দেবদাস মজুমদার > অভাবের সংসার । দরিদ্র বাবার মৃত্যুর পর বিধবা মাকেই হাল ধরতে হয় সংসারের । দুই বোন আর মায়ের সংসারে উপার্জণের কেউ নেই। বিধবা সাহিদা বেগমের দুই মেয়ে কামরুন্নাহার আর খাইরুন্নাহার লেখা পড়ায় বেশ মনোযোগি, মেধাও ভাল । মা সাহিদা বেগম একদিকে তিন সদস্যের পরিবারের তিন বেলা আহার আর সেই সাথে দুই মেয়ের লেখা পড়া নির্বিঘেœ চালিয়ে নিতে লড়াইয়ে নামেন। বাসাবাড়িতে শিশুদের কোরন শিক্ষা দিয়ে রোজগার করেন। কোরান শিক্ষা দিয়ে অর্জিত অর্থেই দুই মেয়ের লেখা পড়া চলে আসছে। সেই সাথে বিধবা সাহিদা বেগমের ছোট ভাই মিজানুর রহমান বোনের কষ্ট লাঘবে মাঝে মাঝে কিছু সাযাহ্য সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এমন কষ্টের সংসারে নিরন্তর জীবন সংগ্রামে টিকে থাকা বিধবা মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়ে দেয় দুই মেয়ে। ছোট মেয়ে খাইরুন্নাহার পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা সদরের সরকারি এস.বি সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবার এস.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে । খাইরুন্নাহার ২০১০ সালে কাউখালী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়ে কাউখালী উপজেলার মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। অভাবী বিধবা মায়ের সংসারে কোন প্রকার প্রাইভেট পড়ার সুযোগ পায়নি খাইরুন। নিয়মিত শ্রেণী কক্ষের পাঠদানে উপস্থিত আর বাড়িতে বসেই নিমগ্ন লেখা পড়ার কারনেই বিধবা মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছে সে। খাইরুনের বড় বোন কামরুন্নাহারও লেখা পড়ায় ভাল। সে বরিশাল বি.এম কলেজজে অনার্সে রেখা পড়া করছে।
জানাগেছে, পিরোজপুরের কাউখালী শহরের দক্ষিণ বাজারের বাসিন্দা সাহিদা বেগমের স্বামী মো. মোফাজ্জেল হোসেন ২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর পরিবারের উপর্জনক্ষম আর কেউ না থাকায় বিধবা সাহিদা বেগম দুই মেয়েকে নিয়ে বড় কষ্টে পড়েন। জীবিকা আর দুই মেধাবী মেয়ের লেখা পড়া চালিয়ে নিতে তাকে বাসা বাড়িতে শিশুদের কোরান শিক্ষা দিয়ে চলতে হচ্ছে। এমন টানাপোড়েন আর দুর্ভোগের জীবনে মা দুই মেয়ের লেখা পড়া চালিয়ে আসছেন।

মা সাহিদা বেগম বলেন, মেয়েটা কষ্ট করে লেখা পড়া করেছে ,স্কুলের স্যারেরা ওকে সহযোগিতা করেছে বলেই ও ভাল ফল করেছে। আমি খুব আনন্দ পেয়েছি। এ আনন্দ বোঝানোর ভাষা আমার নাই। আমার মেয়ে দুইটা যেন মানুষ হয়ে নিজেদের পাযে দাড়াতে পারে এজন্য দোয়া করবেন। এখন মেয়েটাকে একটা ভাল কলেজে পড়াতে চাই । কিন্তু আমার তো সে উপায় নাই। মেয়েটার ভাল ফলের আনন্দের পাশে এখন ভবিষ্যত লেখা পড়ার চিন্তা হচ্ছে।

খাইরুন্নাহার জানায়, মায়ের কষ্ট আর প্রিয় স্যারদের সহযোগিতায় যে ফল পেয়েছি তারে জন্য কৃতজ্ঞতা। মায়ের কষ্টের সংসারের অভাব দুর করতে চাই।
বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কাজ করতে চাই। কেননা সুবিধা বঞ্চিত মেধাবী মেয়েরা বাল্য বিয়ের শিকার হয়ে শিক্ষা জীবন থেকে ঝড়ে পড়ছে। সহপাঠি অনেককেই ঝড়ে পড়তে দেখেছি। এই ব্যাধি দুর করতে চাই। খাইরুন জানায়, সে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়তে চায় । একজন সু চিকিৎসক হয়ে আর্ত পীড়িত মানুষের সেবা করতে চায়।

এ ব্যাপারের স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আবদুল লতিফ খসরু বলেন, কামরুন্নাহারের এই ফলাফলের কথা শুনেই বাসায় গিয়ে সফল মা ও মেধাবী মেয়েকে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছি। অদম্য কামরুন্নাহার ওর মায়ের জয় হোক।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খাইরুন্নাহা অথ্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। বিধবা মায়ের অনেক কষ্টে লেখা পড়া করেছে। খাইরুন্নাহার নিয়মিত শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত ছিল। মনোযোগি পড়াশুনা করায় ভাল ভাল করেছে। ওর ভবিষ্যত উজ্জলতা কামনা করি।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন