রোজা সম্পর্কে বিশ্ব বিখ্যাত অমুসলিম মনীষীগণের অভিমত

১. মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী বলেন যে, পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানেরা যে নিয়মে রোজা পালন করেন তা অতি উত্তম। মনের তাকিদে আমি মাঝে মাঝে এরকম উপবাসব্রত পালন করে থাকি, যদিও আমি একজন খাঁটি ব্রাহ্মণ। আমি প্রভাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো দ্রব্যই পান করিনা। রোজা মুসলমানদের আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। পবিত্র রোজা মুসলমানদের অাধ্যাত্মিক বাড়িয়ে দেয়। অধিকাংশ সময় আমি উপবাসব্রত পালনে অভ্যস্ত বলেই আমি মুসলমানদের পবিত্র রোজা সম্পর্কে আমার ব্যাক্তিগত অভিমত প্রকাশ করছি। খারাপ সে খারাপই, ভালো সে ভালোই; তা সে যে ধর্মেই হোক। ভালো-মন্দের বিচার এবং যাছাই করার অধিকার সবারই আছে।


২. বিজ্ঞানী মেঘনাথ সাহা বলেন যে, মুসলমানেরা রোজা বা উপবাসব্রত একনিষ্ঠ মনে পালন করাকে আমরা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি যে রোজা পালনের ফলাফল অত্যন্ত মঙ্গলময়। কারণ, রোজা পালনে পেটের অভ্যান্তরীণ গোলযোগ দূর হয়। আমি মাঝে মাঝে উপবাসব্রত পালন করে এই উপকার পেয়েছি। এতে আমার ধারণা হয়েছে যে, মুসলমানেরা যে নিয়মে রোজা পালন করেন, তাতে তাদের পেটের কোনো গোলযোগেই তারা কোনো কষ্ট পাননা৷ এছাড়া রোজা পালনে তাদের যথেষ্ট পূর্ণ হয়। একমাসে রোজা পালন অত্যন্ত সুন্দর। রমজানের পর বাকী এগারো মাস যেমন অসুন্দর তেমনি, ক্ষতিকর।


৩. ডাঃ লিও ফার্ট বলেন যে, পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানেরা যে রোজা পালন করে থাকেন, সে রোজার ফলাফল যদি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা হয়, তাহলে দেখা যায় যে রোজা দেহের জন্য অত্যন্ত হিতকর একটি টনিক। রমজান মাসে মুসলমানেরা অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকেন।


৪. হেনরী মূর বলেন যে, রমজান মাসের রোজা পালনের মাধ্যমে অসামাজিক কার্যকলাপ, কতিপয় ব্যক্তিগত সমস্যা ও রোগ-শোক এবং মিথ্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আমি এ মহা সত্যকে স্বীকার করছি যে, রোজা পালন করার কঠোর নির্দেশের মধ্যে প্রচ্ছন্ন রয়েছে মানবের পবিত্র সুন্দর চরিত্র গঠনের ঐশী অবদান।


৫. সি. ফ্রয়েড বলেন যে, রোজা পালন মানুষের পাপ এবং অপরাধমূলক কার্যকালাপ থেকে বিরত রাখার চমৎকার একটি ওষুধ।


৬. ডাঃ রিচার্ড বলেন যে, নিয়মিত রোজা পালন করা উচিত। আমি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে আমার খৃষ্টান বন্ধুদের পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন এ ব্যাপারে মুসলমানদেরকে অনুসরণ করে রোজা পালন করে।


৭. ডাঃ জি. সি. গুপ্ত বলেন যে, ইসলাম ধর্মে রোজা পালনের যে আদেশ রয়েছে তা মানুষের আত্মিক এবং দৈহিক মঙ্গলের জন্যেই। রোজা সত্যিই উপকারের আকর। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।


৮. ডাঃ এম. ক্লাইভ বলেন যে, রোজা পালন করলে কয়েক ধরনের রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। শ্লেষ্মা-কফজনিত রোগ দূর হতে বাধ্য।


৯. ডা. এডওয়ার্ড নিক্সন বলেন, রোজা পালনের মধ্যে অসংখ্য উপকার নিহিত রয়েছে। রোজার মাস শেষ হওয়ার পরে সপ্তাহে একদিন রোজা পালন করা হলে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কারণ, রোজা পালনের মাধ্যমে কতগুলো রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। খাবার দ্রব্যগুলোর মধ্যে যত ক্ষতিকর ও দূষিত পদার্থ বিদ্যমান রয়েছে এগুলোর কোনটাই প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।

নূর হোসাইন মোল্লা,

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক,

গুলিশাখালী জিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়

তথ্যসূত্রঃ মাসিক অগ্রপথিক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জানুয়ারি ১৯৯৭

About The Author

Leave a Reply