দেবদাস মজুমদার : জন্মাবধি উঠে দাড়ানোর শক্তি তাদের নাই । তিন ভাই বোন মাটিতে গড়িয়ে
চলেন। একটি অসহায় পরিবারের দুই ভাই এক বোনের দুঃসহ জীবন। এ তিন
শারীরিক প্রতিবন্ধীর দিনমজুর বাবা তিনবছর আগে ও আর মা সাতবছর আগে
অসুখে ভুগে মারা যান। অতিদরিদ্র পরিবারটি তিন প্রতিবন্ধীর দিন কাটছে
অনাহারে। করোনা সংকট পরিবারটিকে আরও চরম কস্টে ফেলে দেয়।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের হোগলপাতি গ্রামের
প্রতিবন্দী তিন ভাইবোনের দুঃসহ জীবনের আখ্যান গত কয়েকদিন আগে
সামাজিক সাইটে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উর্মী
ভৌমিক দুর্গত পরিবারের তিন প্রতিবন্ধীর জাহাঙ্গীর কাজী (৩৫),আলমগীর কাজী
(৩০) ও তাদের প্রতিবন্ধী সাজেনুর আক্তার (২৫) এর জন্য তিনটি হইল চেয়ার আর
খাদ্য সহায়তা নিয়ে বাড়িতে হাজির হন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ইউএনও হুইল চেয়ার আর খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। এসময়
সহকারী কমিশনার (ভুমি) রিপন বিশ্বাস, উপজেলা বুদ্ধি প্রতিবন্দী কর্মকর্তা
মো. ফিরোজ আলম ও গ্রাম পুলিশ সদস্য হাচেন আলী উপস্থিত ছিলেন।
জানাগেছে, উপজেলার অতি দরিদ্র দিনমজুর আব্দুল মালেক কাজি ও মাজেদা বেগম
দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে জন্মা থেকে প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেন। গত সাত
বছর আগে বাবা মালেক ও মা মাজেদা অসুখে ভূগে মারা গেলে তিন ভাই বোন
চরম অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করেন। তাদেও হুইল চেয়ার না থাকায় প্রতিবন্ধী
তিন ভাইবোনের চলা ফেরা চলতো অতি কস্টে। অভাবের সঙ্গে লড়ে যাওয়া তিন ভাই
বোন বর্তমান করোনা সংকটে চরম দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
এর আগে স্থানীয় তরুণদেও মানবিক সংগঠন মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদ ও মঙ্গল
আলোয় ফাউণ্ডেশন নামে দুটি সংগঠন হতে অসহায় প্রতিবন্ধী তিন ভাই
বোনকে খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা পেঁৈছে দেওয়া হয়। কিন্তু তিন ভাইবোনের কোনও
হুইল চেয়ার না থাকায় তাদের চলচলে দুর্ভোগের পড়েন। পওর ইউএনও খাবর
পেয়ে তাদের তিনজনকে তিনটি হুইল চেয়ার প্রদান করেন।
এ বিষয়ে মঠবাড়িযা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উর্মী ভৌমিক বিষয়টি
নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারটির তিন সদস্য ভিষণ অসহায়। তাদের হুইল চেয়ার না
থাকায় ভিষণ কস্ট হচ্ছিল । তিনজনকেই হুইল চেয়ার দেওয়া ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া
হচ্ছে। পরিবারটির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহায়ণ প্রকল্প হতে একটি ঘর তুলে
দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেবো।










Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.