ব্রেকিং নিউজ
Home - মঠবাড়িয়া - ১৯৭১ সালের ফুলঝুরির যুদ্ধ

১৯৭১ সালের ফুলঝুরির যুদ্ধ


১৯৭১ সালের ১৬ মে রবিবার পূর্বাহ্নে তুষখালী ইউনিয়ন শান্তি কমিটির উদ্যোগে তুষখালী বাজারে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মঠবাড়িয়া থানা শান্তি কমিটির সভাপতি এবং মুসলিম লীগ নেতা এম,এ, জব্বার ইঞ্জিনিয়ার পাকিস্তান রক্ষার পক্ষে বক্তৃতা করে জনগণকে পাকিস্তান রক্ষার আহবান জানায় এবং ফুলঝুরি গ্রামের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেনা সদস্য হাবিলদার আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাস এবং নায়েক আবদুল মোতালেব শরীফকে অনতিবিলম্বে অস্ত্র জমা দিতে নির্দেশ দেন। মঠবাড়িয়া পুলিশ সার্কেল প্রধান কাজী জালাল উদ্দীনের নির্দেশে মঠবাড়িয়া থানার এ,এস,আই, মাহবুবুর রহমান পুলিশের একটি দল নিয়ে তাদের নিকট থেকে অস্ত্র উদ্ধার করার জন্যে এদিন বিকালে ফুলঝুরি গ্রামে তাদের বাড়িতে আসলে তাদের সাথে তুমুল গুলি বিনিময় হলে ঘটনাস্হলে দুই জন পুলিশ এবং স্হানীয় চৌকিদার জবেদ আলী নিহত হয়। পুলিশের গুলিতে আবদুল মোতালেব শরীফ শহীদ হন এবং আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাস গুরুতর আহত হন। মঠবাড়িয়ার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এটাই প্রথম যুদ্ধ।
আহত আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাসের চিকিৎসা এবং স্হানীয় শান্তি কমিটির লোকজন ও দালালদের কবল থেকে রক্ষা করার জন্যে তার স্ত্রী নূর জাহান বেগম আহত স্বামীর আশ্রয়ের জন্যে ফুলঝুরি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়েছেন।কিন্তু বিপদের কথা চিন্তা করে কেউই তাকে আশ্রয় দেন নি।নিজ গ্রামে আশ্রয় না পেয়ে তুষখালী ইউনিয়নের জানখালী গ্রামে নূর জাহান বেগমের এক বোনের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। চিকিৎসার অভাবে অধিক রক্তক্ষরনে ৪/৫ দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দালালদের ভয়ে বোনের বাড়িতে সমাহিত করার অনুমতি না দেয়ায় তাঁকে বলেশ্বর নদীর চরে সমাহিত করা হয়। আমি শহীদ আবদুল মোতালেব শরীফ ও আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাসের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। স্বাধীনতার পর আবদুর রাজ্জাকের মরদেহের অবশিষ্টাংশ চর থেকে উত্তোলন করে তার নিজ বাড়ির পারিবারিক কবর স্হানে সমাহিত করা হয়। শহীদ আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাসের স্ত্রী নূর জাহান বেগম ১৯৭২ সালে স্হানীয় রাজাকার কমান্ডার মোসলেম আলী সহ ১৪জনকে আসামী করে মঠবাড়িয়া থানায় হত্যা, অগ্নি সংযোগ, লুটপাট ইত্যাদি অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে মামলাটি নিস্ক্রিয় হয়।
ফুলঝুরির ঘটনা পিরোজপুর মহকুমা শান্তি কমিটিকে জানানো হলে ১৭ মে সোমবার ক্যাপ্টেন এজাজ আহমেদ এর নেতৃত্বে ৫০জনের অধিক হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য ফুলঝুরি গ্রামে এসে শতাধিক ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়।এরপর মাঝের পুলের ইয়াসিন শরীফের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে মঠবাড়িয়া শহরের হিন্দুদের দোকান লুটপাট করেছে। অতপর মঠবাড়িয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডাঃ মতিয়র রহমান ও দক্ষিণ মিঠাখালী (কাছিহিরা)গ্রামের আবদুল করিম সিকদারের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।
পরের দিন হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী গুলিসাখালী গ্রামে গিয়ে মহিউদ্দিন আহমেদ ও সওগাতুল আলম সগীর এর পৈএিক ঘরবাড়ি সহ তাঁদের বাড়ি সংলগ্ন উত্তর – পূর্ব কবুতরখালী গ্রামের হিন্দুদের ঘরবাড়ি এবং দক্ষিণ গুলিসাখালী গ্রামের মমিন উদ্দিন ও তছিল উদ্দিন হাওলাদারের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।এরপর বড় মাছুয়া গ্রামের হাতেম আলী মোল্লার বড়ি, ফকির বাড়ি ও বৈরাগী বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।

 

লেখকঃ নূর হোসাইন মোল্লা

অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক,

গুলিশাখালী জিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

Leave a Reply

x

Check Also

মঠবাড়িয়া ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য ৫কোটি টাকা বরাদ্দ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ঘুর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ বুধবার দুপুরে পরিদর্শণ করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) ...