দুই কলেজ ছাত্রী গণধর্ষণ!মঠবাড়িয়ায় তিন আসামীকে ছয় মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ


মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সহপাঠীদের নিয়ে হরিনপালা ইকোপার্কে ঘুরতে গিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে দুই কলেজ ছাত্রী গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলার পলাতক তিন আসামীকে প্রায় ছয় মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, গত ১৩ আগষ্ট-২০২০ পাশ্ববতর্ী বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেনীর দুই ছাত্রী মার্কশীটসহ ভর্তির যাবতীয় কাগজ পত্র কলেজে জমা দেয়। পরে ওই দুই ছাত্রী ঘটনার দিন দুপুরে সহপাঠীদের নিয়ে মঠবাড়িয়া পৌরশহর হয়ে ইজিবাইক যোগে ভান্ডারিয়ার হরিনপালা ইকোপার্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। এসময় উত্তর মিঠাখালীর খোষালের বাড়ি নামক স্থানে যাওয়া মাত্র মঠবাড়িয়া-পিরোজপুর মহাসড়কের ওপর গাড়ী নষ্ট হয়। এরপর ইজিবাইকের যাত্রীসহপাঠী সোহাগ ও প্রতিবেশী শাহাদাৎকে ভয় ভীতি দেখিয়ে দু কলেজ ছাত্রীকে জোর পূর্বক স্থানীয় খলিলুর রহমানের (খলির বিডিআর) বখাটে নেশাখোর পুত্র শদিুল ইসলাম রানা (৩৫), টিয়ারখালী গ্রামের কালামের পুত্র মারুফ হোসেন ওরফে জুম্মন (২০) উত্তর মিঠাখালী গ্রামের সিদ্দিক ফরাজীর পুত্র সোহাগ (২৫) ও একই গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন কালোর পুত্র আবু বক্কর সাগর (২০) পরিকল্পিত ভাবে ওই বাড়ির সামনে সরকারী পুকুর পাড়ে তুলে নিয়ে চারজনে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর মোবাইলে ফোন দিয়ে দুই ছাত্রীর অভিভাবকদের কাছে টাকা দাবী করে।
এ ঘটনার পরের দিন এক কলেজ ছাত্রীর নানা বাদী হয়ে ঘটনায় জড়িত চারজনকে আসামী করে মঠবাড়িয়া থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ এ মামলার আসামী ঘটনায় জড়িত আবু বক্কার সাগরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। কিন্তু মামলার প্রধানসহ বাকী তিন আসামী গত প্রায় ছয়মাস ধরে পলাতক রয়েছে। সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান- রানা একজন ভয়ঙ্কর প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে একটি খুন ও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
এদিকে, মামলাটি দীর্ঘ তদন্তের পর স্বাক্ষ্য প্রমানে প্রাথমিক ভাবে ধর্ষণ প্রমানিত হওয়ায় গত ২৪ ডিসেম্বর’২০ আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন (যার অভিযোগপত্র নং ৫২০, তারিখ- ২৪ ডিসেম্বর’২০)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুজ্জামান মিলু জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। পলাতক তিন আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশি চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।
পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করলেও আসামীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। তবে জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সদা তৎপর রয়েছে।

About The Author

Leave a Reply