ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর হামলা চালাতে সন্ত্রাসীরা ছক কষছে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির গোয়েন্দারা।

গোপন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়্যবার চার সদস্য মোদির ওপর হামলার লক্ষ্য নিয়ে ভারতে ঢুকেছে। গত নভেম্বরে এ খবর পাওয়ার পর থেকে সতর্ক পলক ফেলছেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রোববার (৬ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর ওপর নয়াদিল্লিতেই আক্রমণের লক্ষ্য নিয়ে এসেছে জঙ্গিরা। এ খবর গোপন সূত্রে পাওয়ার পর তদন্তের ভার বর্তেছে গোয়েন্দা অধিদফতর ও দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখার ওপর।

তদন্ত সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানায়, গত মাসে চার লস্কর জঙ্গি ভারতে ঢোকে। লস্করের কমান্ডার আবু দুজানার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে ‘মিশনে’ আসা এই চার জন। এ চক্রান্তে যুক্ত দু‘জনকে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও খবর এসেছে।

তদন্ত থেকে গোয়েন্দাদের হাতে উঠে আসা খবর অনুযায়ী, নয়াদিল্লিতে মোদির সভায় গ্রেনেড হামলা করাই লক্ষ্য সন্ত্রাসীদের। প্রয়োজনে জঙ্গিরা আত্মঘাতী হামলাও চালাতে পারে। মোদি ছাড়াও রাজধানীর অন্য কোনো হাই-প্রোফাইল রাজনীতিবিদও জঙ্গি ‘লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে রয়েছেন।

সূত্রটির তথ্য, সন্ত্রাসীরা নিজেদের মধ্যে যে সাংকেতিক ভাষায় কথা বলেছে, তা বুঝেই গোয়েন্দারা এ আশঙ্কা করছেন। জঙ্গিদের কথার মধ্যে একাধিকবার ভিআইপি শব্দটা পাওয়া গেছে। নির্দেশ পাওয়া মাত্র তাদের ‘বিশিষ্ট ব্যক্তি’ ও ‘জনাকীর্ণ স্থানে’ হামলা চালানোরও কথা বলা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ আলাপে। এ সময় প্রয়োজনে তাদের ‘ফিদাইন’ (আত্মঘাতী আক্রমণ) ও গ্রেনেড হামলা চালানোর নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। তাদের আলাপ অনুযায়ী, কোনো সেলিব্রেটিও জঙ্গি হামলার লক্ষ্য হতে পারেন।

এদিকে, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দিল্লি ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদ ভবন, ইন্ডিয়া গেট, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মেট্রো স্টেশন, কলেজ, শপিং মলসহ জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১ ডিসেম্বর এ বিষয়ে নয়াদিল্লি পুলিশের অ্যান্টি-টেরর এক্সপার্ট উইং একটি ‍এফআইআরও নথিভুক্ত করে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতকে জানায়।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন