আল আমিনের শব্দাবলী


বিজয়ের মানে কি?

বিস্তৃত উঠোনটা, কুয়াশায় আচ্ছন্ন।
গাছের পাতাগুলোর মায়া ছেড়ে শিশির ঝড়ে পরছে টুপটাপ!
আজকে বিজয় দিবস।
পুরোনো একটি আলমিরা হতে,
একটি বাঁধানো ছবি বের করে,
আলতো করে ছুঁয়ে দিল, পরম যত্নে।
তার হাতটি অসম্ভব রকম কাপছে।
কিছুটা বৃদ্ধজনিত কারণে, আর কিছুটা শোকজনিত।

ওটা কিসের আওয়াজ?
ছোট্ট ছেলে-মেয়েরা বিজয় র‍্যালি করছে, বিজয়ের আনন্দ র‍্যালি।
একটু পরে, আরও একটা র‍্যালি, কিশোরদের।
ওরা কি জানে, বিজয়ের মানে কি?

আলমিরা হতে,
আবার ছবিটি বের করল, সাথে কিছু কাগজ।
আলতো করে ছুঁয়ে দিল একবার।
বাঁধানো ছবিটার কপালের কাছে চুমু খেল একবার।
মনের অজান্তেই,
চিবুক বেয়ে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পরল ঠিক ছবিটার বুকের কাছে।
ছবিটা আর কাগজগুলো আবার গুছিয়ে রাখল।
এরপর বৃদ্ধ জননী উঠে দাঁড়ালো–
উঠোন পেরিয়ে পুকুরের ঘাট, ছোট রাস্তা—
অতঃপর সেই মাঠে এসে দাঁড়ালো।

এখানটাতে, হ্যাঁ এখানটাতে–
ঝরে পরেছিল রক্ত, এখনো স্পষ্ট মনে আছে।
বাতাসেরা উড়িয়ে নিয়ে গেছে রক্তমাখা বালু।
ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে বৃষ্টির জল।

হে বৃষ্টির জল, হে বাতাসের দল–
উড়িয়ে নিয়ে গেছিস রক্তমাখা বালু!
ধুয়ে মুছে করেছিস সাফ!
কিন্তু, কিন্তু সেই ছবিটি এখনো রয়ে গেছে আমার মনের ভেতর।
এখনো ভাসছে আমার চোখের সামনে, রক্তচিহ্ন।
পারলি নাতো সেখানটাতে পৌঁছে
আমার বুকের ভেতর হতে মুছে দিতে সেই রক্তচিহ্ন, পরলি নাতো!

হে বিক্ষুব্ধ বাতাসের দল—
পারলি নাতো আমার মনের ভেতর হতে সেই চিহ্ন মুছে দিতে।

এরপর, নিরব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ!
আর মনে মনে একটাই প্রশ্ন করে, বারবার–
বিজয় মানে কি?

About The Author

Leave a Reply