ব্রেকিং নিউজ
Home - মঠবাড়িয়া - বিশ্বের মুসলমানের জন্য এ এক অন্যরকম ঈদ

বিশ্বের মুসলমানের জন্য এ এক অন্যরকম ঈদ

বিশ্বের মুসলমানের জন্য এ এক অন্যরকম ঈদ। যা তাঁরা দেখেনি বা কল্পনাও করেনি কখনো, গৃহবন্দি ইবাদত ও আনন্দ বিহীন ঈদ। ভাবতে কষ্ট হয় এবারের ঈদে অন্যান্যবারের মতো সড়ক-মহসড়কে যানবাহনের লম্বা সারি দেখা যাবে না। ভোগান্তি আর যানজটের চিরচেনা দৃশ্যও দেখা যাবে না। প্রিয়জনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষাও থাকবে না গ্রামের বাড়ির স্বজনদের কাছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এমন নীরস এক ঈদ এসেছে দেশবাসীর জন্য। অনাবিল শান্তি ও অবারিত আনন্দের বার্তা নিয়ে ঈদের এক ফালি চাঁদ পশ্চিম দিগন্তে ভেসে ওঠে, তখন সর্বশ্রেণির মানুষের হৃদয়-গহিনে বয়ে যায় আনন্দ-উচ্ছ¡াসের মৃদু দোলা। ঈদ বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নেয়ামত। ঈদ শব্দের আরবি শব্দমূল “আউদ”। ঈদ অর্থ যা ফিরে ফিরে আসে। “ফিতর” শব্দের অর্থ ভেঙে দেওয়া বা ইফতার (নাস্তা) করা। ঈদুল ফিতর মানে সে আনন্দঘন উৎসব; যা দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে। আসে সুশৃঙ্খল আচার-আচরণের তীর ঘেঁষে। নৈতিক আত্মিক ও সামাজিক পরিশুদ্ধির সীমানা পেরিয়ে সামষ্টিক কল্যাণ নিয়ে ঈদ আসে। ঈদ আসে স্বচ্ছ ও শুদ্ধতার প্রতীক হয়ে। তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) শক্তিতে বলীয়ান হয়ে নতুন জীবনে ফেরার অঙ্গীকার নিয়ে ঈদ আসে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত এবং অফুরন্ত কল্যাণের আলোক ছড়িয়ে ঈদ আসে। ঈদ আসে শত্রæতা ও দ্বেষের প্রাচীর ডিঙিয়ে বন্ধুত্ব ও মিতালির হাত বাড়িয়ে। ঈদ আসে মহামিলনের মহোৎসবের আবেশে মনকে মথিত করতে। পরিশোধিত হৃদয়ে পরিতৃপ্তির ছোঁয়া ও আবে হায়তের ¯িœগ্ধতা দিতে।
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জন্য একই সঙ্গে আনন্দোৎসব ও ইবাদত। এ আনন্দ আল্লাাহর রহমত ও ক্ষমাপ্রাপ্তির, জাহান্নাম থেকে মুক্তির। এ আনন্দ সিয়াম-কিয়ামের শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতার। এ আনন্দে কোনো অশ্লীলতা ও পাপ-পঙ্কিলতা নেই। এ আনন্দে কেবলই সওয়াব ও পুণ্যের দ্যূতি। এ আলোক-দ্যূতি ও আনন্দ ক্রমান্বয়ে সঞ্চারিত হয় হৃদয় থেকে হৃদয়ে। শিশু-কিশোর ও আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাÑ সবার দেহ-মানসে লাগে ঈদ-আনন্দের ছোঁয়া। সামান্য সহযোগিতা এবং কিছু টাকা, কিছু নতুন কাপড় পেয়ে হতদরিদ্র, এতিম-দুস্থ, নিঃস্ব-অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মুখে ফোটে হাসির রেখা। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীরাও এ আনন্দে মেতে ওঠেন সমান রূপে। ঈদ উপলক্ষে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা তারাও ভোগ করেন। আর এভাবেই ঈদ সর্বজনীন ও সবার হয়ে ওঠে। সুখবর পেলেই মানুষ আনন্দিত হয়। এক মাস রোজার সাধনার পর ঈদের পবিত্র এই দিনে পুরস্কার হিসেবে ক্ষমা প্রাপ্তিই সেই আনন্দের কারণ। ইসলাম বিনোদনকে সমর্থন করে। সুস্থ বিনোদনের কখনো বিরোধিতা করে না। কিন্তু অশ্লীলতাকে মোটেও প্রশ্রয় দেয় না। আনন্দ-উৎসবের সঙ্গে মানুষের অভিরুচি ও চাহিদার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদের উৎসব ও আমাদের উৎসবের মধ্যে পার্থক্য বৃহদাকারের। মুসলমানদের আনন্দ-উৎসব অপসংস্কৃতি ও প্রথাজনিত কর্মকান্ড থেকে স¤পূর্ণ মুক্ত। উৎসব বরণের নামে অনাচার, পাপাচার, অসামাজিক কার্যকলাপ ও নৈতিকতাবিবর্জিত-বল্গাহীন কাজকর্ম ও অযথা আড়ম্বরতা ইসলাম সমর্থন করে না। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আবার বৈধ ও নির্দোষ আনন্দ-ফুর্তি, শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা, নৈতিক মূল্যবোধ ও ঈমানি ব্যঞ্জনাসমৃদ্ধ শিল্প-সংগীত এগুলোও ঈদের দিনের বৈধ আনুষ্ঠানিকতার বাইরে নয়। ইসলাম এগুলোকে পূর্ণ সমর্থন করে। করোনার এই ঈদ হোক মানবতার উদাহরণ আপনার নতুন পোশাকের ও নানা রকমের খাবার আয়োজনের অর্থ দিয়ে আপনার প্রতিবেশী দরিদ্র পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা দিন। পৃথিবী সুস্থ হলে খেয়ে হোক না খেয়ে হোক এক সাথে বাচঁবো এই হোক আমাদের এবারের ঈদের অঙ্গীকার।
-মেহেদী হাসান বাবু ফরাজী, প্রকাশক, আজকের মঠবাড়িয়া

Leave a Reply

x

Check Also

পিরোজপুরে জমি নিয়ে বিরোধে নারী সহ আহত ৫- থানায় অভিযোগ

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃঃ পিরোজপুরের নাজিরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক নারী সহ ৫ জন আহত ...