নুরুল আমীন রাসেল <>

মঠবাড়িয়ার নুর” একটা নাম, একটি সংগ্রামী শক্তির পরিচয় হৃদয়ে গেঁথে গেছে ১৯৯১ সালে। দাদু (নুরের বাবা আমার প্রতিবেশী) মজিবর রহমানের নিজ বর্ননায় জীবন ইতিহাস শুনেছিল ঝাঁটিবুনিয়া গ্রামের একটা কিশোর। অসাধারণ সংগ্রামী চেতনাকে বুলেটের অাঘাতে হত্যা করে, লাশ কবর দিয়ে ক্ষান্ত হয়নি ষড়যন্ত্রকারীরা। ইতিহাস থেকে বার বার সকল তথ্য মুছে দিতে ওরা ছিল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ১৯৯৬ সালে অামি যখন গাজীপুর মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি উচ্চবিদ্যালয় পড়ি,তখন ঢাকার বিভিন্ন লাইব্রেরীতে স্বজনদের সাথে অাশা যাওয়া করতাম। নুর হোসেনকে খুঁজতে থাকি বিভিন্ন বইয়ের পাতায়। অবশেষে পেয়ে যাই ১৯৯৯ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে। পড়তে পড়তে মিলিয়ে নেই নুর হোসেনের বাবার বর্ননার পুরোটাই। ২০০৩ সালে জুরাইন কবরস্থানে যাবার সুযোগ হয় আমার।জীবনে প্রথম বড় গোরস্থান দেখে শরীরের লোম দাড়িয়ে গিয়েছিল।

দায়িত্বরত একজনকে সাথে নিয়ে কিছুক্ষণ হাটার পরে যখন নুরের কবরের কাছে পৌঁছলাম,তখন অামার চোখ জলে ছল ছল করছিল। ঝোপঝাড়ে অাবৃত দেয়ালের পাশে শুয়ে অাছেন বাংলার গনতন্ত্রের স্বজন নুর হোসেন। অনেকক্ষণ দাড়িয়ে ছিলাম সেখানে,জিয়ারত শেষে বেরিয়ে এলাম গোরস্থানের মূল ফটকে। অনেক তথ্য জানতে পারলাম স্থানিয় কয়েকজনের কাছথেকে, সেই সৈরশাসকের বিভৎস পৈশাচিক কর্মকান্ডের বাস্তব ইতিহাস। এখন সবাই বিনা পরিশ্রমে জানতে পারেন গণমাধ্যম,ফেইসবুক,ইউটিউব,অার্কাইভে। একটা বই লেখার খুব ইচ্ছে ছিলো, অনিবার্য কারনে লিখিনী।তবে অনেকগুলো বছরে অত্যাচার,নির্যাতন,অপমান উপেক্ষা করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি “শহীদ নুর হোসেন স্মৃতি পরিষদ”। এখানেই আমার সহযোদ্ধাদের কাজ থেমে থাকেনি, যেখানেই নুর হোসেনের স্মৃতি রক্ষার অান্দোলন, যখন যারা তাঁর জন্য কিছু করার প্রত্যয়ে জেগে উঠেছে, আমরা সংগঠনের পক্ষথেকে একাত্বতা জানিয়ে সর্বাত্বক সহযোগীতা করে অাসছি। আমাদের সংগঠনের দৃঢ় বিশ্বাস, একদিন মঠবাড়ীয়ায় নুর হোসেনের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঠাগার এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য একটা চত্তরে স্মৃতিফলক হবে। মঠবাড়ীয়া সহ সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলে শহীদ নুর হোসেনকে শ্রদ্ধা নিবেদনের এবং তাঁর স্মৃতি চির অম্লান করে রাখার জন্য অামাদের সংগঠনের পক্ষথেকে “নুর হোসেন চত্বর চাই” এই দাবিতে প্রিয় সাংবাদি দেবদাস মজুমদার দাদাসহ সকলের সাথে একাত্মতা পোষণ করছি।

লেখক <>

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, শহীদ নুর হোসেন স্মৃতি পরিষদ

ঝাঁটিবুনীয়া,

মঠবাড়িয়া,পিরোজপুর।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন