পিরোজপুর প্রতিনিধি >>
জাহিদুর রহমান বিপ্লব পরিচালিত ও মাসুম রেজার চিত্রনাট্য নিয়ে সরকারের আর্থিক অনুদানে নির্মানাধীন পিরোজপুরের মুক্তিযুদ্ধের উপরে নির্মিত সত্য ঘটনা”ওমর ফারুকের মা” চলচিত্র বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ও মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সেগুন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন ও চলচিত্রের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চলচিত্র পরিচালক জাহিদুর রহমান বিপ্লব, অভিনেত্রী দিলারা জামান, অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, অভিনেতা শায়েদ শরীফ ও অভিনেত্রী বন্যা মির্জা, শহীদ ওমর ফারুক এর বোন সালমা রহমান হেপী। এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় “ওমর ফারুকের মা” ছবিটি চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে পিরোজপুরে বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিরোজপুরে এবং পরবর্তী দুই দিন বরিশালের বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং চলবে। “ওমর ফারুকের মা” চলচিত্রটি উৎসর্গ করা হয়েছে সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ও ওমর ফারুকের মা” কুলসুম বেগমকে।
শহীদ ওমর ফারুক এর বোন সালমা রহমান হেপী মুক্তিযুদ্ধের উপরে নির্মিত “ওমর ফারুকের মা” ছবিটির জন্য গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আথিক অনুদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শহীদ ওমর ফারুক ছিলেন পিরোজপুরে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পিরোজপুরে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করার সময় হানাদার বাহিনীদের হাতে ধরা পড়েন। হানাদার বাহিনীরা লোহার রডে বাংলাদেশের পতাকা বেধে তার মাথায় খুচিয়ে খুচিয়ে তাকে হত্যা করে। “ওমর ফারুকের মা” চলচিত্রটি জাহিদুর রহমান বিপ্লব পরিচালিত ও মাসুম রেজার চিত্রনাট্যর জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান হেপি।
পরিচালক জাহিদুর রহমান বিপ্লব বলেন, “চলচ্চিত্রটির লোকেশন প্রথমবারের মতো পিরোজপুর ও বরিশাল যাওয়ার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। গল্পের সাথে সঙ্গতি রেখে মনের মতো লোকেশন ঠিক করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য জাহিদুর রহমান বিপ্লবের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওমর ফারুকের মা’ ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে সরকারি অনুদানের জন্য মনোনীত হয়েছিলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি ঘটনার ছায়া অবলম্বনে এ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কাহিনীকার মাসুম রেজা। চলচ্চিত্রের গল্প আবর্তিত হয়েছে পিরোজপুরের নেছারাবাদের মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক ও তার মাকে ঘিরে। ওমর ফারুক তখন ২১ বছরের তরুণ ও পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। যুদ্ধের সময় এক রাতে মাকে কথা দিয়ে গিয়েছিলেন, রাতে ফিরে মায়ের হাতে ভাত খাবেন। ওমর ফারুকের আর ফেরা হয়নি। সেই রাতে তিনি পাকিস্থানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। হাতুড়ি পেটা করে একটি পতাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তার মাথায়। শহীদ ওমর ফারুকের লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় কীর্তনখোলার জলে।
এরপর ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ওমর ফারুকের মায়ের অপেক্ষা। মা আজও ছেলের অপেক্ষায় তিনবেলা হাড়িতে ভাত বসান, রাতে সদর দরজা খোলা রাখেন ছেলের অপেক্ষায়; ছেলে আসবে সেই বিশ্বাসে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন