ব্রেকিং নিউজ
Home-মঠবাড়িয়া-বিধ্বস্ত মানবতা কাঁদে, কাঁদে মুক্তির নেশায়

বিধ্বস্ত মানবতা কাঁদে, কাঁদে মুক্তির নেশায়


আবদুল্লাহ আল মামুনঃ মহান আল্লাহ মানব জাতিকে অত্যন্ত আদর করে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ মানুষ কে বিবেক বুদ্ধি আর মনুষ্যত্ব বোধ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। মানুষ পৃথিবীতে এসে মহান রবের প্রতিনিধিত্ব করবে, পাস্পরিক সহযোগিতা ও সহ মর্মিতার ভিত্তিতে সুস্থ -সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলবে কিন্তু মানুষ উচ্চ বিলাসী চিন্তায় আস্তে আস্তে সভ্যতার আবিষ্কারের নেশায় মত্ত হয়ে পরে। আবিষ্কারের সাথে সাথে মানুষ আধুনিক বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তিলে তিলে কমতে থাকে মনুষ্যত্ব বোধ ও মানবতা। মানুষ তার মনুষ্যত্ব হারিয়ে পশুত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সভ্যতার ক্রমধারা অনুযায়ী মানুষের বৃত্তাকার জীবন পরিক্রমা ভব্যতা হতে সভ্যতা আবার সভ্যতা হতে ভব্য দশায় ফিরে যাবে। আমরা হয়তো এ রকম একটা অবস্থা পার করতে চলছি। আজ হিংসা দ্বেষ -রোষে পৃথিবী ভরপুর। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য পরামানু বোমা মেরে শিশু, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ সহ হাজারো জীবনকে মুহূর্তের মধ্যে নিঃশেষ করতে এক চুল পরিমান দ্বিধা করে না। ফিলিস্তিনের অবোধ শিশুর কান্না কারো মন মন্দিরে প্রবেশ করেনা। প্রতি নিয়ত বেড়েই চলেছে হত্যা আর ধ্বংস যজ্ঞ। সারা বিশ্ব যেন আজ অসহনশীল হয়ে উঠেছে। স্বার্থের রোষানলে পরে ধবংস হয়ে গেছে ইরাক,লেবানন, সিরিয়া,মিসর,ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান সহ আরো কত সভ্যতা ও দেশ। এ ধ্বংস যজ্ঞ মূলত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বার্থে ও চক্রান্তে। এর পাশা পাশি ব্যক্তি কেন্দ্রীক স্বার্থপরতা, হিংস্রতা, হীনমন্যতা আজ মানুষকে পশুত্বে পরিণত করেছে। সারা বিশ্বেই আজ মানুষ তার আপন স্বার্থ হাসিলের জন্য অন্যের জীবন ও মাল ধ্বংস করতে করতে বিন্দু পরিমান কুন্ঠাবোধ করেনা।

বর্তমানে সারা বিশ্ব করোনা নামক মহামারীতে স্তব্ধ। সামান্য একটা ভাইরাস যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না সে হার মানিয়ে দিয়েছে মানব সৃষ্ট সকলে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, বিজ্ঞানী, আমলা,ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, বাটপার, পুলিশ, ল’ইয়ার, ইমাম, মুয়াজ্জিন, ধর্ম যাজক, সাধারণ মানুষ কাউকেই ছাড় দেয়নি। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে। যারা হাজারো অক্সিজেন প্রসেসিং মেশিন তৈরি করতে পারে তারাও সামান্য অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে। যেখানে, টাকা আর ক্ষমতার এক কণা পরিমান কোন দাম নাই। একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছে সকল প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা। এভাবে সামান্য মশা ধ্বংস করে দিয়েছিল নমরুদ কে। সামান্য পানি ধ্বংস করে দিয়েছিল মিসরের বাদশাহ ফেরাউন কে যার কথায় নীল নদে জোয়ার ভাটা হতো। সামান্য আবাবিল পাখি ধ্বংস করে দিয়েছিল আবরাহা বাদশাহ কে। তেনি সাধারণ এক ভাইরাস স্তব্ধ করে দিয়েছে সারা বিশ্ব কে।

আজ সারা বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। বন্ধ সকল প্রতিষ্ঠান মিল কারখানা। বিজ্ঞানীদের ধারণা বিশ্ব কোন দিন হয়তো তার আগের অবস্থানে ফিরে যাবেনা। সারা বিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দিবে, চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পরে যাবে সারা বিশ্ব গোটা জাতি। নতুন নতুন বালা মসিবত এর পাশাপাশি জলবায়ুর পরিবর্তন ও রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার, খাদ্য দ্রব্যে বিষ মিশানে, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব আমাদের এ বিশ্বকে আরো ভয়াবহ বিপর্যায়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সুস্থ সুন্দর মননশীল চেতনা আমাদের মস্তিষ্ক থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পর হিংসা, পরশ্রীকাতরতা,কৃতঘ্নতা দিনে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের গুণাবলী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য একটা চকলেটের যে দাম আছে মানুষের জীবনের সে দাম নেই। কথায় কথায় মানুষ মানুষ কে খুন করছে। প্রতিদিন টিভি কিংবা পত্রিকার পাতায় চোখ বুলালেই হত্যা,ধর্ষণ, গুম,লুট তরাজের খবরে চোখ ভিজে যায়। দেখতে হয় কত বীভৎস নিকৃষ্ট, জঘন্যতম চিত্র গুলো। আমরা দালান কোঠা অট্টালিকা তৈরি করেছি কিন্তু মানবতা আর মনুষ্যত্ব হারিয়েছি। যখন করোনা মহামারীতে সার বিশ্ব প্রকম্পিত সেখানে আমরা গরীবের চাল গুদাম ঘরে লুকাচ্ছি। মালিক চাকর রাখছে তার উপাসনা কিংবা নিরাপত্তার জন্য সেখানে চাকর কর্তৃক মালিক ধর্ষিত বা খুন হচ্ছে । আবার মালিক চাকর কে আগুনের ছেঁকা দিচ্ছে, ছাদ হতে ফেলে মেরে ফেলছে। মদ কেনার টাকার জন্য ছেলে পিতা – মাতা কে হত্যা করছে। পরকীয়ায় পরে আপন সন্তান ও স্বামী কে মেরে রাতের আধারে স্ত্রী পালিয়ে যাচ্ছে। টাকার জন্য পুলিশ থানায় আটকে রেখে ধর্ষণ করছে কিবা তুল নিয়ে জেলে দিচ্ছে, গুম করছে নয়তো পকেটে গাঁজা ঢুকিয়ে দিয়ে দোষী বানানোর চেষ্টা করছে। রাতারাতি নেতা বনে গিয়ে মানুষের অধিকার বঞ্চিত করে নিজে টাকার পাহাড় গড়ছে। কাসিনো নামে মদ, জুয়া আর নারী ভোগের রসানা বিলাস তৈরী করছ। ভূয়া ডাক্তার সেজে অপারেশন করছে। টাকার জন্য সত্যকে মিথ্যার মধ্যে, আর মিথ্যাকে সত্য বানাচ্ছে, উকিল কোর্টে উঠে হত্যাকারী আর ধর্ষকের পক্ষে নির্দোষ বলে জামিন প্রার্থণা করছে। ভূয়া প্রতারক তার প্রতারণা ঢাকতে টকশো করছে। বৈদেশিক আমদানি আর রফতানির নামে দেশের হজার কোটি টাকার অবৈধ মালামাল পাচার করছে, রাতের অন্ধকারে দখল বাণিজ্য করছে, বর্ষবরণ আর উৎসবের নামে মদ আর মাগিভাজি চলছে, প্রবাসের নামে মানব পাচার করছে ।

শিক্ষক হয়ে ফাঁকি দিচ্ছে স্কুলে, ব্যবসায়ী ফাঁকি দিচ্ছে ব্যবসা, কথায় কথায় মানুষ অপর মানুষের ক্ষতি করছে। ঘর হতে বের হলে সংঙ্কা থাকে ঘরে ফিরতে পারবো কিনা? আবার ঘরে ফিরলে আতঙ্ক নিরাপদে মাথা গুজতে পারবো কিনা? ডাবল ট্রিপল মার্ডার করে লাশের উপর মিছিল দেয়া হয়, উল্লাস করাহয়।যেখানে চলন্ত বাসে, মসজিদে ধর্ষণের শিকার নারী, যেখানে কন্যা আপন পিতা তার ধর্ষণ কারী।

কোরবানীর ইদের আগের দিনে কি বীভৎস চিত্র দেখলাম আমাদের মঠবাড়িয়ার ধানীসাফার ভাংগা পোলে রাতের বেলা খাবার শেষে দুচোখে স্বপ্ন নিয়ে ঘুমিয়ে ছিল অটোচালক আয়নাল হকের পরিবার। ঈদের দিনে নামাজ পরে এসে কোলে তুলে নিবে একমাত্র কন্যা আসফিয়াকে। মা খুকুমণি সকালে ঘুম হতে ডেকে তুলে নতুন পোশাক পরিয়ে দিবে একমাত্র কলিজার টুকরাকে। বিকেল বেলা হয়তো বায়না ধরবে বাবার গাড়িতে ঘুরতে যাওয়ার। না আর আসফিয়ার আর ঘুম ভাংবেনা। কেহ তাকে ডেকে তুলবে না, নামাজ শেষে কেহ তাকে এসে কোলে তুলে গালে আর চুমু খাবেনা।কাউকে আর আসফিয়া বলবেনা আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাও।

Leave a Reply

x

Check Also

মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে পিরোজপুরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

পিরোজপুর প্রতিনিধি 🔻 ‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দুর করি” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় ...