মঠবাড়িয়ার পাঁচ গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ-উল-আযহা উদযাপন

0
17

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রতি বছরের মতো এবারও আগাম ঈদ-উল-আযহা উদযাপন করেছেন। রবিবার (তারিখ) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে তিন শতাধিক পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলেশ্বর নদ তীরবর্তী সাপলেজা ইউনিয়নের ক্ষেতাছিড়া, কচুবাড়িয়া, ঝাটিবুনিয়া, চরকগাছিয়া ও ভাইজোড়া গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা এবং ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

সকাল ৯টা থেকে ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ভাইজোড়া গ্রামের খোন্দকার বাড়িতে সকাল সাড়ে ৯টায় ও কচুবাড়িয়া গ্রামের হাজি ওয়াহেদ আলী হাওলাদার বাড়িতে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতগুলোতে ইমামতি করেন মোহাম্মদ হাজি আমির আলী মুন্সী ও মাওলানা আলী হায়দার।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ১৮ শতকের শেষ দিকে কচুবাড়িয়া গ্রামের প্রয়াত হাজি ওয়াহেদ আলী হাওলাদার, শীতল খাঁ এবং হাজি সমিরুদ্দিন সুরেশ্বর দরবার শরীফের পীর হজরত মাওলানা জান শরীফকে কচুবাড়িয়ায় আমন্ত্রণ জানান। এরপর থেকেই এই অঞ্চলের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন শুরু করেন, যা পরবর্তীতে আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

সাপলেজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। তবে তারা কালকেও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন, যা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়।”

সুরেশ্বর পীরের অনুসারী মিরাজ খন্দকার বলেন, “আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রেখেছি এবং আজ ঈদ উদযাপন করছি। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।”

১২৫ নং ভাইজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফারুক খন্দকার বলেন, “আমাদের ছয়টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়। এটি আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ।”

উল্লেখ্য, প্রতি বছরই মঠবাড়িয়ার এই পাঁচটি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এবারও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালিত হয়েছে।

About The Author