ফেব্রু ১৩, ২০১৯

আজকের মঠবাড়িয়া

সত্য প্রচারে সোচ্চার

মধুর বসন্ত এসেছে

মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে।

মধুর মলয়সমীরে মধুর মিলন রটাতে।

কুহকলেখনী ছুটায়ে কুসুম তুলিছে ফুটায়ে,

লিখিছে প্রণয়কাহিনী বিবিধ বরনছটাতে।

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পিচ ঢালা পথে ঝরা পাতারা বলে দিচ্ছে, শীতের বিদায়বেলা চলে এসেছে। আর বছর ঘুরে চলে এসেছে বসন্ত। প্রকৃতির রূপ বদল শুরু হয়েছে। শীতের রুক্ষ ভাব বদলের সময় হয়েছে। প্রকৃতি যখন প্রাণবন্ত ও রঙিন রূপ ধারণ করছে, তখন প্রকৃতির সঙ্গে আমরাও মেতে উঠতে পারি রঙের উৎসবে। বসন্ত বা এই সময়ে থাকুক রঙিন পোশাকের সমারোহ। ওয়ার্ডরোবে জায়গা নিতে পারে কমলা, হলুদ, লাল, সবুজ, গোলাপি রঙের পোশাক। এ সময়ের আবহাওয়ার জন্য আরাম দিতে পারে সুতি, খাদি, লিনেন, সিল্ক্ক, মসলিন ইত্যাদি। পোশাকজুড়ে থাকতে পারে ফুলেল মোটিফ।

পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে এ সময় ভালো লাগবে রঙিন গয়না। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজে গাঢ় রঙের ছোঁয়া এই সময়ের সঙ্গে খুব মানানসই হবে। এই সময়ের লুক হওয়া চাই একটু ন্যাচারাল। প্রথমেই প্রাইমার ব্যবহার করতে হবে, ফাউন্ডেশন ও কম্প্যাক্ট পাউডার দিয়ে এই সময়ের সাজের বেজ করে নিতে হবে। কন্টরিংয়ের ওপর জোর দিতে হবে। দিনের সাজে কন্টরিং বেশি করতে হবে, যা প্রমিনেন্ট লুক আনবে। এই সময়ের সাজে ব্ল্যাশন হবে একেবারে হালকা। হালকা গোলাপি বা বাদামি ব্ল্যাশন দিয়ে একটি স্নিগ্ধ ভাব তৈরি করা যায়। হালকা নীল ও গাঢ় নীলের মিশ্রণ থাকতে পারে চোখের রঙে। হালকা স্মোকি করে আই শ্যাডো লাগিয়ে ফল্‌স আই ল্যাশ লাগিয়ে নিতে হবে। খুব ঘন করে মাশকারা লাগিয়ে ভলিউম তৈরি করে নিলে চোখটা আকর্ষণীয় দেখাবে। তবে পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়েও আই শ্যাডোর রঙ নির্ধারণ করা যায়। হাল্ক্কা বাদামি ও গোলাপি, পিচ কালারের লিপস্টিক ভালো লাগবে। এই সময়ে অবশ্যই সাজকে ভিন্ন মাত্রা দেবে ছোট একটি টিপ। চুলে, হাতে ফুল জড়ানো যেতে পারে, যেহেতু এই সময়ে ফুল একটু সহজলভ্য। এই সময়ের সাজে হাত ভরে কাচের চুড়ি ভিন্নতা আনতে পারে। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ দু’য়ের সঙ্গেই কাচের চুড়ি মানাবে।

এই সময়ে চুলের ধরন বুঝে স্টাইল করতে হবে। শাড়ির সঙ্গে খুব সহজেই হাত-খোঁপা করে নেওয়া যায়। চুলে বাহারি ফুলের ব্যবহার ভিন্নমাত্রা যোগ করবে।

মোটিফে প্রজাপতি, ফুল, পাখি, পাতার নকশা ভালো মানাবে। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজে থাকতে পারে ফুলেল নকশা। সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রে কামিজে কম কাজ ও প্রশস্ত ওড়না নতুনত্ব আনবে। হ্যান্ড পেইন্টেড শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ এই সময়ের পোশাক তালিকায় থাকতে পারে। হলুদ ও গেরুয়া রঙের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যায়।

বাইরে যাওয়ার সময় শুধু পোশাক নিয়ে চিন্তা করলেই হয় না। অনুষঙ্গ আরামদায়ক ও মানানসই না হলে পুরো সাজটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাঁত ও সুতি পোশাকের সঙ্গে রঙিন চটি জুতা, নাগরা, হালকা উঁচু জুতা ভালো লাগবে। এই সময়ে হ্যান্ডব্যাগ হতে পারে গতানুগতিক ধারা থেকে ভিন্ন। চট বা কাপড়ের ব্যাগ, রঙিন কাপড়ের থলে ভালো লাগবে। সঙ্গে অলঙ্করণে যদি ফুল-পাখির নকশা বা ফুল লাগানো হয়, তবে তা এক ভিন্নতা তৈরি করবে। এই সময়ের সাজে যেগ করা যায় দুটি অনুষঙ্গ; ফুল ও কাচের চুড়ি।

