খালিদ আবু, পিরোজপুর >>
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিশাল বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভায় এমপি শ ম রেজাউল করিম গৃহায়ণ ও গণপূর্র্ত মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ায় সোমবার বিকালে পিরোজপুরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের নেতৃত্বে এক বিশাল আনন্দ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে টাউনক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-স্বরূপকাঠী) আসন থেকে প্রথমবার বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম। টেলিভিশন টকশোতে একজন সুবক্তা ও অতি পরিচিত মুখ। সমসাময়িক যে কোনো ঘটনায় টিভির পর্দায় নিয়মিত দেখা যেত তাকে। বিশেষ করে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এডভোকেট রেজাউল করিম আইনজীবীদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয় এবং দেশের সর্বজনের কাছে অতি পরিচিত মুখ।
পেশাগত জীবনে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যা মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইনজীবী ছিলেন। ১/১১ এর সময়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী ছিলেন। এ ছাড়াও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ সেলিমেরও মামলার আইনজীবী ছিলেন তিনি। বিগত ১/১১ এর সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কারাবন্দী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সর্ব প্রথম সাক্ষাৎ করে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনী লড়াই শুরু করেন শ. ম. রেজাউর করিম।
ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করীম ১৯৮০ সালে খুলনার দৌলতপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন, ১৯৮১ সালে খুলনা কৃষি কলেজের জিএস ছিলেন। ১৯৮৯ সালে নাজিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সাল থেকে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য পদে রয়েছেন। ২০১৮ সালে তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।
তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য এবং ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান।
পিরোজপুর ও ঢাকায় আইন পেশার পাশাপাশি শ ম রেজাউল করিম সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৯১ সালে পিরোজপুরে থাকাকলীন সময়ে তিনি দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে ঢাকায় গিয়ে তিনি আইন পেশা শুরু করেন। এ সময় তিনি প্রথম আলো পত্রিকার সুপ্রিমকোর্ট রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম পিরোজপুর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য। তিনি নাজিরপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
প্রথমবার নির্বাচিত নতুন এ সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় পিরোজপুর জুড়ে বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। তার হাত ধরে পিরোজপুরের কাঙ্খিত উন্নয়ন সাধিত হবে বলে আশা করছেন পিরোজপুরের সাধারণ মানুষ। কারণ ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর পিরোজপুর-১ আসনের কোন সংসদ সদস্য মন্ত্রীর দায়িত্ব না পাওয়ায় এ আসনের মানুষের প্রত্যাশা ছিলো একজন মন্ত্রী পাওয়ার। আর একজন ক্লীন ইমেজের যোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মন্ত্রী হওয়ায় পিরোজপুরের উন্নয়নসহ রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন মেরুকরণ হবে বলে অনেকে মনে করছেন।
এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম মন্ত্রী হওয়ায় আবেগ আপ্লুত হয়ে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সাংসদ অধ্যক্ষ মো. শাহ্ আলম বলেন, তিনি মন্ত্রী হওয়ায় স্বরূপকাঠীবাসী সবাই খুশি। তিনি বলেন, শ ম রেজাউল করিম মন্ত্রী হওয়ায় পিরোজপুর বিশেষকরে স্বরূপকাঠী,নাজিরপুর উপজেলায় অনেক উন্নয়ন হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন যোগ্য মানুষকে যোগ্য জায়গায় বসিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ শাহ আলম। শ ম রেজাউল করিমের মন্ত্রীত্বলাভে অনুন্নত গোটা দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়ন আরো অনেক এগিয়ে যাবে।
এ সময় মিছিলে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেক, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সরদার মতিউর রহমান, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি খান মো. আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন সহ জেলা- উপজেলা আওয়ামীলীগ,যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে উপস্থিত সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন