আজকের মঠবাড়িয়া অনলা্ইন ডেস্ক >>

রাখাইনে যখন আগুন জ্বলছে, রোহিঙ্গারা যখন পালিয়ে যাচ্ছে; এমন সময়েই মিয়ানমারের পুরো জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি। এই ভাষণেই তিনি প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলবেন।

তার এই ভাষণের উদ্দেশ্য রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর চলমান জাতিগত নিধনযজ্ঞের ফলে বিশ্বব্যাপী যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে তা একটু প্রশমিত করা।

অথচ দেশটির সেনাবাহিনীকে তিনি কিছুই বলছেন না। যে সেনাবাহীনি তাকেও বহুবছর বন্দী করে রেখেছিল। আর এখন পুনরায় নিজেদের হিংস্র দাঁত দেখাচ্ছে।

দীর্ঘ ৫০ বছরের সামরিক শাসনের পর গত বছর সু চি মিয়ানমারের প্রথম বেসামরিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কিন্তু এরপরও সেনাবাহিনীর জেনারেলরা দেশটির ক্ষমতার মূল চাবিকাঠিগুলো কব্জা করে রেখেছে।

মঙ্গলবারই সু চি ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে বড় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এবারই প্রথম সু চি রাখাইনে চলমান রোহিঙ্গা নিধন ইস্যুতে কথা বলবেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই ভাষণেই সেনাদের রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযান বন্ধে শেষ সুযোগ পাবেন সু চি।

‘তিনি (সু চি) যদি অবস্থার পরিবর্তন না করেন, তাহলে আমি মনে করি এই ট্র্যাজেডি ভয়াবহ রূপ নেবে এবং এর পর আগামী দিনে এই সমস্যা কীভাবে বদলাবে, তার দিশাও আমি দেখছি না’, বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব।

সু চি-র মঙ্গলবারের ভাষণটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠকের আগে আগে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা নিধন ইস্যুতে মিয়ানমারের কড়া সমালোচনা করবে বিশ্ব সম্প্রদায়।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গা নিধন থেকে সেনাবাহিনীকে থামানোর ব্যাপারে সু চি-র ক্ষমতা খুবই সীমিত। আর তার প্রতিক্রিয়া দেখেও বুঝা যায় তিনি তার সরকারের ও নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষেই থাকবেন। তিনি ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার সরকার এবং সেনাবাহিনীর সম্পর্ককেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করাটা তার প্রধান বিবেচ্য বিষয় নয়। এমনটাই মত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ফ্রাঙ্কিস ওয়েড এর। যিনি ‘Myanmar’s Enemy Within: Buddhist Violence and the Making of the Muslim ‘Other” নামের একটি বইয়ের লেখক।

এছাড়া দেশটির জনসংখ্যার বেশিরভাগও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মতোই রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে ‘বাঙ্গালি’ মনে করে। তাদের দাবি এই বাঙ্গালিরা বৌদ্ধদের জমি ও সম্পদ কেড়ে নিয়ে সেখানে বসতি গড়েছে।

ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কথা শুনলে সু চি-র তার নিজ দেশের মানুষের আস্থা হারানোর ভয়ও আছে।

শনিবার মিয়ানমার সেনা প্রধানের ফেসবুক পোস্টেও এই মতেরই প্রতিফলন দেখা যায়। যেখানে তিনি রোহিঙ্গাদেরকে ‘চরমপন্থী বাঙ্গালি সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া তার লেখায় রোহিঙ্গাদেরকে বহিরাগত বলেও আখ্যায়িত করা হয়। বলা হয়, রোহিঙ্গারা কখনোই মিয়ানমারের নিজস্ব নৃগোষ্ঠী ছিল না।

রোহিঙ্গাদেরকে আন্তর্জাতিক ইসলামি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গেও যুক্ত করে দেখা হয়। যারা রাখাইন দখল করে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। গত ২৫ আগস্টের হামলাকেও এমন একটি আন্তর্জাতিক ইসলামি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সু চিও সম্প্রতি রাখাইনে ইসলামি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কোনো হামলা চালানোর কথাও অস্বীকার করেছেন তিনি। ফলে মঙ্গলবারের ভাষণে রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে সু চির কোনো বক্তব্য থাকবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া ওই নিধনযজ্ঞে ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এছাড়া ৩০ হাজার রাখাইন বৌদ্ধ এবং হিন্দুও আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সূত্র: দ্য ডন ও কালের কণ্ঠ

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন