
আজ ১৪ ডিসেম্বর। বেদনাময় দিন। ১৯৭১ সালের শুরুতেই হানাদার পাকিস্তান বাহিনী বুঝতে পারে যে, বাংলাদেশ স্বাধীন হবে। স্বাধীন বাংলাদেশ যাতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সেজন্যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড সংঘটিত করে। বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করে আল বদর বাহিনী। আল বদর বাহিনী গঠিত হয়েছিল প্রধানত জামায়াত – ই -ইসলাম এবং ছাত্র সংঘের কর্মী ও সমর্থকদের দ্বারা। মুক্তিযুদ্ধ কালীন তারা হত্যাকান্ড পরিচালনা করলেও ডিসেম্বর মাস শুরুতেই তারা মরণ কামড় দেয়। আল বদর বাহিনীর নৃশংসতা সম্পর্কে জামায়াত- ই -ইসলামীর মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় ১৪-৯-১৯৭১ তারিখে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছেঃ
আল বদর একটি নাম।একটি বিস্ময়। আল বদর একটি প্রতিজ্ঞা। যেখানে তথাকথিত মুক্তি বাহিনী আল বদর সেখানেই। যেখানেই দুষ্কৃতকারী আল বদর সেখানেই। ভারতীয় চর কিংবা দুষ্কৃতকারীদের কাছে আল বদর সাক্ষাৎ আজরাইল।
এ নৃশংস হত্যাকান্ড চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। ডিসেম্বর মাস শুরুতে হত্যাকান্ড বেড়ে যায় আর১৪ -১৫ ডিসেম্বর সর্বাধিক বুদ্ধিজীবী হত্যা করে।
প্রশ্ন হচ্ছে বুদ্ধিজীবী কারা? এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত “শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ” নামে যে গ্রন্হ প্রকাশ করেছে তাতে বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ” বুদ্ধিজীবী অর্থে লেখক, বিজ্ঞানী,শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা, চিত্র শিল্পী, কন্ঠ শিল্পী, চলচ্চিত্র ও নাটকের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি,সমাজসেবী ও সংস্কৃতিসেবী।”
স্বাধীনতা লাভের পর সরকারীও বেসরকারীভাবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রকাশ করা হয় নি। তবে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয় ” বাংলাদেশ ” নামে একটি প্রামান্য গ্রন্হ প্রকাশ করে। এতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের একটি অসম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে মোট ৯৮৯ জন শিক্ষাবিদ সহ ১১০৯ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা বর্ণিত আছে। এ তালিকায় ৬৩৯ জন প্রাথমিক, ২৭০ জন মাধ্যমিক , ৫৯ জন কলেজ এবং ২১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সহ ৯৮৯ জন শিক্ষাবিদ শহীদ হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ জন। এ ১৭ জনের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের ৩ জন। এছাড়া, ৪১ জন আইনজীবী, ৫০ জন চিকিৎসক, ১৩ জন সাংবাদিক, ৮ জন গণপরিষদ সদস্য এবং ১৬ জন কবি-সাহিত্যিক,প্রকৌশলী ও সরকারী কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে আরো অনেক শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম পাওয়া গিয়েছে। “মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আইনজীবী ” গ্রন্হে ৬৪ জন আইনজীবীর তালিকা বর্ণিত আছে। তৃনমুল পর্যায়ে অনুসন্ধান করা হলে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।আমি সকল শহীদগণের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ হাফিজ।







Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.