মে ২৭, ২০১৫

আজকের মঠবাড়িয়া

সত্য প্রচারে সোচ্চার

অাগামীকাল ১৫ নভেম্বর সিডরের সেই দিন

ইসমাইল হাওলাদার : আগামীকাল ১৫ নভেম্বর সেই প্রলয়ঙ্করী সিডর দিবস । ২০০৭ সালের এই দিনে গভীর রাতে সিডরের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয় দক্ষিণাঞ্চল। প্রাণ হারায় শত শত মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তরা গত ৮ বছরেও সম্পূর্ণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এখনও তারা অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন । মঠবাড়িয়া উপকূলীয় সিডর বিধ্বস্ত মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর-তীরবর্তী গ্রামগুলোয় প্রায় ২ হাজার জেলে আজও তাদের পেশায় ফিরে যেতে পারেনি আর্থিক সঙ্কট ও উপকরণের অভাবে । সর্বগ্রাসী সিডর তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। কেউ কেউ হারিয়েছে তার প্রিয়জনকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ৩৫টি জেলে পরিবার তাদের প্রধানকে হারিয়েছে । তাদের জীবন-জীবিকায় সর্বত্রই এখনও বিরাজ করছে সিডরের দগদগে আঘাত । মাথার ওপর ছাউনি নেই। পরনে কাপড় নেই। সিডরের সেই ক্ষতি দিন-রাত জ্বালিয়ে মারছে তাদের পেটের ক্ষুধা ও বিভিন্ন এনজিও কর্মীদের প্রতিনিয়ত তাগাদা ।

মঠবাড়িয়ায় সিডরে গৃহহীন ১৮০ পরিবারকে ২ কোটি ২০ লাখ ২২ হাজার টাকা ব্যয়ে গৃহপুনর্বাসনের লক্ষ্যে জাপান সরকারের অর্থ সহায়তায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর পাঁচটি ইউনিয়নে ১৮টি ব্যারাক শেড নির্মাণ করে। এতে বসতি না থাকায় পুরো প্রকল্পটি ভেস্তে যায়। কয়েকটি ব্যারাকে স্ব-ইচ্ছায় কিছু পরিবার বসতি গড়লেও সেখানে নেই কোনো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ৷৫নং মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামে সাবেক এমপির গ্রামে নির্মিত প্রকল্পটি ১০টি সিডর দুর্গত পরিবারের পুনর্বাসন হওয়ার কথা ।

অান্ধারমানিক গ্রামের ব্যারাকে নাগরিক সুবিদা বঞ্চিত কয়েকটি পরিবার
অান্ধারমানিক গ্রামের ব্যারাকে নাগরিক সুবিদা বঞ্চিত কয়েকটি পরিবার

কিন্তু সেখানে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন করা হয়নি ৷ স্ব-ইচ্ছায় সেখানে ৭টি পরিবার বসবাস করছে ৷ ওই ব্যারাকের বাসিন্ধা সিদ্দিকুর রহমান জানান, তাদের বসবাসের জন্য কোনো কাগজ-পত্র না দেয়ায় তারা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ৷ নেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা ৷ টয়লেটের অবস্থা নাজুক ৷ তারা বয়স্ক ভাতা, বিধবাভাতা থেকে বঞ্চিত ৷
মঠবাড়িয়ায় সিডরের অাঘাতে প্রাণ হারায় ১৭৮ জন, নিখোঁজ হন ৩৩ জন এবং পঙ্গু হন তিন শতাধিক ৷ গত ৮ বছরেরও ক্ষতিগ্রস্থরা সম্পূর্ণভাবে ঘুরে দাড়াতে পারেনি ৷

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com