বিভিন্ন ব্র্যান্ড ঘুরে দেখা গেল রঙিন পোশাকের সম্ভার। ব্যবহার করা হয়েছে সুতি, লিনেন, সিল্ক্ক, মসলিন, হাফ সিল্ক্কের কাপড়।

বিভিন্ন ব্র্যান্ড ঘুরে দেখা গেল রঙিন পোশাকের সম্ভার। ব্যবহার করা হয়েছে সুতি, লিনেন, সিল্ক্ক, মসলিন, হাফ সিল্ক্ক কাপড়। দেশি কাপড়ের ব্যবহারে মনোযোগ বেড়েছে। ডিজাইনাররা এখন দেশি ফেব্রিক ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলেছেন ক্রেতাদের। ফুলেল মোটিফকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঋতুরাজকে বরণের সঙ্গে ফুল ওতপ্রোতোভাবে জড়িত। যার ফলে ফুলের মোটিফের ব্যবহার হবে সর্বাধিক। তা ছাড়াও কল্ক্কা, পাখি ও জ্যামিতিক মোটিফের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে বেশ।

ড্রেসের প্যাটার্নে বৈচিত্র্য অনেক। পোশাকে প্লিডের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। প্যাটার্ন নিয়ে নিরীক্ষা। পোশাকের গলায়, হাতায় বৈচিত্র অনেক। অনেকেই কামিজের লেংথ কম পছন্দ করছেন। আগের থেকে কামিজের দৈর্ঘ্য কমেছে। সঙ্গে সঙ্গে বটমেও এসেছে পরিবর্তন। ঢিলেঢালা বটমের থেকে চাপা কাটের বটম পাচ্ছে জনপ্রিয়তা।

পুরুষরাও পিছিয়ে নেই ফ্যাশনে। বর্তমান সময়ে পুরুষের পোশাক ধারণাতে বেশ সচেতনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ দিবসে পোশাক নিয়ে ভাবছেন তারা। তাদের জন্যও ডিজাইনাররা নিয়ে এসেছে নতুনত্ব। পুরুষের জন্য অবশ্য এ সময় পাঞ্জাবিই সেরা। যারা পাঞ্জাবি পরতে চান না আজকাল বুটিক হাউসগুলো বাজারে এনেছে রঙিন শার্ট। সবখানেই রঙিন ও উৎসবের জন্য বিশেষ পোশাকের কদর দেখা যায়। পুরুষের পোশাকে আরামদায়ক ফেব্রিক ব্যবহার হচ্ছে। পাঞ্জাবির কাটে রেগুলার ও স্লিম ফিট দুই-ই থাকছে আলোচনায়।

রঙ বাংলাদেশ সব সময়ই উৎসবগুলো মাথায় রেখে প্রোডাক্ট লাইন রেডি করে থাকে। আসছে বসন্তকাল সামনে রেখেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ফাল্কগ্দুনের বর্ণিল প্রকৃতির সঙ্গে মানুষও মেতে উঠতে চায় রঙের উৎসবে। সেদিকটি মাথায় রেখেই রঙ বাংলাদেশের প্রতিটি আউটলেট সেজে উঠেছে রঙিন পোশাকে। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, কুর্তি, শিশুদের পোশাক সব কিছুতেই আছে রঙের ছোঁয়া।

টাই-ডাই, ব্লক প্রিন্ট, বাটিক, স্ট্ক্রিন প্রিন্ট ইত্যাদি মাধ্যম ব্যবহার করে অলঙ্করণ করা হয়েছে এই মৌসুমের পোশাক। তবে ফুলেল মোটিফ প্রাধান্য পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। সরু ও মোটা পাড়ের শাড়ি সবই আছে এ সময়ের সংগ্রহে।

অন্য যেসব জায়গায় পাওয়া যাবে এ সময়ের পোশাক দেশি ব্র্যান্ড- কে কদ্ধ্যাফট, অঞ্জন’স, আড়ং, দেশাল, বিশ্ব রঙ, সেইলর ও অন্যান্য বুটিক শপে।

ফাল্কগ্দুনের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে থাকে। এলোমেলো হাওয়ার এ সময়ের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাই ত্বকের বিশেষ যত্ন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ত্বক ভালো মেকআপ করে আনন্দ পাওয়া যায়। এ সময় ঘরে বানানো উপাদান দিয়ে ত্বকচর্চার কাজটি সারতে পারেন। হাতের কাছে যা পাওয়া যায় যেমন মসুরের ডাল, টমেটো, শসা, লেবুর রস, মধু ইত্যাদি দিয়ে ত্বকের যত্ন করা যায়। আর চুল সবসময় পরিস্কার রাখা দরকার। এতে চুল পড়বে কম। মুখে সানস্ট্ক্রিন লোশন লাগাবেন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন এ সময়। কেননা, সারাদিন ঘোরাঘুরিতে আপনার ত্বক হয়ে যেতে পারে রুক্ষ। আবার পানিস্বল্পতার কারণে আপনার ক্লান্তিও আসবে দ্রুত, যা আপনার সারা দিনের পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com