বুধ. ফেব্রু ১৯, ২০২০

আজকের মঠবাড়িয়া

সত্য প্রচারে সোচ্চার

স্বরূপকাঠিতে তরমুজের ভাসমান হাট

খালিদ আবু, পিরোজপুর > স্বরূপকাঠিতে জমে ওঠেছে তরমুজের ভাসমান হাট। দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় চলতি বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষী ও বেপারীরা অত্র অঞ্চলের বৃহত মোকাম উপজেলার মিয়ারহাট বন্দর সংলগ্ন খালে প্রতিদিন মিলছে তরমুজের হাট । বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষীরা তরমুজ এনে ওই হাটে বিক্রি করেন। স্বরূপকাঠির স্থানীয় বেপারী ছাড়াও ঢাকা,চাঁদপুর, সিলেট, কুমিল¬াসহ বিভিন্ন এলাকার বেপারীরা এখান থেকে তরমুজ কিনে ট্রাকে ও লঞ্চে করে নিয়ে যায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়। সোমবার সাপ্তাহিক হাটের দিন মিয়রহাটের ভাসমান তরমুজের হাটে গিয়ে জানা যায় এসব কথা। জেলার স্বরূপকাঠির বিলাঞ্চল খ্যাত বলদিয়া, মুননাগ, ডুবি,লরা গ্রাম, নাজিরপুরের বৈঠাকাটা, বিল ডুমুরিয়া, চিতলমারীসহ পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার কলাপাড়া, মহিপুর, মুন্সিরহাট, কুয়াকাটা, রাংগাবালি, গোলখালী, চেংরাতলা, তালতলী, গলাচিপা, গাজীপুর, সোনাখালী, ধানখালী, বাদুরা, বাংলাবাজার, নলুয়াবাগি, কালাইয়া প্রভৃতি উপকুলীয় অঞ্চল থেকে চাষী ও ব্যাপারীরা তরমুজ নিয়ে স্বরূপকাঠির মিয়ারহাট বন্দরে পাইকারী বিক্রি করেন। চাষী পাইকার ছাড়াও স্বরূপকাঠিসহ পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলার শত শত ব্যবসায়ীরা এ মৌসুমের শুরুতে(ক্ষেতে তরমুজের ফুল ও গুটি হওয়া থেকে) ওই সমস্ত অঞ্চল থেকে ক্ষেতমুলে তরমুজ ক্রয় করে স্বরূপকাঠির ওই মোকামে নিয়ে বিক্রি করেন। মিয়ারহাটের ভাসমান হাটে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হয়।
মিয়ারহাট বন্দরের আড়তদার মো. সেলিম মিয়া জানান, গতবছরের তুলনায় এবছর তরমুজের আমদানী কিছুটা কম। এ বছর দক্ষিনাঞ্চলের কোথাও কোথাও তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও বেশির ভাগ এলাকায় ফলন হয়েছে খুবই কম। ফলে অনেক চাষীরা খরচের টাকা ঘরে তুলতে কষ্ট হবে।
পটুয়াখালির গলাচিপা উপজেলার নতুন চরবাদুরা গ্রামের চাষী মো. মঞ্জু মিয়া, মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, দক্ষিনাঞ্চলে এবার তরমুজের ফলন একটা ভাল হয়নি তবে চাহিদা পুরন হবে। গত বছরের অবরোধ হরতালের ক্ষতি চাষী, বেপারীরা কিছুটা পুষিয়ে ওঠতে পারবেন।
ব্যবসায়ী অনিসুর রহমান বাদল জানান, মিয়ারহাট থেকে তরমুজ কিনে স্বরূপকাঠি বন্দও থেকে ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ চালান দেয়া হয়। ঢাকা, চট্গ্রাম ফেনী , লক্ষ্মীপুর , নোয়াখালি, সিলেট, কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরমুজ চালান দেয় বেপারীরা । মৌসুমী ফল তরমুজের অন্যতম মোকাম মিয়ারহাট বন্দরে সোম ও বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাট ছাড়াও প্রতিদিনই তরমুজের হাট বসে। হাটের দুদিন আমদানী বেশি থাকে। ভাসমান তরমুজ হাট ঘুরে দেখা গেছে, বড় সাইজের ১ শ’ তরমুজ ৭ থেকে ৮হাজার টাকা, মাঝারী সাইজের তরমুজ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের তরমুজ ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান তরমুজের হাটে চাষী বেপারী ও ক্রেতারা যার যার ইচ্ছে অনুযায়ী মাল কিনতে পারে। বন্দর কমিটি তাদের সর্বাত্মক নিরাপত্তা বিধান করেন। এখানে কোন সিন্ডিকেট বা কোন চাঁদাবাজি নেই।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com