ব্রেকিং নিউজ
Home-উপকূল-মঠবাড়িয়ার মিরুখালীর কুলুবাড়ির ২০০ বছরের পুরাকীর্তিতে ধস

মঠবাড়িয়ার মিরুখালীর কুলুবাড়ির ২০০ বছরের পুরাকীর্তিতে ধস


দেবদাস মজুমদার 🔻
প্রায় দুইশত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মিরুখালী ইউনিয়নে রায় বংশের( কুলু বাড়ি) প্রাচীন পুরাকীর্তির মূল স্থাপনাপনাটি হঠাৎ ধসে পড়েছে। বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দ্বিতল ভবনের সম্মূখ অংশ ধসে বিধ্বস্ত হয়। তবে প্রাচীন এ জমিদারি ভবন এক যুগেরও বেশী সময় ধরে পরিত্যাক্ত হওয়ার পর ওই ভবনে সম্ভ্রান্ত রায় বংশের কেউ বসবাস করেন না। আজও এ রায় বংশের স্থাপনা ঘিরে নানা কিংবদন্তী আজও জনশ্রুতি হয়ে ফিরছে।
এছাড়া জমিদারি আমলের এ বাড়িতে অন্যান্য স্থাপনাগুলো অবহেলা ও অযত্নে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এখন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে এসে পৌঁছেছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কোনো নজরদারি না থাকায় অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে এখানের প্রাচীন স্থাপনাগুলো ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, মিরুখালীর কুলু বাড়ির(বর্তমান রায় বাড়ি) মূল ভবন, গেট, মন্দির ও মঠ। এখানের মূল অট্রালিকা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময়কাল ধরে পরিত্যাক্ত পড়ে আছে। চলতি বর্ষ মৌসুমে মূল ভবনটি নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়। বুধবার দিনগত গভীর রাতে বিকট শব্দে মূল ভবনের সামনের অংশ ধস নামে। এতে প্রচীন ভবনের সামনের অংশ বিধ্বস্ত হয়ে চূর্ণবিচুর্ণ হয়ে যায়।
সেই সাথে নান্দনিক নকশা আর অসাধারণ নির্মাণ শৈলীর অন্যান্য স্থাপনা সংস্কারের অভাবে প্রতিনিয়ত ধসে পড়ার উপক্রম। এছাড়া এখানে রয়েছে নান্দনিক নির্মাণ শৈলী আর দৃষ্টি নন্দন কারুকার্য খচিত অতি পুরাতন তিনটি বিশালাকৃতির অট্টালিকা । একটি দারুন নকশা খচিত দূর্গা মন্দির ও বেশ কিছু মঠ। কুলু বাড়ির দুটো সুরম্য মূল ভবন বহু বছর ধরে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।একটি ভবনে বংশানুক্রমিক কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে এসব ভবন গুলোর ভিত্তির তলদেশ থেকে রয়েছে একটি বিশেষ সুরঙ্গ যা দিয়ে এক পাশ থেকে অন্য পাশ দেখা যায়। পরিত্যাত্ক মূল ভবনের ভেতরে একটি অন্ধকার কূপ রয়েছে। সেখানে অপরাধি প্রজাদের বিচার আচারও চলত বলে কথিত আছে।
জনশ্রুতি আছে,আজ থেকে প্রায় দুইশত বছর আগে বরিশাল জেলা থেকে বৃন্দাবন চন্দ্র কুলু এখানে আসেন ব্যবসার উদ্দ্যেশ্যে। তখন থেকেই তাদের গোড়াপত্তন হয় এখানে। বৃন্দাবনের তিন ছেলে পূর্ন চন্দ্র রায়, মহশে চন্দ্র রায়, গুরু চরণ রায় এর মধ্যে বড় ছেলে পূর্ন চন্দ্র রায় তখনকার জমিদারদের নিকট থেকে এ এলাকার জমিদারীর সুযোগ লাভ করে। মিরুখালী বাজার স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ নানা উন্নয়ন মূলক কাজে জমিদান এ বংশের একটি স্বীকৃত ইতিহাস। কুলু বংশের নানা জনসেবা মূলক কর্মকাণ্ড এখনও দৃশ্যমান আছে এখানে।
প্রাচীনকাল থেকে এ বাড়িকে ঘিরে মেলা বসত। আর নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হত । এখনও প্রতিবছর এখানে দূর্গা উৎসব,কালী পূজা ও বাৎসরিক কীর্তণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে আগের মত অনুষ্ঠানে এখন আর সে প্রাণ নেই। পৃ কিংবদন্তী রয়েছে কুলু বাড়ির মাটির নীচে মাটির কলসি ভর্তি প্রচুর স্বর্ণ মুদ্রা আর নানা দামি অলংকার গচ্ছিত ছিল। ওই সব ধন সম্পদের কোন অস্তিত্ব না থাকলেও কালের স্থাপনাগুলো এখন কালের সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে।
কুলু বংশের বংশধর পংকজ রায় বলেন,এ অঞ্চলে এমন স্থাপনা,মন্দির আর দ্বিতীয়টি নেই। এটি মঠবাড়িয়া জনপদের এখন দর্শনীয় স্থান। প্রাচীন নিদর্শন হলেও নানা সংকটে বংশ পরম্পরায় এসব স্থাপনা সংস্কার ও সুরক্ষার তেমন একটা সংগতি নেই। মূল অট্রালিকার সামনের অংশ ধসে ভবনটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মিরুখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হানিফ খান বলেন, মিরুখালীর কুলুবাড়ির প্রাচীন স্থাপনাগুলো এখন ধংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রত্নত্বত্ত বিভাগের কোনো নজরদারি নেই।

Leave a Reply

x

Check Also

মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে পিরোজপুরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

পিরোজপুর প্রতিনিধি 🔻 ‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দুর করি” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় ...