গত ৫ জুন ফিনল্যান্ড সফররত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হেলসিংকির একটি হোটেলে তার সম্মানে সর্ব-ইউরোপীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ  এর আয়োজনে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন  ফিনল্যাণ্ড আওয়ামীগ সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সন্তান মো. মাইনুল ইসলাম। তিনি এসময় মঠবাড়িয়ার সার্বিক বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। সেই সাথে মাইনুল ইসলাম মঠবাড়িয়ার নাগরিকদের পক্ষে মঠবাড়িয়ার কিছু সমস্যার আশু সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানান।

আবেদনপত্রটি হুবহু পত্রস্থ করা হলো।

বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
ঢাকা,বাংলাদেশ ।

বিষয় : পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া-১২৯ উপজেলা শহরের দখলকৃত খাল উদ্ধার, শিশু পার্ক,ইকো পার্ক ও শিল্পকলা একাডেমী মুক্তমঞ্চ গড়ে তোলার আবেদন প্রসঙ্গে

জনাব,
যথাযথ সম্মান প্রদর্শণ পূর্বক বিনীত বিনীত নিবেদন এই যে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সোনার বাংলার স্বপ্ন আপনার যুগান্তকারী পদক্ষেপে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়িয়েছে। আপন স্বদেশের প্রতি আপনার ভালোবাসা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে এই বাংলাদেশ আজ অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমরা পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া একক আসনে উন্নয়ন সুফল আজও বঞ্চিত হয়ে আসছি। পাঁচ লক্ষাধিক জনসংখ্যার অধ্যূষিত মঠবাড়িয়া উপজেলা একটি একক আসন। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় আজও নাগরিক সুবিধা তৃতীয় শ্রেণীর মতোন। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। শহরের প্রাণকেন্দ্রের খালটি আজ নব্যতা হারিয়েছে। কতিপয় প্রভাবশালী শহরের খালটি দখল আর দূষণে মেরে ফেলছে। অপ্রশস্ত সড়কের এ্ শহরের নাগরিকরা নানা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। ভূমি অফিস সংলগ্ন এক নম্বর খাস খতিয়ানভূক্ত বিশালাকৃতির রিজার্ভ পুকুরটি পৌর কর্তৃপক্ষ বালু দিয়ে কয়েকবছর আগে ভরাট করে ফেলেন। পরে সেখানে সুবিধাবাদি একটি চক্র দোকান বরাদ্দের নামে রাজনীতিক আর ব্যবসায়িদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই ভরাটকৃত পুকুর নিয়ে হাইকোর্টে রীট হলে দোকান বরাদ্দের মার্কেট নির্মাণ স্থগিত হয় । বালু ভরাটকৃত পুরটির পাশে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে তার পাশে বালু ভরাটের পুকুরটির জমি জুড়ে শিল্পকলা একাডেমী ও একটি মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করা হলে শহর দৃষ্টি নন্দন ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন শহীদ নূর হোসেন সে মঠবাড়িয়ার গর্বিত সন্তান । শহীদ নূর হোসেনের একটি ভাস্কর্য নির্মাণ মঠবাড়িয়াবাসির দীর্ঘদিনের দাবি। প্রথম শ্রেণীর একটি পৌরসভায় কোনও শিশু পার্ক নেই। নেই কোনও ইকোপার্ক ফলে নাগরিকরা বিনোদনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত।

এ মতাবস্থায় মঠবাড়িয়া উপজেলা শহরের বেদলকৃত খাল পুরুদ্ধার করে খালের নব্যতা ফিরিয়ে আনা, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের পাশে বালুর মাঠে শিল্পকলা একাডেমী ভবন ও মুক্তমঞ্চ গড়ে তোলা, শহীদ নূে হোসেনের ভাস্কর্য স্থাপন, একটি শিশু পার্ক ও ইকো পার্ক নির্মাণের বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

অতএব জন্ক সমীপে সানুনয় আবেদন জনস্বার্থ বিবেচনায় পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া উপজেলায় উপরোক্ত জনদাবি সমূহ যাতে আপনার সদয় বিবেচনায় যথারীতি বাস্ত হয় তার জন্য মঠবাড়িয়া প্রবাসি ও মঠবাড়িয়াবাসির পক্ষ থেকে বিনীত আবেদন জানাই।

বিনীত নিবেদক,
মো. মাইনুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ
ফিনল্যাণ্ড শাখা।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন