পিরোজপুর প্রতিনিধি <>
পিরোজপুর জেলা সদরের বাইপাস সড়কে অবস্থিত সার্জিকেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টারের ডাক্তার বিজয় কৃষ্ণের বাসার গ্রিল ও তালা কেটে বাসার মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত তিনটায় চুরির ঘটনায় জড়িত ওই ক্লিনিকের জেনারেল ম্যানেজার পুলকদাস সহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্যরা হলো ব্যবস্থাপক অসীম মজুমদার,ইলেক্ট্রিশিয়ান দিনেশ বিশ^াস, ওয়ার্ডা বয় সুজন হালদার, নিরাপত্তা কর্মী সত্তার খান, মেডিকেল অ্যাসিষ্ট্যান্ট সুধীর মজুমদার, কম্পিউটার অপারেটর সবিনয় ভক্ত ও চিপ নিরাপত্তা কমী ইমন শরীফ। তবে এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে এই চুরির নেপথ্যে রয়েছে সার্জিকেয়ার ক্লিনিকটি দখলের চেষ্টা।
সার্জিকেয়ার ক্লিনিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাসার তালা ও গ্রিল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে বাসার ব্যবহৃত আসবাবপত্রসহ অন্যান্য সকল জিনিস পত্র নিয়ে পাশের একটি কক্ষে তালা বদ্ধ করে রেখেছিলো ওই ক্লিনিকের কর্মচারিরা। ডাক্তার বিজয় কৃষ্ণ হাওলাদারের স্ত্রী পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ গীতা রাণী মজুমদার এ ব্যপারে বলেন, আমি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজে গত ২৪ মে ঢাকায় যাই। বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে এসে দেখি বাসার আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সবই চুরি গেছে। চোরেরা শুধুমাত্র একটি মাদুর বিছিয়ে রেখে গেছে। এর পর আমি পুলিশে খবর দেই। পুলিশ এসে কিছু জিনিষ পত্র খুঁজে বের করে দিয়েছে। আমাদের উৎখাত করার জন্য নায়ক জায়েদ খানের ভাই পিন্টু গত দুই বছর যাবত আমাদের উপর নির্মম নির্যাতন কারে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এসময় গীতা মজুমদারের মেয়ে অনন্যা হাওলাদার জানায়, আমার বাবাকে ওবায়দুল হক পিন্টু মেরে ঝিনইদাহের কালিগঞ্জে একটি রেল লাইনের পাশে রেখে এসেছিলো। ওইখানের লোকদের সহযোগীতায় আমার বাবা প্রাণে বাঁচে। এরপর ২০১৬ সালের ২১ মার্চ গভীর রাতে অন্ত্রজ¦ালা সিনেমার শুটিংএর কথা বলে আমাদের দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলার সাথে সাথে ওবায়দুল হক পিন্টুসহ একদল সন্ত্রাসীরা আমার মাথায় পিস্তল ধরে আমাকে আর আমার মাকে বেঁধে ফেলে। এর পর একটি এম্বুলেন্সে করে ঝাটকাঠি এলাকার একটি নির্জন বাড়িতে রেখে ওখানেই আমাদের থাকতে বলে। এ কথা কাউকে বললে প্রাণে মারার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয় গন্যমান্যরা আমাদেরকে আবার ক্লিনিকের বাসায় ফিরিয়ে আনেন। এর পর থেকে পিন্টু আমাদের বাসার বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেয়। এমনকি রান্নার জন্য সিলিন্ডার গ্যাস বাসায় আনতে বাঁধা দেয়। এদিকে এ বিষয়ে ওবায়দুল হক পিন্টুর কাছে জানতে চাইলে পিন্টু বলেন, বিজয় কৃষ্ণের কাছ দুই কোটি টাকা মূল্য পরিশোধ করে ক্লিনিকের এক অংশ ক্রয় করি। অন্য অংশও আমার কাছে বিক্রি করার কথা বলে, আরও ৮৭ সাতাশি লক্ষ টাকা নেয়। যার প্রমান আমাদের কাছে আছে। এখন আমদের টাকাও দেয় না। ক্লিনিকও বুঝিয়ে দেয় না।
এ ব্যপারে গীতা রাণী মজুমদার বলেন, তারা যে কাগজ পত্রের কথা বলছে তা সঠিক নয়।
চুরির বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির বলেন, গীতা রাণী মজুমদার অভিযোগ করার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক ভাবে তল্লাশী চালিয়ে পাশের একটি কনফারেন্স রুম থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এর পর গীতা রাণীর মামলার এজাহার অনুযায়ী ঘটনার সাথে জড়িত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তাকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশি সহয়াতা প্রদান করা হয়েছে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন