খালিদ আবু, পিরোজপুর <>
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় কঁচা নদীর মোহনায় গড়ে উঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লিলাভূমিতে বিনোদন কেন্দ্রে অরুণাচল ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট এর যাত্রা শুরু হয়েছে। উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের কঁচা নদীর মোহনায় ৫ একর জমিতে ১ ফালগুন শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠানিকভাবে এ বিনোদন কেন্দ্রটির নির্মান কাজের উদ্বোধন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। এ উপলক্ষে এদিন সেখানে আয়োজন করা হয়েছিল বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানের। 
বিনোদন কেন্দ্রে অরুনাচল ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট স্থানটিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য আরো সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইন্দুরকানী উপজেলা প্রশাসন। এখানে এক দিকে রয়েছে সুপ্রাচীন পাড়েরহাট বন্দর। আর একদিকে রয়েছে সূর্য প্রসন্ন বাজপায়ীর বিখ্যাত জমিদার বাড়ি। আবার তার বিপরীত দিকেই রয়েছে বাদুরা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এছাড়াও এখানে রয়েছে রাসায়নিকমুক্ত শুটকি পল্লী। প্রভাতে কঁচা নদীর বুকচিরে যেমন সূর্য উদয় হয়। ঠিক তেমনি বেলা শেষে এখান থেকেই সূর্যাস্তের দৃশ্যও অবলোকনের সুযোগ রয়েছে। নদী তীরে আঁচড়ে পড়া ঢেউ দেবে দর্শনার্থীদের ভিন্ন মাত্রার আনন্দ। এখান থেকে সামুদ্রিক মাছ ও শুটকি ক্রয়ের রয়েছে বিশেষ সুবিধা।
গত দুই মাস ধরে ওই স্থানটি পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য চলছে নানা ধরনের কাজ। যার সব কিছুই নিজে থেকে তত্বাবধায়ন করছেন ইন্দুরকানীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ। তিনি জানান, ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এই এলাকাটিকে আরো পর্যটনমূখী করতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখানকার প্রবেশ দ্বারে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য একটি টিকেট কাউন্টার। এর পরে থাকছে একটি কফি হাউজ। তৈরী করা হয়েছে ছোট ছোট দ্বীপ। যা দেখতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। নির্মানাধীন স্থাপনাগুলো সবই হচ্ছে সুপারী গাছ ও বিভিন্ন ধরনের কাঠের তৈরী।
পার্কের নির্মাতা ডিজাইনার ভূইয়া শাহীন সানী জানান, জলবায়ু দূষনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ব্যহত হচ্ছে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ও প্রাণী জীবনাচার। রাসায়নিকের ব্যবহার হ্রাস ও পরিবেশ বান্ধব স্থাপনা নির্মানই কেবল পরিত্রানের উপায়। তাই আমার কাজের মাধ্যমে প্রকৃতি যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকে আমি অধিক মনোযোগী।
পার্ক সংলগ্ন পাড়েরহাট আবাসন এলাকার ইউপি সদস্য মহসীন হাওলাদার জানান, পাড়েরহাটে পার্ক স্থাপনের কারণে আবাসনের ১৫০টি পরিবার নানামূখী কাজের সুযোগ পাবে, তেমনি পর্যটনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে সারা দেশের মানুষ এখানে ভ্রমন করতে পারবে।
১ ফালগুন শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট এম মতিউর রহমান, ওসি মো. হাবিবুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলরুবা মিলন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল প্রমুখ। দিবসটি উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.