দেবদাস মজুমদার: পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় শুরু থেকে লড়াই চালাচ্ছেন একজন জনপ্রতিনিধি মিরাজুল ইসলাম। তার ব্যাক্তিগত সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ এখন উপকূলের মানুষের মুখে মুখে। তিনি তার নিজ এলকা ভান্ডারিয়ায় করোনা মোকাবেলায় যে ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন তা এখন দৃষ্টান্ত হওয়ার পথে।
ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে ব্যক্তিগত অর্থায়নে উপজেলার জনসাধারণকে করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ভাইরাসের কারনে কর্মহীন শ্রমজীবি মানুষের খাদ্য সংকট লাঘবে দুর্গত মানুষের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা জনপ্রতিনিধিদের অনুসরণ যোগ্য।
সময়ের এই সংকটে এ জনপ্রতিনিধির নিবেদিত উদ্যোগগুলো সমাজ ও মানুষের মাঝে এখন বেশ আলোচিত।
স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের শুরুতে এর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কি করতে হবে সে বিষয়ে অধিকাংশ জেলার ধারনা খুব একটা স্পষ্ট ছিলো না। তবে সারা দেশে সত্যিকার অর্থে ভাইরাসের বিরুদ্ধে যেসব অ ল সর্বোচ্চ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে, তার মধ্যে ভাÐারিয়া জনপদ অন্যতম। তাদের অভূতপূর্ব কার্যক্রম অন্যান্য অ ল এবং স্থানীয় সরকারের জন্য একটি সুন্দরতম দৃষ্টান্ত এখন।
ভান্ডারিয়া উপজেলায় প্রবেশের ৮টি পথ রয়েছে। পথগুলোতে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে । দেশে সংক্রমনের প্রাথমিক পর্যায় থেকে এসব পথ ব্যবহার করে যেসব যানবাহন শহরে ঢুকেছে, প্রত্যেকটি বাহন জীবানুনাশক স্প্রে দিয়ে জীবানুমুক্ত করার পর শহরে ঢোকার অনুমতি পাচ্ছে। শহর লক ডাউন হয়ে গেলে যারা হাঁটা পথে এবং জরুরি প্রয়োজনে শহরে প্রবেশ করছেন থার্মাল গান দিয়ে প্রাথমিক স্ক্রিনিং এর ভেতর দিয়ে তাদের যেতে হয় এবং মেশিনে টেম্পারেচার তারতম্য দেখা দিলে দ্রæতচিকিৎসকের পরামর্শে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এ জনপদে । এজন্য ৪০টি উন্নত প্রযুক্তির থার্মাল গান কেনা হয়েছে। হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, এসিল্যান্ডের কার্যালয়, থানা, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের বায়োলজিক্যাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠানে থার্মাল গান সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতি রাতে ভাÐারিয়া শহরের প্রধানতম ৩০ কিলোমিটার রাস্তা এবং শহরের প্রধান রাস্তাগুলো মোডিফাইড গাড়ি ব্যবহার করে জীবানুনাশক দিয়ে ধুয়ে ফেলা হচ্ছে।
যারা সর্দি, কাশি, জ্বরের মত গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য চালু আছে টেলিমেডিসিন সেবা। হাসপাতালে গিয়ে সংক্রমনের ঝুঁকি না বাড়িয়ে, প্রয়োজনে মেডিকেল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভান্ডারিয়া, ০১৩১০৫৫২০৬৬ এই নম্বরে ফোন করে সেবা নেন মানুষ। সার্বক্ষণিক জরুরি প্রয়োজনে দুটি স্পেশাল অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।সেই সাথে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় দুর্যোগের প্রাথমিক পর্যায় থেকে। ২৫০টি ডিসপোজেবল পিপিই এবং বিশেষ নিরাপত্তা ইকুইপমেন্টসহ ৫০টি রিইউসঅ্যাবল পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। মাষ্ক এবং হ্যান্ড গেøাবস দেয়া হয়েছে ২০ হাজার করে। সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারন জনগেনের মাঝে মাষ্ক বিতরন করা হয়েছে ৩০ হাজার। হ্যান্ড গেøাবস বিতরনের পরিমান এখন পর্যন্ত ৩০হাজার।
ইতিমধ্যে ৫০ হাজারেরও অধিক পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে এবং তা এখনও চলমান । ঝুঁকি এড়াতে লকডাউন হওয়া বাড়িগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সংক্রমন এড়াতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়ে কোন মানুষকে যেন ভিড়ের মধ্যে পড়তে না হয়, এজন্য ৭টি ভ্রাম্যমান ট্রাক প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও নিত্যপ্রযোজনী বাজার নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের দ্বারে।
সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন এই যে সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি সেটি কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানের নয়। সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে হচ্ছে এই করোনা মোকাবেলা। আর এতকিছুর উদ্যোক্তা একজন জনপ্রতিনিধি । তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম। করোনা মোকাবেলায় এই মহতী উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা মানুষটির জনহিতকর কাজ নিয়ে আলোচনা শুধু ভাÐারিয়া নয় উপক‚লের সর্বত্র।
জানাগেছে, ভাÐারিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মোট ৬৩টি ওয়ার্ডে ৪১,৯৭১ (একচল্লিশ হাজার নয়শত একাত্তর) উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিন্ম মধ্যবিত্ত ও হত দরিদ্র পরিবার (খানা) রয়েছে। পাশাপাশি ১২,০০০ (বার হাজার) আবাসন, আশ্রায়ন গুচ্ছগ্রাম ভাসমান এবং ভাড়াটিয়া পরিবার রয়েছে। সকল শ্রেনী পেশার প্রতিটি পরিবারের বাড়িতে মিরাজুল ইসলাম নিজ অর্থায়নে করোনার সংকটের শুরু থেকে আজ অবধি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
আর এত কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে নিজের প্রতিষ্ঠিত মিরজুল ইসলাম ফাউÐেশনের উদ্যোগে।
এ বিষয়ে ভাÐারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাস আমাদের দেশ তো বটেই বিশ্বজুড়ে নতুন এক দুর্যোগ। এটি মোকাবেলায় যথাযথ কৌশল আমাদের অজানা ছিলো। শেখ হাসিনার সরকারের নির্দেশনা পেয়ে আমরা ভাÐারিয়ার মানুষকে নিরাপদে রাখতে নানা কর্মসূচি হাতে নেই। যা এখনও চলমান আছে।
এ বিষয়ে ভাÐারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, করোনা সংকট মোকাবেলায় প্রশাসনের পাশাপাশি একজন জনপ্রতিনিধি যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি এখন দৃষ্টান্ত। তিনি একজন জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি। করোনা মোকাবেলায় তার মহতী উদ্যোগ গুলোর সুফল ভাÐারিয়াবাসি পাচ্ছেন। দুর্যোগে এরকম জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে দুর্যোগ মোকাবেলা ফলপ্রসূ হবে।









Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.