শুক্র. ফেব্রু ২১, ২০২০

আজকের মঠবাড়িয়া

সত্য প্রচারে সোচ্চার

স্কুল ছাত্রী ইতি ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় দুইজনকে ফাঁসির আদেশ।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদি হাসান স্বপন (২২) ও সুমন জোমাদ্দার (২০)।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদি হাসান স্বপন (২২) ও সুমন জোমাদ্দার (২০)।

মেহেদি হাসান বাবুঃরবিবার পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. গোলাম কিবরিয়া এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মেহেদি হাসান স্বপন (২২) ও সুমন জোমাদ্দার (২০)। এছাড়া দুই অাসামির প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, “জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের ফুলমিয়ার ৯ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার ইতি উপজেলার বুখাইতলা বান্ধবপাড়া গ্রামে তার নানা মো. আব্দুর রব মাষ্টারের বাড়িতে থেকে স্থানীয় হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে ইতি তার নানার একটি গরু স্কুল মাঠে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। দুপুর গড়িয়ে গেলেও ইতি ঘরে ফিরে না আসায় নানা বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করে। পরদিন দুপুরে প্রতিবেশি চুন্নু জমাদ্দারের বাগানে বিবস্ত্র অবস্থায় ওড়না পেঁচানো ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।”
ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার ননী গোপাল রায় তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন, “ইতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ই অক্টোবর উপজেলার পূর্ব সাপলেজা গ্রামের ফুল মিয়ার কন্যা ও স্থানীয় বুখইতলা বান্ধবপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইতিকে তার মামাত ভাই ও বুখইতলা গ্রামের জাহিদ হোসেন রিপনের ছেলে বখাটে স্বপন ও তার সহযোগী মোস্তফার ছেলে মাদকসেবী সুমন অপহরণ করে নিকটবর্তী একটি ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। দুই নরপশু তাকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বাড়ির নিকটবর্তী চুন্নু জমাদ্দারের বাগানে ফেলে রাখে। ঘটনার এক দিন পর ৬ই অক্টোবর দুই ধর্ষক ইতির অভিভাবকের কাছে লাশের সন্ধান দেয়।
dfdএ ব্যাপারে নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা ৬ অক্টোবর মঠবাড়িয়া থানায় অজ্ঞাত আসামি দিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ ৭ই অক্টোবর সন্দেহজনক ওই দুইজনকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।আদালতে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসঅাই রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ প্রায় আড়াই মাস তদন্তের পর ৬ই জানুয়ারি ২০১৫ দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে । এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে।হত্যাকারী দুই ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে ১৯ অক্টোবর ২০১৪ উপজেলার তিন শতাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা এক ঘণ্টার জন্য ক্লাস বন্ধ রেখে ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মানববন্ধন করে। শেষে শহীদ মিনারের পাদদেশে সমাবেশে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ হত্যাকারীদেরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com