মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি: দারিদ্র্য যেখানে মেধার বিকাশে প্রধান অন্তরায়, সেখানেই আশার বাতিঘর হয়ে দাঁড়ালেন হৃদয়ে মঠবাড়িয়া ফাউন্ডেশন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অর্থের অভাবে যখন এক মেধাবী মাদরাসা শিক্ষার্থীর পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই তার হাতে প্রয়োজনীয় সব বই তুলে দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো সাবেক যুবদলের সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এর আর মামুন খানের ‘হৃদয়ে মঠবাড়িয়া ফাউন্ডেশন’।
উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম হোতখালির দিনমজুর বাবার সন্তান মো: বেল্লাল হাওলাদার। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, সেখানে নতুন ক্লাসের বই কেনা ছিল তার জন্য আকাশকুসুম কল্পনা। স্থানীয় বান্ধবপাড়া ছালেহিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম ২য় বর্ষের এই ছাত্রটি পুরোনো বা ধার করা বই দিয়ে কোনোমতে পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু আলিম পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয় সহায়ক বইয়ের অভাবে তার চোখেমুখে ছিল শুধুই হতাশা।
বেল্লালের এই জীবনসংগ্রামের খবর পৌঁছায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হৃদয়ে মঠবাড়িয়া ফাউন্ডেশন’-এর কাছে। বিষয়টি জানামাত্রই দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও যুবদল নেতা এ আর মামুন খান। তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে বেল্লালের হাতে তুলে দেওয়া হয় শিক্ষাবর্ষের প্রয়োজনীয় সকল নতুন বই।
দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বই হাতে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থী বেল্লাল। তিনি বলেন, “বই কেনার টাকা জোগাড় করা আমার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল। আমি ভেবেছিলাম হয়তো পড়াশোনা আর ঠিকঠাক হবে না। কিন্তু মামুন ভাই ও ফাউন্ডেশন আমার সেই ভয় দূর করে দিয়েছে। আমি কথা দিচ্ছি, ভালো রেজাল্ট করে আমিও একদিন মানুষের পাশে দাঁড়াবো।”
এ বিষয়ে এ আর মামুন খান আজকের মঠবাড়িয়াকে বলেন, “বইয়ের অভাবে মঠবাড়িয়ার কোনো শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে, এটা হতে দেওয়া যায় না। বেল্লালের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আমাদের মুগ্ধ করেছে। সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে এমন মেধাবীদের পাশে দাঁড়ান।”
স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষাবিদরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের সহযোগিতা শুধু একজন ছাত্রকে নয়, বরং পুরো সমাজকে আলোকিত করতে সাহায্য করে।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.