মঠবাড়িয়ার আমড়াগাছিয়ায় জোড়া খুন ও এক ব্যক্তি নিখোঁজ: ম্যাগনেটিক পিলার দ্বন্দ্বের সন্দেহ, এলাকায় চরম আতঙ্ক

​নিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের মঠবাড়িয়া ডট কম
​পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ। রবিবার (৩১ মে) সকালে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। একই রাতে ওই এলাকা থেকে আরও এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একের পর এক খুন এবং সর্বশেষ এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দুজন হলেন আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুর রশিদ এবং একই এলাকার মো. কালু মিয়ার ছেলে সাগর। শনিবার (৩০ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আব্দুর রশিদকে বাড়ি থেকে কে বা কারা ডেকে নিয়ে যায়। পরে আজ ভোরে নেহালিয়া মাদরাসার পাশের মক্তবখানা এলাকায় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। অন্যদিকে, একই রাতে এক সন্তানের জনক সাগরকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহত রশিদের স্ত্রী ময়না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “গভীর রাতে কে বা কারা তাকে ফোন দিয়ে নিয়ে যায়। আমি যেতে নিষেধ করেছি, তাও শোনেনি। সকালে ফিরে আসলো লাশ হয়ে।”

​জোড়া খুনের এই ভয়াল রাতেই আমড়াগাছিয়া গ্রাম থেকে মোহাম্মদ ইউসুফ প্যাদা নামের আরও এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। মৃত হাজী আব্দুস সাত্তার প্যাদার ছেলে ইউসুফকে শনিবার রাত ১০টায় সর্বশেষ সাপলেজা-আমড়াগাছিয়া সংযোগ ব্রিজের ওপর দেখা গিয়েছিল। তার কোনো সন্ধান পেলে ০১৭৯৭১৬৯৬৮০ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করেছে উদ্বিগ্ন পরিবার। এই জোড়া খুনের প্রকৃত কারণ বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসীর মধ্যে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে যে, ম্যাগনেটিক পিলার সংগ্রহ করতে গিয়ে কোনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। নিখোঁজের ঘটনার সাথে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়েও মানুষের মাঝে ভীতি বিরাজ করছে।

​খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ দুটি পুলিশের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে। সিআইডি টিম এলে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তিনি আরও জানান, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

About The Author

Leave a Reply