ব্রেকিং নিউজ
Home - মঠবাড়িয়া - পানিতাল এর স্মৃতিকথা

পানিতাল এর স্মৃতিকথা

পানিতাল শহরের অনেকে এই ফলকে না চিনলেও গ্রামের সবারই পরিচিত এ ফল। এ ফল জন্মথেকে বিভিন্ন ঋতুতে পর্যায়ক্রমে আমাদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
এই তাল গাছে জন্মানোর শুরুর দিকে অপরিপক্ব অবস্থায় আমাদের রস দিয়ে থাকে যা দিয়ে মিঠা তৈরি হয়, এরপরে মোটামুটি পরিপক্ব অবস্থায় এই তালের বীচি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যাকে তালশাঁস, কাঁচা তাল,তালপানি বলা হয়। এরপরে এই তাল পূর্ণভাবে পরিপক্ক হলে এর পাঁকা ছোলা বা খোসা থেকে এক প্রকারের জুস পাওয়া যায় সেটা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়, অবশিষ্ট তালের বীচী দীর্ঘদিন মাটিতে পুঁতে রেখে গাছ বেড় হবার শুরুর দিকে এর ভিতরের অংশকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
তালের প্রতিটা স্তরই সুস্বাদু এবং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। এ তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়াম সহ আরও অনেক খনিজ উপাদান। এর সঙ্গে আরও আছে অ্যান্টি অক্সিজেন ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান।

তবে এর মাঝে তালশাঁস বা তালপানি বেশী সুস্বাদু বা সবার প্রিয়।
এই তাল বা তালপানি দেশের সব মানুষের নাগালের বাইরে, গ্রামেগ্রামে এই তালপানি মেলে বছরের ২-৩ মাস সময়ে, তবে তা আবার সব অঞ্চলে দুষ্কর।
বাংলা মাসের বৈশাখ থেকে আষাঢ়ের মাঝামাঝি সময় এই তালপানির মৌসুম।
বর্তমানে গ্রামে প্রায় প্রতিটা তালগাছ এই তালপানিতে পরিপূর্ণ। তেমনি খাদ্য হিসবে মানুষের চাহিদাও রয়েছে যথেষ্ট।
গ্রামের হাটেবাজারে ৫/১০ টাকায় এই তালপানি কিনতে পাওয়া যায় তবে গ্রামের কিশোররা এই তালপানি চুরি করে খাওয়ায়ই বেশী আনন্দ পায় বা স্বস্তি পায়।
আমিও গ্রামে বেড়ে ওঠা একজন সাধারণ মানুষ, শৈশবে এই তালপানি নিয়ে আমার জীবনেও রয়েছে অনেক স্মৃতি।
গ্রামের ছেলেরা একটু দুষ্টপ্রকৃতির হয়ে থাকে এটা সবারই জানা, স্কুলফাঁকি, আড্ডাবাজি, খেলাদুলায় কাঁটতো প্রায় দিনে পুরোটা সময়।

এই সময়ে চলতো ভরপুর তালপানি চুরির মৌসুম, গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে দুপুর বেলা গ্রামের শিশুকিশোর খালে দলবদ্ধভাবে ডুবাডুবি, লাফালাফি ফাঁকেফাঁকে তালপানি চুরির প্লান। দুপুরে খালে ডুবাডুবির আগে, পরে বা মাঝামাঝি সময় হুট করে তাল গাছ থেকে তালপানি নামানো, সবাই মিলে একসাথে মিলেমিশে তালপানি ভাগাভাগি, টানাটানি করে খাওয়ার স্মৃতি ভোলার মতো না।

মাঝেমাঝে গাছ মালিক বাড়িতে এসে নালিশ করায় বাড়িতে ঢুকতে না পারায় দুপুরের খাবার না খেয়ে বাড়ি বা ঘর ছেড়ে বাইরে বাইরেও ঘুরেও দিন কাটাতে হয়েছে। এই তালশাঁস বা তালপানি নিয়ে গ্রামের প্রায় সবারই কমবেশী স্মৃতি রয়েছে।

সব মিলিয়ে এই তাল আমাদের গ্রামের বা দেশের রূপবৈচিত্রের অন্যতম একটি অংশ, প্রাকৃতিক এই ফলে যেমন রয়েছে নানা গুণাগুণ তেমনি এর গাছ আমাদের পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রেখে আসছে এবং বাংলার রূপবৈচিত্রকে আরও রূপময় করে তুলেছে।

তবে অত্যন্ত দুঃখজনক এটা যে, আমাদের ত্রুটিতে দিনেদিনে এই তাল ফল বা তাল গাছ বিলুপ্তির পথে।তবে এই তাল গাছ বা তাল ফল আমাদের মাঝে চিরজীবনের জন্য ধরে রাখা বা বাঁচিয়ে রাখা জরুরী, সেক্ষেত্রে আমাদের তালগাছ রোপণ করতে হবে, রক্ষা করতে হবে পাশাপাশি এই গাছের পরিচর্যা করতে হবে।

জুয়েল মাহমুদ
শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

x

Check Also

পিরোজপুরে জমি নিয়ে বিরোধে নারী সহ আহত ৫- থানায় অভিযোগ

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃঃ পিরোজপুরের নাজিরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক নারী সহ ৫ জন আহত ...