
অনন্যা নুর একজন নারী উদ্যোগতা। মঠবাড়িয়ার তরুণ উদ্যোগতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ইতিমধ্যে ই-কমার্স ব্যাবসার মাধ্যমে তিনি স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন। আজকের মঠবাড়িয়াকে তিনি তার অনলাইন জবের অভিজ্ঞতা লিখে জানিয়েছেন । নিচে তার পাঠানো অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হলোঃ
২০১৫ সালে জীবনে প্রথমবার টাচ স্ক্রিন ফোন হাতে নিয়ে দেখলাম।বাসার সবাই সেটা ইউজ করতো।
সদ্য সদ্য এস এস সি পাস করেছি। পার্সোনাল ফোন তখনো ছিলো না।কমন টাই ভরসা।
চিরকালই আমি একটু কৌতুহল প্রিয়।
কিবরিয়া ভাইয়ার বদৌলতে গুগল করা শিখে নিয়েছিলাম।
তখন আমার ফেইজবুকও ছিলো না।বাসার সবার কমন একটা একাউন্ট।
যাই হোক সেটা থেকেই যা দেখার দেখতাম।
হঠাৎ একদিন সামনে এলো একটা পোস্ট।
“আপনি কি ঘরে বসে বেকার সময় নষ্ট করছেন? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে জব। বিস্তারিত জানতে ইনবক্স করুন ”
করলাম ইনবক্স। জব হচ্ছে প্রোডাক্ট সেল আর মেম্বার যুক্ত করা।যুক্ত হতে লাগবে ৩০০ টাকা আর নিজের বিকাশ একাউন্ট।
স্বাভাবিকভাবেই তখন না ছিলো এনআইডি,না ছিলো বিকাশ আর না ছিলো ৩০০ টাকা।
ভারাক্রান্ত মন কাজটা করতে পারলাম না বলে।
দিন যাচ্ছে এভাবেই।
সালটা ২০১৬।পলাশ ভাইয়া আমেরিকা যাওয়ার আগে একটা ট্যাব দিয়েছিলো।
ভাগ্যক্রমে সেটা আমার দখলে চলে আসলো। কিন্তু সিম কার্ড দেয়া হলো না।
ফেইজবুক একাউন্ট খুলছিলাম ২০১৫ এর লাস্ট এর দিকে।একা একা হটস্পট ব্যবহার করার কৌশল আয়ত্ত করলাম।কমন ফোনের ডাটা দিয়ে চালাতাম ট্যাব এ।
২০১৬ গেল, ১৭ ও গেল কাজের কাজ কিছুই হলো না।
সালটা ২০১৮। কলেজ পাস করলাম। অনার্স ভর্তি হলাম।অনলাইন নিয়ে ঘাটাঘাটি থামাইনি। হঠাৎ একদিন দেখলাম এদিকে রাস্তায় ছাতা দিয়ে বসে সিম কার্ড বিক্রি করছিলো রবি কোম্পানির এজেন্ট রা।রেজিষ্ট্রেশন করা সিম।পেলাম মোক্ষম সুযোগ। দামও বেশি না। মাত্র ৫০ টাকা।
কিনলাম লুকিয়ে।
ট্যাব এ ইউজ শুরু করলাম।আব্বুর আইডি কার্ড এর ফটোকপি ছিলো আমার কাছে।খুলে ফেললাম বিকাশ একাউন্ট।
সেই পুরোনো জব অফার করা মহিলার নাম তখনো ভুলি নি।নক করলাম। জিজ্ঞেস করলাম কাজটা এখনো করে কিনা।
উত্তর দিলো সেটা তো সেই ১৫ সালেই ছেড়ে দিছে।
জিজ্ঞেস করলাম কেন।
বললো অনেক ঝামেলা।
আমি দমে গেলাম না।
খুজতে লাগলাম সেই জাতীয় কাজ।এভাবে করতে করতে পেলাম ও কিছু কিছু।
প্রথম কাজঃ
একটা পেজ থেকে পেলাম প্যারাগ্রাফ রাইটিং জব।যুক্ত হতে হবে ৫০ টাকা দিয়ে। সপ্তাহে ৩০০ দিবে।
কাজ সপ্তাহে তিনটা প্যারাগ্রাফ জমা দিতে হবে আর মেম্বার যুক্ত করতে হবে। তারা যে ৫০ টাকা করে দিবে সেখান থেকে কমিশন পাবো।মেম্বার এড না করতে পারলে বেতন নাই।
করলাম এক সপ্তাহ।
আমি ফাদে পা দিলাম কিন্তু কাউকে প্রভাবিত করতে পারলাম না।বেতন ও পেলাম না।
রাগে দুঃখে দিলাম কাজ ছেড়ে।
২য় কাজঃ
ওই একই সিস্টেম।
যুক্ত হলাম ১৫০ দিয়ে। এবারের কাজটা প্রোডাক্ট সেল।নসিব এতই খারাপ কোনো প্রোডাক্ট সেল করতে পারলাম না।১৫০ টাকা নিয়ে কাউকে যুক্তও করতে পারলাম না।
বেতন হলো না।
এটাও মাসখানেক টিকেছিলো।
৩য় কাজঃ
মোবাইল নাম্বারে কোড বসানো আর কল দেয়া এবং সেগুলার স্ক্রিনশট ওদের দেখানো।
মেম্বার যুক্ত করতে হবে ৭০ টাকা নিয়ে।
এখানেও ফেইল।
আমি কিন্তু ৭০ টাকায় যুক্ত হয়েছিলাম।
গেল এবারে টাকাটাও।
৪ র্থ কাজঃ
নাহ আর কোনো পেজ নয় এবার ইউটিউবে খুজে একটা এপ পাইলাম।
আর্ন স্টেশন।
১৬০০ টাকা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে।
ভিডিও দেখে ৪০ ডলার হলেই উইথড্র করতে পারবো।
করলাম ইনভেস্ট। টাকাটা নানির থেকে ধার নিলাম।
( যে টাকা এখনো ২০২০ সালে এসেও ফেরত দেই নাই)
৪০ ডলার করলাম প্রায় দেড় মাস বসে। উইথড্র রিকোয়েস্ট পাঠালাম এরপর আর তাদের খবর নেই।
আমার তো মাথায় হাত। গেল আমার সব।
কাউকে মুখ দেখানোর উপায় নাই।
এভাবে টুকি টাকি আরো অনেক গুলো কাজে যুক্ত হয়েছিলাম সব লিখলাম না।
পরিনতি প্রতারিত।
২০১৮ সালেরই সব গুলো ঘটনা। আমি শুধু টাকা ঢেলেই গেলাম।
এক পয়সাও হাতে আসলো না।
এরপর একা একা ভাবতে লাগলাম এই যে জব গুলায় যুক্ত হলাম ওদের আসল কৌশল টা কি?
কি করাইলো আমাদের দিয়ে?(আমাদের বলার কারন আমার মত আরো অনেকেই থাকতো কাজ গুলোতে। যারা অন্যদের ফাদে ফেলতে পারতো তারা বেতন পেত। আর যারা না পারতো আমার মত পগারপার।)
রহস্যের কুল কিনারাও পেয়ে গেলাম।
আমাদের দেয়া এড ফি গুলা এই চক্রের লিডারের কাছে যেত।আমাদের মধ্যে কেউ অন্য নতুন দের যুক্ত করতে হলেও টাকা লিডারের বিকাশে দিতে হত।এভাবে ওনার অনেক জমা হতো। কিন্তু যারা নতুন করে যুক্ত না করতে পারতো তাদের বেতন দিতে হতো না।এটাই লিডারের লাভ।
আর যারা প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতো তাদের প্রোডাক্ট সেল হোক বা না হোজ পাবলিসিটি হতো অনেক। আমাদের পোস্ট গুলো থেকেই।এটাই ওদের গোপন কৌশল।
রাগে দুঃখে ছেড়ে দিলাম সব।
লাস্ট কাজঃ
বান্ধবী সুমাইয়া একটা কাজে নিলো যেখানে সে নিজেও কাজ করে। বিনা পয়সায় যুক্ত হতে পারলাম।
কাজ করলাম কিন্তু প্রোডাক্ট প্রাইজ এত হাই যে কাস্টোমার পাওয়া দুঃসাধ্য।
করলাম না এটাও।
অবশেষে ২০১৯ এ আমার শান্তির কাজঃ
আমার স্বপ্নের কাজ শুরু করলাম আর অনলাইনকেও ব্যবহার করা শিখলাম।
ফ্রেন্ড রিফাত, ইসমাত আর আমি তিনজন মিলে শুরু করলাম “ত্রিকোন অনলাইন শপ”
কিন্তু আমি যেভাবে মেম্বার যুক্ত করার যাতাকলে পড়েছিলাম সেই ধরনের কোনো পলিসি আমরা আমাদের ব্যবসায়ে যুক্ত করিনি। আমরা প্রতারনা বা লোক ঠকাতে আসি নি।
আমরাই মালিক, আমরাই ব্যবস্থাপক, আমরাই সেলসম্যান।
এভবেই চলছে পথচলা অবিরাম…..
(১৬-০৭-২০২০ইং)
বিঃদ্রঃ আমার এখন নিজের এন আইডি হয়েছে, সিম কার্ড হয়েছে, বিকাশ একাউন্ট ও হয়েছে এবং নিজের ইনকামে মোবাইল ফোনও হয়েছে।







Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.