল পরিমান অর্থদন্ড হয়। অনেক সময় মাছ পচেঁ যায়।

পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য আরৎদার সমিতির সভাপতি মো. নুরুল আমিন বলেন,মাছের মৌসুম শুরু হতেই সেতুটি ভেঙ্গে গেল। পাথরঘাটা থেকে ঢাকা,খুলনা,বাগেরহাট,যশোর,রাজশাহী এমনকি রংপুর পর্যন্ত মাছ চালান হয়। সেতু সচল না থাকায় বাড়তি খরচের ভয়ে পাইকার আসতে চায় না।
একই পাইকারি বাজারের পাইকার সমিতির সভাপতি মো. শাফায়েত মুন্সি বলেন, ১২ মাসে ইলিশ ভরা মৌসুম থাকে মাত্র এক থেকে দেড় মাস । হঠাৎ অচল সড়কের জন্য আমাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে ।
নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের মঠবাড়িয়া শাথার সভাপতি মো. আরিফ উল হক আসন্ন ঈদের আগেই বিধ্বস্ত সেতুটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধনসহ সমাবেশ করা হয়েছিল, সামনে ঈদ উপকূলীয় অঞ্চলের যাত্রীরা এ সড়কে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে বাড়ি ফিরতে শুর করেছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মজিবুল হক মজনু বলেন, গুরত্বপূর্ণ ও ব্যস্তত সড়কের সেতু ধসের পর দ্রুত সংস্কার করা দরকার। না হলে ঈদ যাত্রীদৈর এ সড়ক দিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বি বলেন, অতিরিক্ত পাথর বোঝাই দুই ট্রাক একসাথে পাড় হতে গেলে সেতুটি ভেঙ্গে পড়ে। সেতু ধসের ফলে জন দুর্ভোগ বেড়েছে। পাথর বোঝাই ট্রাক দুটো অপসারণ করা হয়েছে। সেখানে নতুন বেইলী সেতু স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে ।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন