জুন ১৯, ২০১৯

আজকের মঠবাড়িয়া

সত্য প্রচারে সোচ্চার

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানের কাছে খোলা চিঠিতে মঠবাড়িয়াকে নতুন করে গড়ার প্রত্যয়

সদ্য সমাপ্ত মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রমান করে দিলো মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় শক্তি পৃথিবীতে এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। একপাশে সব রাজনৈতিক মহিরুহরা আর অন্যদিকে “ওয়ান ম্যান আর্মি” খ্যাত জনাব আশরাফুর রহমান।মিথ্যা বলবোনা- ফলাফল ঘোষণারা পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত টেনশনে ছিলাম গণরায় কারো ইশারায় হাইজ্যাক বা বদল হয়ে যায় কিনা। কারন প্রথম থেকেই এমন একটি প্রচারণা ছিলো যে মার্কাতে যত ভোটই পরুক ঘোষণা আসবে একটি বিশেষ মার্কার পক্ষে! কিন্তু আশরাফুর রহমান মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে তার মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা আর রাজনৈতিক কৌশল দিয়ে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছেন।

তার এই চৌকস, রাজনৈতিক জ্ঞানই তাকে অন্যদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রেখেছে এবং দক্ষিণাঞ্চলের ক্যারিশমাটিক নেতায় পরিনত করেছে। বলতে দ্বিধা নেই তিনিই এই মুহূর্তে দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও সফল তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার রাজনৈতিক উত্থানের কাহিনী এখন মঠবাড়িয়ার সীমানা ছাড়িয়ে রূপকথার মতো সমগ্র উপকূলেই ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন হলো এত শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রাচীর ভেঙ্গে তিনি কিভাবে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে আনলেন? এ ক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতেতে তার বর্ণীল পদচারণা, সিন্দাবাদের ভুতের মতো জাতির ঘাড়ে চেপে বসা এক এগারোর অসাংবিধানিক সরকারের বিরুদ্ধে বারুদের মতো জ্বলে উঠা তার অসীম সাহসী কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে গত পাঁচ বছরের অবিস্মরণীয় সাফল্য নিশ্চয়ই তাকে সহযোগিতা করেছে।

সর্বোপরি প্রতিপক্ষের ছড়ানো যত গুজবই থাকুক আমরা বিশ্বাস করি মমতাময়ী নেত্রী জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদ নিশ্চয়ই তাঁর বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড জনাব আশরাফুর রহামনের প্রতি ছিলো। হয়তো কৌশকগত কারনে নেত্রী তাকে সরাসরি নৌকা মার্কা উপহার দিতে পরেননি। যদি সেটাই না হবে তা হলে এমন নজিরবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া কঠিন ছিলো। তবে এর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, কিছু অতিউৎসাহী কর্মীদের অপ্রত্যাশিত উগ্র আচরণ, সাম্প্রতিক সময়ে জনি হত্যার মতো নারকীয় কর্মকাণ্ড প্রভৃতিও আশরাফুর রহমানকে এই কঠিন চ্যালেঞ্জ জয়ে সহযোগিতা করেছে। আমাদের বুঝতে হবে একটি গাছে ফল যত বেশি ধরে, গাছটা তত বেশি নুয়ে থাকে। মানুষ হিসেবে আমাদেরও এমন বিনয়ী থাকার চেষ্টা করতে হবে সবসময়। এটাও মনে রাখতে হবে একজন আহত ব্যক্তি তার যন্ত্রনা যত সহজে ভুলে যায়, একজন অপমানিত বা পরাজিত ব্যক্তি তত সহজে তার অপমান বা পরাজয়ের কষ্ট ভোলে না। তাই এখন থেকেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। নির্বাচিত হবার পরে জয়ী দলের নেতা কর্মীদের কর্মকান্ডেও যেনো সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো নেতিবাচক আশংকা না জাগে। কেননা এই অঞ্চলের মানুষ যেমন খুবই আবেগপ্রবণ ও শান্তিপ্রিয় তেমনি তারা বিচক্ষণও। গতকালের এই অবিস্মরণীয় জয় নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী করে তুলেছে। মনে রাখতে হবে আপনারা এখন মঠবাড়িয়ার প্রতিটি মানুষেরই নির্বাচিত প্রতিনিধি, কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর নয়।মঠাবাড়িয়ার প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন আপনাদের কাঁধে। তাই

উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহনের আগেই নিজ দলের কর্মীদের আরো সফলতার সহিত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারন এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের উদাহরণ কম নয়। কেউ যাতে দুর্বল মুহূর্তের সুযোগ নিয়ে আগামীর সুন্দর পথ চলাতে সামান্য আঁচড় ফেলতে না পারে কায়মনোবাক্যে আমরা এটুকুই প্রার্থনা করি। আমরা আর কোনো রাজনৈতিক দস্যুপনা দেখতে চাইনা। সকল হানাহানীর অবসান ঘটে অতীতের মতোই শান্তিপ্রিয় জনপদ হিসেবে মঠবাড়িয়ার পরিচয় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ুক।অতি-উৎসাহীরা যেনো আমাদের স্বপ্ন অংকুরেই বিনষ্ট করে না ফেলে।

এবারের রাজনীতি হোক মঠবাড়িয়াকে নতুন করে গড়ার প্রত্যয় নিয়ে। যেখানে প্রতিযোগিতা হবে উন্নয়নের, প্রতিহিংসার নয়।

মেহেদী হাসান বাবু ফরাজি ,সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com