মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি >>

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজিকে সরকারী কর্মসূচি চলকালিন একটি স্কুলে অবরুদ্ধ করে তার  ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় মৎস্য দিবসে মৎস্য সংরক্ষণ আইন ও চাষ বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ে উপজেলার সাপলেজা মডেল স্কুল মিলনায়তনে আয়োজিত অনষ্ঠানস্থলে আজ সোমবার এ ঘটনা ঘটে। হামলায় এমপি ডা. ফরাজি অক্ষত রয়েছেন ।   এ হামলা চেষ্টার অভিয়োগে সাংসদ ডা. ফরাজির ব্যাক্তিগত সহকারী মো. মাছুম বিল্লাহ বাদি হয়ে ১০জনকে আসামী করে আজ সোমবার বিকালে মঠবাড়িয়া থানায় সরকারী কাজে বাঁধা ও সংসদ সদস্যের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলাটি নথিভূক্ত হওয়ার বিষয়টি মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত)মো. মাজহারুল আমীন নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় সাপলেজা ইউনিয়নের কচুবাড়িয়া গ্রামের মো. শহীদুল ইসলামের ছেলে মো. পলাশ, সাপলেজা গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম ও বুখইতলা গ্রামের মো. মোস্তফা ডিলারের ছেলে মো. সুমন মিয়াসহ ১০জনের নাম উল্লেখ করে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০/২৫জনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে জানাগেছে, আজ সোমবার দুপুরে পৌনে একটার দিকে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা মতস্য অধিদপ্তর স্থানীয় সাপলেজা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মৎস্য সংরক্ষণ আইন ও মৎস্য চাষ বিষয়ে একটি উদ্বুদ্ধকরণ সভার আয়োজন করে। সরকারী এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজি প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত হন। প্রধান অতিথি ডা. ফরাজির বক্তব্যের পূর্বে অভিযুক্ত আসামীরা  সংসদস্যকে অবরুদ্ধ করে অতর্কিতে হামলার চেষ্টা চালায়।  পরে আশপাশের লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে অভিযুক্তরা  ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ বিষয়ে সাপলেজা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, স্কুলে সরকারী কর্মসূচির ভ্যেনু ব্যবহার করতে দিতে হয়েছে। তবে ক্লাস বন্ধ রেখে নয়। দুইটি বিষয়ে পাঠদান শেষে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে স্থানীয় কতিপয় যুবক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাংসদ ফরাজিকে বক্তব্য দিতে বাঁধা দিলে কিছু সময় বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে সরকারী কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয় স্থানীয় সাপলেজা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিরাজ মিয়ার নেতৃত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো. মিরাজ মিয়া পাল্টা অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন , কোমল মতি তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ করে মেঝেতে বসিয়ে সমাবেশ করা হয়। ওই সমাবেশে এমপি সাহেব আমিসহ আমার দলের নেতা কর্মীদের সন্ত্রাসী ও ডাকাত বলায় এলাকাবাসী ও আমার নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ঘন্টা খানেক তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজি বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। সরকারী কর্মর্সূচি পণ্ড করতে ও  আমার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজের নির্দেশে আমার ওপর পরিকল্পতিভবে হামলার চেষ্টা চালানো হয়।

মঠবাড়িয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী শাহ্ নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারী কর্মসূচিতে বিশৃংখলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংসদকে পুলিশী প্রহরায় মঠবাড়িয়া নিয়ে আসা হয়।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন