
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগ নেতা শুভ শর্মার ডান হাতের কবজি কেটে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও রাজনৈতিক ইস্যু সাজিয়ে মিথ্যা আসামী প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামীলীগ এর দলীয়
কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন ফেরদৌস আহম্মেদ ফেরদৌস লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিককালে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শুভ শর্মার ওপর কতিপয় দুস্কৃতিকারী তরুণ স্থানীয় পূর্ব বিরোধের জের ধরে হামলা চালায়। এসময় শুভ শর্মার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ নির্মম ঘটনা খুবই বেদনা দায়ক। মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এঘটনায় অত্যান্ত মর্মাহত।
উপজেলা আওয়ামীলীগ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, ছাত্রলীগ নেতা শুভর ওপর হামলার ঘটনা কোন রাজনৈতিক বিষয় নয়। প্রতিপক্ষদের সাথে মোবাইল ফোন ও পূর্ব বিরোধে এ নৃসংশতার ঘটনা ঘটেছে। যা অত্যান্ত অনাকাঙ্খীত। তবে এ ঘটনাকে রাজনৈতিক ফয়দা
লোটার জন্য একটি মহল উপজেলা আওয়মী লীগকে নতুন করে বিতর্কীত করার পায়তারা চালাচ্ছে। ঘটনার দিন রাতে শুভর ওপর হামলার বিচারের দাবীতে ছাত্রলীগের কিছু নেতা কর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। ওই মিছিল হতে কতিপয় উশৃঙ্খল তরুণ
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস এর বাস ভবন ও মঠবাড়িয়া আওয়ামী লীগ অফিস কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পৌর সভার সরকারী গাড়ী ভাংচুর করে। যা পুলিশ এসে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রন করে। এঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
প্রকাশ থাকে যে ছাত্রলীগ নেতা শুভর ওপর হামলা প্রতিপক্ষের অভ্যান্তরিন বিরোধ। একটি মোবাইল ফোন সেটসহ তাদের ব্যক্তিগত বিরোধে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। যাহা শুভ শর্মার নিজ এলাকার ঘটনা। যা মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ অবগত আছে।
অপরাধিরা দলের অঙ্গ সংগঠনে জড়িত থাকতে পারেন, কারও অনুসারী হতে পারে। কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত সন্ত্রাসী কার্যকালাপের দায় দলের নয়। তাই প্রকৃত অপরাধি আইনের আওতায় আসুক। নিরাপরাধ কেউ যেন উদ্দেশ্যমূলক হয়রানির শিকার না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এদেশে যত মাদক, সন্ত্রাসী কার্যকালাপ, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ সংগঠিত হয়। এ সব অপরাধীরা কোন ব্যক্তি, কোন দল, কোন পক্ষ ও কোন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠিত করে থাকে। এই সব অপরাধীরা কোন না কোন পরিবারের সন্তান। এদের অপরাদের দায় অপরাধীর একান্ত ব্যক্তিগত। এতে কোন
রাজনৈতিক তকমা লাগালে এর বিচার বিলম্ভিত ও বিচার নানাভাবে প্রভাবিত হয়ে বাঁধাগ্রস্ত হয়। এতে সমাজও রাষ্ট্রের অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বিভিন্ন সঙ্কটে নিমজ্জিত হয়। রাজনৈতিক হীন স্বার্থে নামীয় ১৮ জনসহ অজ্ঞাত আরও ২০জনকে আসামী করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় যারা জড়িত এর বাইরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েক জন নেতা কর্মীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা আসামী করা হয়েছে। যা উপজেলা আওয়ামী লীগকে নতুন করে সাংগঠনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও হয়রানীর অপচেষ্টা।
উপজেলা আওয়ামীলীগ আশা প্রকাশ করে যে, ছাত্রলীগ নেতা শুভর ওপর হামলায় জড়িতরা আইনের আওতায় আসবে। এছাড়া নিদোর্ষ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা কর্মীরা এ মিথ্যে মামলা থেকে রেহাই পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি মো. ফারুকউজ্জামান, সাধারন সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলতাব হোসেন আফজাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেনসহ দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।







Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.