মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃবৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রকোপে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় অভিনব মানবিক উদ্যোগ হাতে নিয়েছে মঠবাড়িয়ার কে,এম, লতীফ ইনস্টিটিউশন অ্যালামনাই এসোসিয়েশন। দক্ষিন বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ কে, এম, লতীফ ইনস্টিটিউশনের প্রক্তন শিক্ষার্থীদের সর্ববৃহৎ এ প্লাটফর্মে একত্রিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির অর্ধ শতাধিক ব্যাচ। জানা যায় যে, প্রতিটি ব্যাচের উদ্যোগে বাৎসরিক ইফতার পার্টি ও ঈদ পুনর্মিলনীতে যে অর্থ ব্যয় করা হত এ বছর সেই অর্থ দিয়ে “প্রাক্তনীদের সমন্বয়ে সম্মিলিত তহবিল” নামে একটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে। তহবিল থেকে কে,এম, লতীফ ইনস্টিটিউশন পরিবার তথা সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মচারীদের মধ্যে সংকটাপন্নদের প্রথমে এবং পরবর্তী ধাপে অন্যান্যদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানা যায়। ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের ‘৯৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও তহবিল গঠন কার্যক্রমের অন্যতম সমন্বয়ক জুলহাস শাহিন বলেন যে, ” প্রস্তাবিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি ব্যাচ থেকে আর্থিক অনুদান সংগ্রহ করছি। ঈদের পূর্বেই আমরা প্রথম ধাপে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াব।”
প্রতিষ্ঠানটির ২০০৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী কামরুল আহমেদ রচি বলেন যে,” মানবিক সকল উদ্যোগের সাথে বরাবরের মত এবারও তারা সাথে থেকে শুভ উদ্যোগটি সফল করতে চান।”
দেশে-বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের প্রানের প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এরকম উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ। এরকম উদ্যোগের সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান সিফাত বলেন যে, “বর্তমান সংকট মোকাবেলায় সকল ধরনের অপরাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে দল মত নির্বিশেষে এক হয়ে মানবিক এ উদ্যোগটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিৎ। ” সংকটকালীন মুহূর্তে মানুষের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কার্যক্রমের অন্যতম সমন্বয়ক ডাঃ রাকিবুর রহমান বলেন “খাদ্য সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি আমরা প্রয়োজনে চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিব।” উল্লেখ্য, ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ সবসময়ই সংকটকালীন মুহূর্তে মানুষের পাশে থেকেছে। এবারের উদ্যোগটিও তেমনি পূর্বসুরিদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। নিজেদের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে উদ্যোগটির অন্যতম সমন্বয়ক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির মোঃ খালিদ বলেন যে, ” বৈশ্বিক এই সংকটে সাময়িক বিপর্যয়ে থাকা পরিবারগুলোকে খাদ্য ও চিকিৎসা বন্দোবস্ত করনে যেন একা লড়াই করতে না হয় আমরা সেটাই নিশ্চিত করতে চাই। সে লক্ষ্যেই আগামী ১০/০৫/২০২০ ইং তারিখের মধ্যে প্রাক্তনীরা মিলে তহবিল গঠন করে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই আমরা।”
মানবিক এই উদ্যোগটি নিয়ে ইতোমধ্যেই জনমনে আশার সঞ্চয় হয়েছে।









Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.