মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি <>

উপকূলীয় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শনিবার রাত ও আজ রবিবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তা-বে গাছ চাপায় ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি,অর্ধশতাধিক গবাদি পশুর মৃত্যু ঘটেছে। ঝড় ও জলোচ্ছাসে আমন ফসলের মাঠ ল-ভ- হয়েছে। এতে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার ফসলহানীর আশংকা দেখা দিয়েছে।

ঝড়ের তাণ্ডবে গ্রামীন সড়ক ও মহা সড়কের দুই পাশের কয়েক হাজার গাছ উপড়ে পড়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বলেশ্বর নদে অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষেতাছিঁড়া ও কচুবাড়িয়ার দুইটি পয়েন্টের বেড়ি বাধ ভেঙ্গে দুইটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে এসব এলাকার মৎস্য খামারের অন্তত ১৪৫টি পুকুর ও আমন ধান প্রায় তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। এছাড়া বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৪০ কিলোমটার বেড়িবাঁধ নদের প্লাবনে হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ঝড়ে উপজেলার ছালেহিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখার টিনশেড ভবনটি সম্পূর্ণ বিধ্স্ত হয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের খুটি হেলে পড়ায় সারা উপজেলা বিদ্যুত বিতরণে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, ঝড়ে উপজেলায় পাঁচ সহ¯্রাধিক কৃষক অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ঝড় ও জলোচ্ছাসে আমন ধান ৭ হাজার হেক্টর, পান ৩০ হেক্টর, সরিষা ২ হেক্টর, ফল ও শাকসবজি ক্ষেতসহ ২০০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সর্বমোট ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষকের কাছে এর ক্ষতির পরিমান দ্বিগুনেরও বেশী।

উপজেলার মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের তোড়ে উপজেলার ১৫০ মৎস্য খামার পুকুরের ঘের তলিয়ে ৩৫ লক্ষ টাকার মাছের ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিপন বিশ্বাস জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বসতি,কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে আজ রবিবার পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন দপ্তরে ইউনিয়ন পর্যায় ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা নিরুপণ সম্ভব হয়নি।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন