ব্রেকিং নিউজ
Home - জাতীয় - মঠবাড়িয়ায় ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড

মঠবাড়িয়ায় ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড

 

দেবদাস মজুমদার <>

ষাটোর্ধ বয়সী কৃষক মো. আব্দুল খালেক দুই একর জমিতে এবার আমন ধানের আবাদ করেছিলেন। তার ফসলের মাঠে ধানে কেবল সোনা রঙ ধরেছিল। দুই সপ্তাহ পড়েই মাঠের জমির পাকা ধান কর্তন শুরু করার প্রহর গুনছিলেন এ কৃষক । হঠাৎ করে তার স্বপ্ন ল-ভ- হয়ে যায়। গত শনিবার থেকে ভারী বর্ষণ সেই সাথে রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর অবধি ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর তা-বে এ কৃষকের কাপাল পোড়ে। মাঠের ফলবান ধান নেতিয়ে পড়ে। ২/৩ ফুট পানিতে তলিয়ে মাঠের ফসল এখন পচে নষ্ট।
বিপন্ন কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ২৫ হাজার টাকা ধার-কর্জ করে ধান লাগাইছি। এহন এই মরা পচা ধান দিয়া কি হরমু। কেমনে চলবে জানিনা।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার দক্ষিণ বড়মাছুয়া গ্রামের বিপন্ন কৃষক আব্দুল খালেকই শুধু নন ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর তা-বে অতিজোয়ারের চাপে উপজেলার ১১ ইউনিয়নের আমন ফসল এখন নষ্ট হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বর্ষণ আর জোয়ারের প্লাবনে ফসল নেতিয়ে পড়ে ২/৩ ফুট ফানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে । এতে প্রায় ৫৭ কোটি টাকার ফসলহানী ঘটেছে।
উপজেলার ঠুটাখালী গ্রামের কৃষক সঞ্জীব চন্দ্র গোমস্তা জানান, তিনি দেড় একর জমিতে আমন আবাদ করেছিলে ২৫ হাজার টাকা রৃণ নিয়ে। কিছু ধান কেবল পাকছিল বাকি আবাদী মাঠের ধানে কেবল ফলন ধরেছিল। সব এখন ল-ভ-। বিপন্ন এ কৃষক বলেন, ধানে মাঠে খেসারি ডাল বীজ বুনছিলাম তাও শ্যাষ। এখন মোর মরণ ছাড়া কিছু করার নাই। কোন ফসল আর এবার ঘরে নিতে পারমুনা। রৃণের টাকা কেমনে দিমু সেই চিন্তায় চোহে ঘুম নাই।

সরেজমিনে ঘুরে উপকূলীয় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া, বেদমোড়, আমরাগাছিয়া, সাপলেজা গ্রামের আমন আবাদের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে শনিবার রাত ও রবিবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তা-বে আমন ধান প্রায় তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। কৃষি জমির মাঠে নেতিয়ে পড়ে কাঁচা পাকা ধান।

কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, ঝড়ে উপজেলায় পাঁচ সহ¯্রাধিক কৃষক অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ঝড় ও জলোচ্ছাসে ইরি আমন ৬ হাজা ৬৫ হেক্টর, ১৪ হাজার ৩৫ হেক্টর স্থানীয় আমন, খেসারি ডাল ৭৮০ হেক্টর, পান ৬৪ হেক্টর, সরিষা ২ হেক্টর, শাকসবজি ১৫০ হেক্টর, পেঁপে ৩০ হেক্টর, কলা ১২০ হেক্টর, ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সর্বমোট ৫৭ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার ঝাটিবুনীয়া গ্রামের তরুণ কৃষক নূরুল আমীন রাসেল জানান, কৃষি জমির মাঠ ল-ভ-। জলাবদ্ধতায় মাঠের ফসল পচে নষ্ট হচ্ছে। পানি অপসারণের কোন উপায় নাই। কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আগামী চৈত্রমাস পর্যন্ত কৃষকরা কিভাবে খাদ্যঘাটতি মোকাবেলা করবেন তা কে জানেনা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অর্থ বীজ সহায়তা প্রয়োজন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন ঘূর্ণিঝড়, ভারী বর্ষণ ও অতিজোয়ারের প্লাবনে ফসল বিনস্টের কথা জানিয়ে বলেন, এ ক্ষতি প্রাকৃতিক। কৃষক এখন বিপন্ন । দ্রুত পানি অপসারণ করা গেলে কিছু ফসল বাঁচানো সম্ভব। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অর্থ সহায়তার পাশাপশি ধান, গম, জব, সরিষা, মুগ ডাল সরবরাহ প্রয়োজন হবে। সেই সাথে কৃষকের কাছ থেকে এবার ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয় করা দরকার হবে ।

Leave a Reply

x

Check Also

মিরুখালী স্কুল এণ্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মিরুখালী স্কুল এণ্ড কলেজের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ...