মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি >>

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার আমড়াগাছিয়া ও বেতমোর ইউনিয়নের সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। উপজেলার গোলবুনিয়া সীমান্তবর্তী ও বেতমোরের জানখালী গ্রামের সাংরাইল খালের ওপর লোহার স্লিপার সেতুটি এলাকাসি মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে নিত্য পারাপার হচ্ছেন। গত পাঁচ বছর ধরে লোহার স্লিপার সেতুটির নাজুক অবস্থা বিরাজ করলেও সেতুটি সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেই।

এতে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বেহাল সেতুটি পারাপার হতে গিয়ে প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

ভূক্তভোগি এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, পিরোজপুর জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ২০/২২ বছর পূর্বে নির্মিত এ স্লিপার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত পাঁচ বছর আগে সেতুটির স্লিপার নষ্ট ও লোহার কাঠামো মরচে ধরে নাজুক অবস্থা বিরাজ করে। ফলে সেতুটি বর্তমানে ধসে পড়ার দশা। সেতুর সিমেন্টের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এ নাজুক সেতুর ওপর গাছ ও গাছের চেড়াই কাঠ ফেলে কোনমতে এলাকবাসি চলাচল করছেন।

স্থানীয় ৭৮ নম্বর জানখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন জানান, চলাচলে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী এই ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। ফলে প্রতিদিনই কোন না কোন শিক্ষার্থী সেতু পারাপারে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সেতুটি পুননির্মাণ জরুরী।

এ বিষয়ে আমড়াগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিল ফরাজী জানান, সেতুটির চরম দুরাবস্থা বিরাজ করছে। প্রতিদিন বেতমোর-আমড়াগাছিয়া ও বড়মাছুয়া ইউনিয়নের এলাকাবাসি যাতাযাত করেন। এছাড়া সেতু সংশ্লিষ্ট একটি প্রাথমিক, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জেলা পরিষদকে অবহিত করলেও এটি সংস্কারের কোন উদ্যেগ নেওয়া হচ্ছেনা।

এ ব্যাপারে পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী তোফায়েল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ সদস্য এ সমস্যার বিষয়টি আমাকে লিখিত ভাবে জানালে এ জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন